Translate into your language

সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

Gour, Malda / Gour Tourist Places/ গৌর ভ্রমণ গাইড

Gour :- 
গুপ্ত সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগে বিক্রমাদিত্য মগধ থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন উত্তর ভারতের উজ্জয়িনীতে। সংঘর্ষের শুরু সেই থেকে সেকালের বৌদ্ধ সাম্রাজ্য পুন্ড্রবর্ধন বা বর্তমান Gour State. ইতিহাসের টালমাটাল অবস্থায় সামন্ত রাজা Sasanka-এর উত্থান। শশাঙ্ক রাজা হবার পর স্বাধীনতা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নামেরও বদল ঘটান রাজ্যের। ৬০২ খ্রিস্টাব্দ পুন্ড্রবর্ধন হল স্বাধীন Gour State এবং Karnasubarna হল তার রাজধানী। শশাঙ্করের মৃত্যুর পর গৌড়বাসী রাষ্ট্রপ্রধান নিয়োগ করলেন পুন্ড্রবর্ধনের উত্তরসূরি গোপালদেব কে। গোপাল বর্ধন রাজ্য পেয়ে রাজধানী তৈরি করেন কালিন্দী নদীর তীরে Gour-এ। গোপাল দেবের ছেলে ধর্মপাল এবং ধর্মপালের ছেলে দেবপালের সময়ে Gour এর রমরমা। গৌড়ের আকাশ ছেয়ে তৈরি হয় মন্দির আর মন্দির। এই দুজনেরই সময়ে দুজন বিশিষ্ট ভাস্কর ধীমান ও বীটপালের অনুপম ভাস্কর্য মোহময় করে তোলে Gour কে। কালো রঙের ব্যাসল্ট পাথরের বাড়িঘর। Gour State বিস্তার লাভ করে উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিনের সেতু বন্ধ আর পচ্শিমে আরব সাগর থেকে পূর্বের বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত।
১১২০ তে রামপালের মৃত্যুর পর গৌড় যায় বৌদ্ধ থেকে হিন্দু রাজা সেন বংশের হাতে। ১২ শতকে Balla Sen এর  সময়কালে শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে গৌড়ের সুনাম ছিল সারা বিশ্বজুড়ে। ১২০২ এ শেষ হিন্দু রাজা Laksman Sen এর সময়ে Gour যায় বখতিয়ার খিলজির দখলে। হিন্দু রাজত্বকাল শেষ হয়ে শুরু হয় মুসলিম নবাবি শাসন গৌড়ে। ১৪ শতকে আফগান নায়ক ফকরুদ্দিন Gour জয় করে বাড়িঘর-মন্দির ভেঙে রাজধানী তৈরি করেন Pandua- য়। ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে গৌড় ফেরে স্বমহিমায়। ১৫৩৭এ শের শাহ সূরীর অভিযানে ও ১৫৮৫এ প্লেগ মহামারীতে ধ্বংস হয় অতীত। আজকের গৌড়ের স্মৃতিসৌধগুলো তাদেরই কীর্তিকলাপের স্মৃতি বিজড়িত।

Visiting places in Gour :-

Piasbari:- মালদহ-মহদিপুর বাস রাস্তায় Gour Tourist দের  প্রথম দ্রষ্টব্য Piasbari বা পিয়াজবাড়ি। বাড়িটি ধ্বংস হলেও নসরত শাহর নির্মমতার কাহিনী শোনায় ৩৩ একর বিস্তৃত পিয়াস বারি দিঘিটি। অভিনব ভাবে মৃত্যুদণ্ড দিতেন সম্রাট। গলা পর্যন্ত মিষ্টি খাইয়ে ঘরে বন্দি করে রাখতেন, বন্ধ ঘর থেকে দিঘির জল দেখে পিপাসা যেতো বেড়ে এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হতো। আকবর নামায় পাওয়া যায় পিয়াসবারি দিঘির জল ছিল বিষাক্ত।

