Gour :-
গুপ্ত সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগে বিক্রমাদিত্য মগধ থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন উত্তর ভারতের উজ্জয়িনীতে। সংঘর্ষের শুরু সেই থেকে সেকালের বৌদ্ধ সাম্রাজ্য পুন্ড্রবর্ধন বা বর্তমান Gour State. ইতিহাসের টালমাটাল অবস্থায় সামন্ত রাজা Sasanka-এর উত্থান। শশাঙ্ক রাজা হবার পর স্বাধীনতা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নামেরও বদল ঘটান রাজ্যের। ৬০২ খ্রিস্টাব্দ পুন্ড্রবর্ধন হল স্বাধীন Gour State এবং Karnasubarna হল তার রাজধানী। শশাঙ্করের মৃত্যুর পর গৌড়বাসী রাষ্ট্রপ্রধান নিয়োগ করলেন পুন্ড্রবর্ধনের উত্তরসূরি গোপালদেব কে। গোপাল বর্ধন রাজ্য পেয়ে রাজধানী তৈরি করেন কালিন্দী নদীর তীরে Gour-এ। গোপাল দেবের ছেলে ধর্মপাল এবং ধর্মপালের ছেলে দেবপালের সময়ে Gour এর রমরমা। গৌড়ের আকাশ ছেয়ে তৈরি হয় মন্দির আর মন্দির। এই দুজনেরই সময়ে দুজন বিশিষ্ট ভাস্কর ধীমান ও বীটপালের অনুপম ভাস্কর্য মোহময় করে তোলে Gour কে। কালো রঙের ব্যাসল্ট পাথরের বাড়িঘর। Gour State বিস্তার লাভ করে উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিনের সেতু বন্ধ আর পচ্শিমে আরব সাগর থেকে পূর্বের বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত।১১২০ তে রামপালের মৃত্যুর পর গৌড় যায় বৌদ্ধ থেকে হিন্দু রাজা সেন বংশের হাতে। ১২ শতকে Balla Sen এর সময়কালে শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে গৌড়ের সুনাম ছিল সারা বিশ্বজুড়ে। ১২০২ এ শেষ হিন্দু রাজা Laksman Sen এর সময়ে Gour যায় বখতিয়ার খিলজির দখলে। হিন্দু রাজত্বকাল শেষ হয়ে শুরু হয় মুসলিম নবাবি শাসন গৌড়ে। ১৪ শতকে আফগান নায়ক ফকরুদ্দিন Gour জয় করে বাড়িঘর-মন্দির ভেঙে রাজধানী তৈরি করেন Pandua- য়। ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে গৌড় ফেরে স্বমহিমায়। ১৫৩৭এ শের শাহ সূরীর অভিযানে ও ১৫৮৫এ প্লেগ মহামারীতে ধ্বংস হয় অতীত। আজকের গৌড়ের স্মৃতিসৌধগুলো তাদেরই কীর্তিকলাপের স্মৃতি বিজড়িত।
Visiting places in Gour :-
Piasbari:- মালদহ-মহদিপুর বাস রাস্তায় Gour Tourist দের প্রথম দ্রষ্টব্য Piasbari বা পিয়াজবাড়ি। বাড়িটি ধ্বংস হলেও নসরত শাহর নির্মমতার কাহিনী শোনায় ৩৩ একর বিস্তৃত পিয়াস বারি দিঘিটি। অভিনব ভাবে মৃত্যুদণ্ড দিতেন সম্রাট। গলা পর্যন্ত মিষ্টি খাইয়ে ঘরে বন্দি করে রাখতেন, বন্ধ ঘর থেকে দিঘির জল দেখে পিপাসা যেতো বেড়ে এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হতো। আকবর নামায় পাওয়া যায় পিয়াসবারি দিঘির জল ছিল বিষাক্ত।
Ramkeli:- পিয়াস বারির দক্ষিণে বাঁক খাওয়া গ্রামীণ পথের পশ্চিমে যেতে Ramkeli.