Ramkeli:- পিয়াস বারির দক্ষিণে বাঁক খাওয়া গ্রামীণ পথের পশ্চিমে যেতে Ramkeli. 
১৫০৬ এর জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তিতে শ্রীশ্রীচৈতন্যদেব আসেন Gour এ। তিনদিন ছিলেন মহাপ্রভু Ramkeli। তমাল তলের ছোট্ট মন্দিরে পাথরের বুকে পদচিহ্ন রয়েছে চৈতন্যদেবের। এই বেদিতে ২টি তমাল এবং ২টি কদম বৃক্ষ রয়েছে এখনো। যার নিচে গৌড়ে থাকার সময় বসতেন শ্রীচৈতন্য। হুসেন শাহর দুই মন্ত্রী: সাকর মল্লিক-রূপ গোস্বামী আর দবীর খাঁন-সনাতন গোস্বামী সান্নিধ্যে আসেন চৈতন্যদেবের। দীক্ষাও নেন তারা বৈষ্ণব ধর্মে তমাল গাছের নিচে শ্রীচৈতন্যদেবের কাছ থেকে। মন্দিরও তৈরি করেন রূপ ও সনাতন শ্রী মদনমোহন জীর। সেটি ধ্বংসের পর ১৩৪৫ বঙ্গাব্দে বর্তমান মন্দিরটি তৈরি হয়। শ্রী গোবিন্দ এবং শ্রী রাধিকা সহ নানান দেবতার অবস্থান মন্দিরে। মন্দিরের ডাইনে ও বামে রূপসাগর, শ্যামকুণ্ড, রাধাকুণ্ড, ললিতাকুণ্ড, বিশাখাকুণ্ড, সুরভিকুণ্ড, রঞ্জাকুণ্ড, ইন্দুলেখাকুণ্ড নামে আটটি কুণ্ডও রয়েছে। বৃন্দবনী রীতিতে এগুলো খনন করেন রূপ ও সনাতন। প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তিতে স্মরণ উৎসব পালিত হয় শ্রীচৈতন্যদেবের। ৭ দিনের Ramkeli Mela বসে। পরম পবিত্র বৈষ্ণবতীর্থ Ramkeli কে গুপ্ত বৃন্দাবনও বলে লোকে।

Baro Duari :- রামকেলি থেকে আধা কিমি দক্ষিণে গৌড়ের স্মৃতিসৌধগুলোর মধ্যে অন্যতম আর বৃহত্তম এই বারোদুয়ারী। ১৬৮×৭৬ ফুট ব্যাপ্ত এবং ৪০ ফুট উচু মসজিদটি নামে Baro Duari হলেও আসলে এগারোদুয়ারী। আলাউদ্দিন হুসেন শাহর সময়ে শুরু হয়ে ১৫২৬ শে তারই পুত্র  নাসিরুদ্দিন নসরত শাহর আমলে শেষ হয় তৈরি Baro Duari Masjid. সুন্দর কারুকার্যমণ্ডিত চারকোনা Baro Duari Masjid টি ইট দিয়ে শুরু   হয়ে সম্পূর্ণতা পেয়েছে পাথরে। ইন্দো ও আরবীয় শৈলীতে তৈরি মসজিদের নির্মাণ এবং অলঙ্করণ পর্যটকদের অভিভূত করে। পাথর খন্ড গুলো এতোটাই নিখুত ভাবে বসানো যে জোড় বোঝা যায় না। সম্ভবত বাদশাহ আসতেন এই বারোদুয়ারীতে নামাজ পড়তে। উত্তর দেওয়ালের মোঝিন মঞ্চটি বাদশাহর নামাজস্থল হতে পারে। মুয়াজ্জিন দক্ষিনের এক পীঠ থেকে ঘোষিত হত। মহিলাদের প্রকোষ্ঠটিও বিপর্যস্ত। ৪৪টির মধ্যে ১১টি গম্বুজ আজও অতীত স্মৃতি বহন করে চলেছে। গম্বুজের সোনালি চিকন কাজের জন্য Sona Masjid এবং আকারে বড়ো তাই Barosona Masjidও বলে অনেকে।

Dakhil Darwaza or Salami Darwaza, Gour:- পরিখাবৃত প্রাচীরে ঘেরা হাভেলি খাস প্রাসাদের প্রধান প্রবেশ পথে ছিল উত্তরমুখী Dakhil Darwaza। ফারসি শব্দ দাখিলের অর্থ "প্রবেশ"। এক সময়ে কামান দাগা হতো এরই কাছ থেকে। তাই Salami Darwaza নামেও পরিচিত এটি। ৭০ ফুট উচু ১১৩ ফুটের বেশি প্রশস্ত পোড়া মাটি ও লাল ইটে তৈরি দাখিল দরওয়াজার নির্মাণ এবং অলঙ্করণ শৈলি অনবদ্য করে তুলেছে Dakhil Darwaza কে। বিশ্বের সব থেকে সুন্দর ইটের কাজ বলে স্বীকৃতি পেয়েছে The Combridge History of India-র কাছ থেকে Salami Darwaza। ১৪২৫এ বারবাক শাহর সময়ে তৈরি অনন্য এই দাখিল দরওয়াজা। পার হতেই খরস্রোতা পরিখা, গভীর জলে কুমিরে ভর্তি। পারাপার ছিল ভাঁজ করা সাঁকো ফেলে, ভাঁজ খুলে তুলে নিলে পারাপার অসম্ভব Dakhil Darwaza এর সঙ্গে।

Firoz Minar:- দাখিল দরওয়াজা থেকে ১ কিমি দুরে কুতবের অনুকরণে তৈরি ৫ তলার ২৬ মিটার × ১৯ মিটার বেড়ের Firoz Minarটি Gour এর আর এক আকর্ষণীয় দ্রষ্টব্য। Firoz Minar এর প্রথম তিনটি তলা ১২ দিক বিশিষ্ট এবং উপরের দুটি তলা বৃত্তাকার। ৮৪ ধাপের শঙ্খ প্যাঁচ সিঁড়ি বেয়ে উঠে জয় করে নেওয়া যায় Minarটি। তুঘলকি শৈলীতে তৈরি টেরাকোটায় সমৃদ্ধ দেওয়াল। নীল ও সাদা মীনাকরা টালিতে অলঙ্কৃত ছিলো অতীতে Firoz Minar. যদিও আজ বিলুপ্ত মিনারের মিনা কাজ। বারবাক শাহ কে হত্যা করে গৌড় জয়ের স্মারকরূপে তৈরি করেন হাবসি সুলতান সইফ উদ্দিন ফিরোজ শাহ ১৪৮৫-৮৯ খ্রিস্টাব্দে Firoz Minar । পীর-আশা-মিনার বা Chirag Dani ও বলে অনেকে Firoz Minarকে। আলোর ইশারায় সংবাদ আদান প্রদান হতো অতীতে। এর চমৎকারিত্বে মুগ্ধ Firoz নিজের গলা থেকে মোতির মালা খুলে শিল্পী পিরু মিস্ত্রিকে উপহার দেন। দিশেহারা পিরুর নির্বুদ্ধিতায় দাম্ভিক রাজার বিধানে প্রাণও দিতে হয় তাঁকে Firoz Minar এর  চুড়ো থেকে পড়ে।