১৫০৬ এর জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তিতে শ্রীশ্রীচৈতন্যদেব আসেন Gour এ। তিনদিন ছিলেন মহাপ্রভু Ramkeli। তমাল তলের ছোট্ট মন্দিরে পাথরের বুকে পদচিহ্ন রয়েছে চৈতন্যদেবের। এই বেদিতে ২টি তমাল এবং ২টি কদম বৃক্ষ রয়েছে এখনো। যার নিচে গৌড়ে থাকার সময় বসতেন শ্রীচৈতন্য। হুসেন শাহর দুই মন্ত্রী: সাকর মল্লিক-রূপ গোস্বামী আর দবীর খাঁন-সনাতন গোস্বামী সান্নিধ্যে আসেন চৈতন্যদেবের। দীক্ষাও নেন তারা বৈষ্ণব ধর্মে তমাল গাছের নিচে শ্রীচৈতন্যদেবের কাছ থেকে। মন্দিরও তৈরি করেন রূপ ও সনাতন শ্রী মদনমোহন জীর। সেটি ধ্বংসের পর ১৩৪৫ বঙ্গাব্দে বর্তমান মন্দিরটি তৈরি হয়। শ্রী গোবিন্দ এবং শ্রী রাধিকা সহ নানান দেবতার অবস্থান মন্দিরে। মন্দিরের ডাইনে ও বামে রূপসাগর, শ্যামকুণ্ড, রাধাকুণ্ড, ললিতাকুণ্ড, বিশাখাকুণ্ড, সুরভিকুণ্ড, রঞ্জাকুণ্ড, ইন্দুলেখাকুণ্ড নামে আটটি কুণ্ডও রয়েছে। বৃন্দবনী রীতিতে এগুলো খনন করেন রূপ ও সনাতন। প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তিতে স্মরণ উৎসব পালিত হয় শ্রীচৈতন্যদেবের। ৭ দিনের Ramkeli Mela বসে। পরম পবিত্র বৈষ্ণবতীর্থ Ramkeli কে গুপ্ত বৃন্দাবনও বলে লোকে।
Baro Duari :- রামকেলি থেকে আধা কিমি দক্ষিণে গৌড়ের স্মৃতিসৌধগুলোর মধ্যে অন্যতম আর বৃহত্তম এই বারোদুয়ারী। ১৬৮×৭৬ ফুট ব্যাপ্ত এবং ৪০ ফুট উচু মসজিদটি নামে Baro Duari হলেও আসলে এগারোদুয়ারী। আলাউদ্দিন হুসেন শাহর সময়ে শুরু হয়ে ১৫২৬ শে তারই পুত্র নাসিরুদ্দিন নসরত শাহর আমলে শেষ হয় তৈরি Baro Duari Masjid. সুন্দর কারুকার্যমণ্ডিত চারকোনা Baro Duari Masjid টি ইট দিয়ে শুরু হয়ে সম্পূর্ণতা পেয়েছে পাথরে। ইন্দো ও আরবীয় শৈলীতে তৈরি মসজিদের নির্মাণ এবং অলঙ্করণ পর্যটকদের অভিভূত করে। পাথর খন্ড গুলো এতোটাই নিখুত ভাবে বসানো যে জোড় বোঝা যায় না। সম্ভবত বাদশাহ আসতেন এই বারোদুয়ারীতে নামাজ পড়তে। উত্তর দেওয়ালের মোঝিন মঞ্চটি বাদশাহর নামাজস্থল হতে পারে। মুয়াজ্জিন দক্ষিনের এক পীঠ থেকে ঘোষিত হত। মহিলাদের প্রকোষ্ঠটিও বিপর্যস্ত। ৪৪টির মধ্যে ১১টি গম্বুজ আজও অতীত স্মৃতি বহন করে চলেছে। গম্বুজের সোনালি চিকন কাজের জন্য Sona Masjid এবং আকারে বড়ো তাই Barosona Masjidও বলে অনেকে।