Kadam Rasul Masjid, Gour:- ফিরোজ থেকে আধা কিমি গিয়ে Kadam Rasul Masjid। যে  kadam Rasul টিতে কালো পাথরের বুকে যুগল পদচিহ্ন রয়েছে পয়গম্বরের। কথিত আছে, সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ মদিনা থেকে আনেন হজরত মহম্মদের পায়ের এই ছাপ। সারাদিন কদম রসুলে থাকার পর সন্ধ্যায় Mahadipur ফিরে যায় ছাপ। ১৫৩০-এ Kadam Rahul তৈরি করেন নাসিরউদ্দিন নসরত শাহ। চারদিকে কালো মর্মরে চারটি মিনার, মাথায় গম্বুজ। Kadam Rasul এর উল্টোদিকে বাংলার দোচালার ঢঙে ইটে তৈরি মসজিদে ঔরঙ্গজেবের সেনাপতি দিলওয়ারের ছেলে ফতে খাঁ শুয়ে রয়েছেন। পীর শাহ নিয়ামৎতুল্লাকে হত্যা করতে এসে রক্তবমি করে মৃত্যু হয় ফতে খাঁর।

নেক বিবির সমাধি:- বিভিন্ন অলৌকিক কাজকর্মে দক্ষতা ছিল নেক বিবির, আজও বক্তের ইচ্ছে পুরোনে তত্পর। কদম রসুল থেকে বের হয়ে বাঁয়ে নেক বিবির সমাধি।

Chika Masjid, Gour:-- ১৪৭৫-এ ফকিরের সম্মানে সুলতান ইউসুফ শাহর তৈরি বিরাটাকার এক গম্বুজওয়ালা Chika Masjid। Chika বা বাদুড়ের বসবাস ছিল সে সময়ে। সুন্দর চাকচিক্য ময় অলঙ্করণের জন্য Chamkhana নামেও পরিচিতি আছে Chika Masjid এর। Chika র অলংকরণে হিন্দু মন্দিরের স্থাপত্যের নিদর্শন পাওয়া যায়। প্রবেশ পথের বামে দেওয়ালের পাথর থেকে গণেশ মূর্তিটি চেঁচে তোলার প্রচেষ্টা স্পষ্ট বোঝা যায়। সম্ভবত রাজদরবার বসত সুষ্দর-সুশোভিত ৯৫ মিটার দৈর্ঘ্য-প্রস্থের Chika অর্থাত্ চামখানায়। রূপ এবং সনাতনের বন্দিজীবন কাটে এই Chamkhana য়। অবশেষে কারারক্ষীদের বশীভূত করে গঙ্গা পার হয়ে মহাপ্রভুর কাছে পৌঁছান রূপ ও সনাতন। সুরঙ্গপথও ছিল সে সময়ে Chika থেকে গুমটি ঘরের। এরই পাশে দাতন মসজিদ।

Gumti Darwaza:- চিকার উত্তর-পশ্চিমে ১৫১২য় হুসেন শাহর তৈরি Gumti Darwaza। রংবেরঙের কারুকার্যমণ্ডিত ইট ও টেরাকোটায় সুশোভিত গুমটি দরওয়াজা আজ রুদ্ধ। রংবেরঙের নকশাও লুপ্ত হতে বসেছে Gumti Darwaza এর। 

Lukochuri Gate:- কদম রসুলের দক্ষিণ-পূর্বে ১৬৫৫য় শাহ সূজার হাতে মোগলি ধাঁচে তৈরি Lukochuri Gate বা লক্ষছিপি দরওয়াজা। দ্বীমতে ১৫২২এ হুসেন শাহর তৈরি এই Lukochuri Darwaza। কার্যত রয়্যাল গেট ছিল দুর্গের পূর্বদ্বার ৬৫×৪২.৪ ফুটের দ্বিতল এই Darwaza। অবকাশে লুকোচুরি খেলতেন বেগভদের সাথে সুলতান। দু'পাশে প্রহরীকক্ষ, নক্করখানা, দ্বিতীয় তলায় নহবত ছিল, বাজনা বাজতো সকাল সন্ধ্যা। 