Dakhil Darwaza or Salami Darwaza, Gour:- পরিখাবৃত প্রাচীরে ঘেরা হাভেলি খাস প্রাসাদের প্রধান প্রবেশ পথে ছিল উত্তরমুখী Dakhil Darwaza। ফারসি শব্দ দাখিলের অর্থ "প্রবেশ"। এক সময়ে কামান দাগা হতো এরই কাছ থেকে। তাই Salami Darwaza নামেও পরিচিত এটি। ৭০ ফুট উচু ১১৩ ফুটের বেশি প্রশস্ত পোড়া মাটি ও লাল ইটে তৈরি দাখিল দরওয়াজার নির্মাণ এবং অলঙ্করণ শৈলি অনবদ্য করে তুলেছে Dakhil Darwaza কে। বিশ্বের সব থেকে সুন্দর ইটের কাজ বলে স্বীকৃতি পেয়েছে The Combridge History of India-র কাছ থেকে Salami Darwaza। ১৪২৫এ বারবাক শাহর সময়ে তৈরি অনন্য এই দাখিল দরওয়াজা। পার হতেই খরস্রোতা পরিখা, গভীর জলে কুমিরে ভর্তি। পারাপার ছিল ভাঁজ করা সাঁকো ফেলে, ভাঁজ খুলে তুলে নিলে পারাপার অসম্ভব Dakhil Darwaza এর সঙ্গে।
Firoz Minar:- দাখিল দরওয়াজা থেকে ১ কিমি দুরে কুতবের অনুকরণে তৈরি ৫ তলার ২৬ মিটার × ১৯ মিটার বেড়ের Firoz Minarটি Gour এর আর এক আকর্ষণীয় দ্রষ্টব্য। Firoz Minar এর প্রথম তিনটি তলা ১২ দিক বিশিষ্ট এবং উপরের দুটি তলা বৃত্তাকার। ৮৪ ধাপের শঙ্খ প্যাঁচ সিঁড়ি বেয়ে উঠে জয় করে নেওয়া যায় Minarটি। তুঘলকি শৈলীতে তৈরি টেরাকোটায় সমৃদ্ধ দেওয়াল। নীল ও সাদা মীনাকরা টালিতে অলঙ্কৃত ছিলো অতীতে Firoz Minar. যদিও আজ বিলুপ্ত মিনারের মিনা কাজ। বারবাক শাহ কে হত্যা করে গৌড় জয়ের স্মারকরূপে তৈরি করেন হাবসি সুলতান সইফ উদ্দিন ফিরোজ শাহ ১৪৮৫-৮৯ খ্রিস্টাব্দে Firoz Minar । পীর-আশা-মিনার বা Chirag Dani ও বলে অনেকে Firoz Minarকে। আলোর ইশারায় সংবাদ আদান প্রদান হতো অতীতে। এর চমৎকারিত্বে মুগ্ধ Firoz নিজের গলা থেকে মোতির মালা খুলে শিল্পী পিরু মিস্ত্রিকে উপহার দেন। দিশেহারা পিরুর নির্বুদ্ধিতায় দাম্ভিক রাজার বিধানে প্রাণও দিতে হয় তাঁকে Firoz Minar এর চুড়ো থেকে পড়ে।
Kadam Rasul Masjid, Gour:- ফিরোজ থেকে আধা কিমি গিয়ে Kadam Rasul Masjid। যে kadam Rasul টিতে কালো পাথরের বুকে যুগল পদচিহ্ন রয়েছে পয়গম্বরের। কথিত আছে, সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ মদিনা থেকে আনেন হজরত মহম্মদের পায়ের এই ছাপ। সারাদিন কদম রসুলে থাকার পর সন্ধ্যায় Mahadipur ফিরে যায় ছাপ। ১৫৩০-এ Kadam Rahul তৈরি করেন নাসিরউদ্দিন নসরত শাহ। চারদিকে কালো মর্মরে চারটি মিনার, মাথায় গম্বুজ। Kadam Rasul এর উল্টোদিকে বাংলার দোচালার ঢঙে ইটে তৈরি মসজিদে ঔরঙ্গজেবের সেনাপতি দিলওয়ারের ছেলে ফতে খাঁ শুয়ে রয়েছেন। পীর শাহ নিয়ামৎতুল্লাকে হত্যা করতে এসে রক্তবমি করে মৃত্যু হয় ফতে খাঁর।
নেক বিবির সমাধি:- বিভিন্ন অলৌকিক কাজকর্মে দক্ষতা ছিল নেক বিবির, আজও বক্তের ইচ্ছে পুরোনে তত্পর। কদম রসুল থেকে বের হয়ে বাঁয়ে নেক বিবির সমাধি।
Chika Masjid, Gour:-- ১৪৭৫-এ ফকিরের সম্মানে সুলতান ইউসুফ শাহর তৈরি বিরাটাকার এক গম্বুজওয়ালা Chika Masjid। Chika বা বাদুড়ের বসবাস ছিল সে সময়ে। সুন্দর চাকচিক্য ময় অলঙ্করণের জন্য Chamkhana নামেও পরিচিতি আছে Chika Masjid এর। Chika র অলংকরণে হিন্দু মন্দিরের স্থাপত্যের নিদর্শন পাওয়া যায়। প্রবেশ পথের বামে দেওয়ালের পাথর থেকে গণেশ মূর্তিটি চেঁচে তোলার প্রচেষ্টা স্পষ্ট বোঝা যায়। সম্ভবত রাজদরবার বসত সুষ্দর-সুশোভিত ৯৫ মিটার দৈর্ঘ্য-প্রস্থের Chika অর্থাত্ চামখানায়। রূপ এবং সনাতনের বন্দিজীবন কাটে এই Chamkhana য়। অবশেষে কারারক্ষীদের বশীভূত করে গঙ্গা পার হয়ে মহাপ্রভুর কাছে পৌঁছান রূপ ও সনাতন। সুরঙ্গপথও ছিল সে সময়ে Chika থেকে গুমটি ঘরের। এরই পাশে দাতন মসজিদ।
Gumti Darwaza:- চিকার উত্তর-পশ্চিমে ১৫১২য় হুসেন শাহর তৈরি Gumti Darwaza। রংবেরঙের কারুকার্যমণ্ডিত ইট ও টেরাকোটায় সুশোভিত গুমটি দরওয়াজা আজ রুদ্ধ। রংবেরঙের নকশাও লুপ্ত হতে বসেছে Gumti Darwaza এর।
Lukochuri Gate:- কদম রসুলের দক্ষিণ-পূর্বে ১৬৫৫য় শাহ সূজার হাতে মোগলি ধাঁচে তৈরি Lukochuri Gate বা লক্ষছিপি দরওয়াজা। দ্বীমতে ১৫২২এ হুসেন শাহর তৈরি এই Lukochuri Darwaza। কার্যত রয়্যাল গেট ছিল দুর্গের পূর্বদ্বার ৬৫×৪২.৪ ফুটের দ্বিতল এই Darwaza। অবকাশে লুকোচুরি খেলতেন বেগভদের সাথে সুলতান। দু'পাশে প্রহরীকক্ষ, নক্করখানা, দ্বিতীয় তলায় নহবত ছিল, বাজনা বাজতো সকাল সন্ধ্যা।
Baishgaji Prachir:- ১৫ শতকে যদু অর্থাত্ জালালউদ্দিনের মৃত্যুর পর পাঠান সেনাপতি নাসিরুদ্দিন গৌড় দখল করেন। তাঁর ছেলে বারবাক শাহ নতুন প্রাসাদ তৈরি করেন দিঘির ওপারে। প্রাসাদ রক্ষার্থে ২২ গজ উচু প্রাচীরও তৈরি করেন ১৪৬০-এ চিকার আধা কিমি পচ্শিমে। অভিনব এই Baishgaji Prachir এর নিচে ১৫ ফুট, ক্রমশঃ সরু হয়ে উপরের দিক ৮ফুট ১০ ইঞ্চি। ঘোড়ায় চড়ে কোতোয়াল পাহারা দিত Baishgaji Prachir থেকে। কার্যত ত্রি-স্তরে সুবিন্যস্ত ছিল বাইশগজী প্রাচীর থেকে Royal Palace
প্রধান প্রবেশ পথ দাখিল দরওয়াজা হয়ে চাঁদ দরওয়াজা পার হয়ে নিম দরওয়াজা দিয়ে রংবেরঙের টালিতে অলঙ্কৃত মনোহর দরবার মহলের। দ্বিতীয় অংশে সুলতানের ও বেগমদের বাস অর্থাত্ খাস মহল ও হারেম মহল ছিল। তবে অনাদরে আর অবহেলায় প্রাসাদপুরি আজ লুপ্ত।
Photo Sona Masjid:- ১৫ শতকের বিধ্বস্ত ৩০×১৭ ফুটের কোতোয়ালি দরওয়াজা রেখে ২ কিমি দক্ষিণে বল্লাল সেনের দিঘি পার হয়ে আরোও ২ কিমি দক্ষিণে যেতে ফিরোজপুরে ১৫৫৯-এ সুলেমান কররানির সময়ে তৈরি নিয়ামত উল্লার মসজিদ। কিছুটা দুরে টাকশাল, দিঘির ধারে সুন্দর নকশা খোদিত বাংলার চালাধর্মী গৌড়ের মণি পাথরের Choto Sona Masjid.