Baishgaji Prachir:- ১৫ শতকে যদু অর্থাত্ জালালউদ্দিনের মৃত্যুর পর পাঠান সেনাপতি নাসিরুদ্দিন গৌড় দখল করেন। তাঁর ছেলে বারবাক শাহ নতুন প্রাসাদ তৈরি করেন দিঘির ওপারে। প্রাসাদ রক্ষার্থে ২২ গজ উচু প্রাচীরও তৈরি করেন ১৪৬০-এ চিকার আধা কিমি পচ্শিমে। অভিনব এই Baishgaji Prachir এর নিচে ১৫ ফুট, ক্রমশঃ সরু হয়ে উপরের দিক ৮ফুট ১০ ইঞ্চি। ঘোড়ায় চড়ে কোতোয়াল পাহারা দিত Baishgaji Prachir থেকে। কার্যত ত্রি-স্তরে সুবিন্যস্ত ছিল বাইশগজী প্রাচীর থেকে Royal Palace 
প্রধান প্রবেশ পথ দাখিল দরওয়াজা হয়ে চাঁদ দরওয়াজা পার হয়ে নিম দরওয়াজা দিয়ে রংবেরঙের টালিতে অলঙ্কৃত মনোহর দরবার মহলের। দ্বিতীয় অংশে সুলতানের ও বেগমদের বাস অর্থাত্ খাস মহল ও হারেম মহল ছিল। তবে অনাদরে আর অবহেলায় প্রাসাদপুরি আজ লুপ্ত।

Photo Sona Masjid:- ১৫ শতকের বিধ্বস্ত ৩০×১৭ ফুটের কোতোয়ালি দরওয়াজা রেখে ২ কিমি দক্ষিণে বল্লাল সেনের দিঘি পার হয়ে আরোও ২ কিমি দক্ষিণে যেতে ফিরোজপুরে ১৫৫৯-এ সুলেমান কররানির সময়ে তৈরি নিয়ামত উল্লার মসজিদ। কিছুটা দুরে টাকশাল, দিঘির ধারে সুন্দর নকশা খোদিত বাংলার চালাধর্মী গৌড়ের মণি পাথরের Choto Sona Masjid.

Tantipara Masjid:- বাঁক খাওয়া গৌড়ীয় পথ গিয়ে মিলেছে মহদিপুরের বাস সড়কে। লুকোচুরি গেট থেকে দেড় কিমি যেতে Tatipara Mosque. উমর কাজীর স্মৃতিতে ১৪৭০তে সুলতান মিরশাদ খানের তৈরি এই tatipara Masjid. বৃহদাকার চার কোনা ১০ গম্বুজ বিশিষ্ট তরঙ্গায়িত ছাঁদের সূক্ষ্ম কারুকার্যমণ্ডিত টেরাকোটায় সমৃদ্ধ এই Masjid গৌড়ের অন্যতম সুন্দর ছিলো সেসময়ে। ১৮৮৫র ভূমিকম্পে ধ্বংস করে একে। ১৩ ফূট চওড়া দেওয়াল ৪টি বোবা হয়ে আজও অতীত রোমন্থন করায়।

Lotan Masjid, Gour:- তাঁতিপাড়া থেকে মহদিপুরের দিকে ১ কিমি গিয়ে বাস রাস্তায় Lotan Masjid. চারকোনা কক্ষের Lotan Masjid টি ১৪৭৫-এ তৈরি করেন সুলতান শভসউদ্দিন ইউসূফ শাহ। দ্বিমতে, রাজদরবারে নটু নটীর তৈরি। অষ্টভূজ স্তম্ভের উপর ধনুকাকারে ছাঁদ ও গম্বুজ Lotan এর। সবুজ, নীল, হলুদ, পীত ও সাদা রঙে মিনা করা টালিতে দেওয়াল Latan Masque এর। সূর্যালোকে রঙের বর্ণালীতে দুর থেকে মনে হয় নৃত্যের তালে তালে এই নর্তকী চলছে অভিসারে। ভিতরেও রঙের বাহার। স্থাপত্য এবং ভাস্কর্যে সূক্ষ্মতার অভাব ঘটলেও চিক্কণ অলঙ্করণের উৎকর্ষতা অনন্য করে তুলেছে Lotan Masque.