Tantipara Masjid:- বাঁক খাওয়া গৌড়ীয় পথ গিয়ে মিলেছে মহদিপুরের বাস সড়কে। লুকোচুরি গেট থেকে দেড় কিমি যেতে Tatipara Mosque. উমর কাজীর স্মৃতিতে ১৪৭০তে সুলতান মিরশাদ খানের তৈরি এই tatipara Masjid. বৃহদাকার চার কোনা ১০ গম্বুজ বিশিষ্ট তরঙ্গায়িত ছাঁদের সূক্ষ্ম কারুকার্যমণ্ডিত টেরাকোটায় সমৃদ্ধ এই Masjid গৌড়ের অন্যতম সুন্দর ছিলো সেসময়ে। ১৮৮৫র ভূমিকম্পে ধ্বংস করে একে। ১৩ ফূট চওড়া দেওয়াল ৪টি বোবা হয়ে আজও অতীত রোমন্থন করায়।
Lotan Masjid, Gour:- তাঁতিপাড়া থেকে মহদিপুরের দিকে ১ কিমি গিয়ে বাস রাস্তায় Lotan Masjid. চারকোনা কক্ষের Lotan Masjid টি ১৪৭৫-এ তৈরি করেন সুলতান শভসউদ্দিন ইউসূফ শাহ। দ্বিমতে, রাজদরবারে নটু নটীর তৈরি। অষ্টভূজ স্তম্ভের উপর ধনুকাকারে ছাঁদ ও গম্বুজ Lotan এর। সবুজ, নীল, হলুদ, পীত ও সাদা রঙে মিনা করা টালিতে দেওয়াল Latan Masque এর। সূর্যালোকে রঙের বর্ণালীতে দুর থেকে মনে হয় নৃত্যের তালে তালে এই নর্তকী চলছে অভিসারে। ভিতরেও রঙের বাহার। স্থাপত্য এবং ভাস্কর্যে সূক্ষ্মতার অভাব ঘটলেও চিক্কণ অলঙ্করণের উৎকর্ষতা অনন্য করে তুলেছে Lotan Masque.
Gunamanta Masjid:-লোটনের বিপরীতে ৲কিমি মোরাম পথে হেঁটে গিয়ে Gunamanta Masjid দেখে নেওয়া যায়। এক সময়ে ভাগীরথী বয়ে যেতো লোটনের নিচ দিয়ে। কালোপাথরের বিশালাকার Gunamanta Masjid টির খিলান ও গম্বুজ হয়েছে ইটে। ফতে শাহর তৈরি ১৪৮৪ খ্রিস্টাব্দে। Gunamanta তে আদিনার আদল মিললেও লুটেরাদের পণ্য হয়ে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে Masjid টি।
Chamkati Masjid:- লোটন থেকে শহরমুখী ফিরতে তাঁতিপাড়া/লুকোচুরি রেখে ২ কিমি উত্তরে ধনুকাকৃতি ছাঁদের Chamkati Masjid. দানশীল(নিজের শরীর থেকে মাংস কেটে পাখিকে খাওয়াতেন) এক ফকিরের স্মারকরূপে ১৪৭৫এ ইউসুফ শাহ তৈরি করেন ফুলের মোটিফ শোভিত Chamkati. সুলতান ইউসুফের আর এক কীর্তি ফজলি আম সৃষ্টি সুলতানের প্রিয় নর্তকী ছিলেন ফজলবিবি। ইউসুফ তাঁকে খুঁজে পেতে ঘর তৈরি করে দেন আম বাগানে। বিলাস-ব্যাসনে মগ্ন হয়ে পড়েন বিবিসাহেবা। অল্প সময়েই ফুলে ফেঁপে শরীর হয় তার বিশালাকার। ফজলবিবির ঘর লাগোয়া কাননের কোনও এক গাছে আমও ফলত প্রচুর পরিমাণে এবং বড়ো আকারের। ফজলবিবির শরীর কে ব্যাঙ্গ করে লোকে বলতো ফজল বা ফজলি আম। ফজলবিবি যদিও এখন নেই তবুও ফজলি আম হচ্ছে Malda র বাগানে বাগানে প্রচুর পরিমাণে। গোপালভোগ আমের ফলনও যথেষ্ট ভালো মালদহে।
Kalapahar Garh:- ১৫৩৯-এ স্বাধীন সুলতানিরাজের সমাপ্তিতে বাংলা যায় শেরশাহ সুরীর দখলে। ১৫৪৫এ শেরশাহর মৃত্যু হলে দাউদ কররানি হলেন বাংলার সুবেদার। আর দাউদের সেনাপতি এক সময়ে গোঁড়া ব্রাহ্মণ সন্তান কালাচাঁদ রায় ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়ে Kalapahar নামে সারা পূর্ব-ভারতের সাথে গৌড় ও পাণ্ডুয়া এসে ধ্বংস করে হিন্দুদের মন্দির গুলো। শহরের দীকে যেতে NH-34 সংযোগের পশ্চিমে মালতীপুরে Kalapahar Garhটিও দেখে নিতে পারেন আগ্রহীরা।
Baro Sagor Dighi, Malda:- যদুপুরের বামে শাদুল্লাপুরমুখি ৩ কিমি গিয়ে বল্লাল সেনের আর এক কীর্তি Baro Sagor Dighi (১১২৬ খ্রিস্টাব্দ) দেখে নেওয়া যায়। সম্প্রতি সংস্কার করে পচ্শিবঙ্গ সরকারে মৎস দপ্তর মৎস গবেষণা করছে Baro Sagor Dighi তে। দেখতে পাওয়া যায় বল্লাল ভিটা অর্থাত্ বল্লাল সেনের দুর্গ ও মাটির প্রাকারের ধ্বংসাবশেষ। উত্তর-পূর্বে রাজপ্রাসাদে জল যেত এই দিঘি দিয়ে। ধনপতি চাঁদ সওদাগরের বাসও ছিল দিঘির পাড়ে। এ পথে আরো কিছুটা গিয়ে দানশা ফকিরের মাজার।
How to go Gour :-
মালদহের রথবাড়ি মোড় থেকে NH-34 ধরে ফারাক্কার দিকে দক্ষিণে ৩ কিমি গিয়ে বাম দিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মহদিপুরের রাস্তায় ৭ কিমি গিয়ে পিয়াস বারি। পিয়াস বারি থেকে ডান দিকের রাস্তায় ৩ কিমি বিস্তৃত গৌড়ের অতীতের রারধানীর ধ্বংসাবশেষ। গৌড়ের নিজিস্ব কোনো বাস নেই। মালদহ বাসস্ট্যান্ড থেকে মহদিপুর গিয়ে হেঁটে হেঁটে পাঁচ কিমি ঘুরে শেষ করা যায় বৌদ্ধ-হিন্দু-নবাবি রাজধানী গৌড় ভ্রমণ। অবশ্যই চাইলে টাঙা অথবা ট্যাক্সি ভাড়া করেও ঘুরে নিতে চাইলেও এসব ভাড়া পাওয়া যায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়।
How to go Malda :-
সোম থেকে শনি হাওড়া ছেড়ে ব্যান্ডেল/কালনা/নবদ্বীপধাম/কাটোয়া/খাগড়াঘাট-জঙ্গিপুর-নিউ ফারাক্কা হয়ে মালদহ যাচ্ছে হাওড়া-মালদহ ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস। শিয়ালদহ ছেড়ে দ্বিতীয় দিন মালদহ যাচ্ছে গৌড় এক্সপ্রেস। হাওড়া ছেড়ে পরদিন মালদহ যাচ্ছে হাওড়া-বালুরঘাট প্যাসেঞ্জার। শিয়ালদহ থেকে আরোও যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল, হাটেবাজারে এক্সপ্রেস, তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেস, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, কলকাতা-হলদিবাড়ি এক্সপ্রেস। রেল থেকে ২ কিমি দুরে শহরের মাঝখানে বাসস্ট্যান্ড।
Hotels in Gour :-
There are some Information about hotels of Gour, Malda. You may contact these hotels of Gour, Malda phone number.
থাকতে হবে মালদহের কোনো হোটেল বা লজে।
Hotel Purbachal, Phone:- 03512-267187/266183. Hotel Meghdoot, Phone:- 03512-266216. Malda Tourist Lodge, Phone:- 03512-220911. Tourism Centre, Phone:- 033-22488271/22436440. Malda Tourist Lodge, Phone:- 03512-23553931. Hotel Continental, Phone:- 03512-252388. Hotel Natraj, Phone:- 03512-220281.