Gunamanta Masjid:-লোটনের বিপরীতে ৲কিমি মোরাম পথে হেঁটে গিয়ে Gunamanta Masjid দেখে নেওয়া যায়। এক সময়ে ভাগীরথী বয়ে যেতো লোটনের নিচ দিয়ে। কালোপাথরের বিশালাকার Gunamanta Masjid টির খিলান ও গম্বুজ হয়েছে ইটে। ফতে শাহর তৈরি ১৪৮৪ খ্রিস্টাব্দে। Gunamanta তে আদিনার আদল মিললেও লুটেরাদের পণ্য হয়ে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে Masjid টি।

Chamkati Masjid:- লোটন থেকে শহরমুখী ফিরতে তাঁতিপাড়া/লুকোচুরি রেখে ২ কিমি উত্তরে ধনুকাকৃতি ছাঁদের Chamkati Masjid. দানশীল(নিজের শরীর থেকে মাংস কেটে পাখিকে খাওয়াতেন) এক ফকিরের স্মারকরূপে ১৪৭৫এ ইউসুফ শাহ তৈরি করেন ফুলের মোটিফ শোভিত Chamkati. সুলতান ইউসুফের আর এক কীর্তি ফজলি আম সৃষ্টি  সুলতানের প্রিয় নর্তকী ছিলেন ফজলবিবি। ইউসুফ তাঁকে খুঁজে পেতে ঘর তৈরি করে দেন আম বাগানে। বিলাস-ব্যাসনে মগ্ন হয়ে পড়েন বিবিসাহেবা। অল্প সময়েই ফুলে ফেঁপে শরীর হয় তার বিশালাকার। ফজলবিবির ঘর লাগোয়া কাননের কোনও এক গাছে আমও ফলত প্রচুর পরিমাণে এবং বড়ো আকারের। ফজলবিবির শরীর কে ব্যাঙ্গ করে লোকে বলতো ফজল বা ফজলি আম। ফজলবিবি যদিও এখন নেই তবুও ফজলি আম হচ্ছে Malda র বাগানে বাগানে প্রচুর পরিমাণে। গোপালভোগ আমের ফলনও যথেষ্ট ভালো মালদহে।

Kalapahar Garh:- ১৫৩৯-এ স্বাধীন সুলতানিরাজের সমাপ্তিতে বাংলা যায় শেরশাহ সুরীর দখলে। ১৫৪৫এ শেরশাহর মৃত্যু হলে দাউদ কররানি হলেন বাংলার সুবেদার। আর দাউদের সেনাপতি এক সময়ে গোঁড়া ব্রাহ্মণ সন্তান কালাচাঁদ রায় ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়ে Kalapahar নামে সারা পূর্ব-ভারতের সাথে গৌড় ও পাণ্ডুয়া এসে ধ্বংস করে হিন্দুদের মন্দির গুলো। শহরের দীকে যেতে NH-34 সংযোগের পশ্চিমে মালতীপুরে Kalapahar Garhটিও দেখে নিতে পারেন আগ্রহীরা।

Baro Sagor Dighi, Malda:- যদুপুরের বামে শাদুল্লাপুরমুখি ৩ কিমি গিয়ে বল্লাল সেনের আর এক কীর্তি  Baro Sagor Dighi (১১২৬ খ্রিস্টাব্দ) দেখে নেওয়া যায়। সম্প্রতি সংস্কার করে পচ্শিবঙ্গ সরকারে মৎস দপ্তর মৎস গবেষণা করছে Baro Sagor Dighi তে। দেখতে পাওয়া যায় বল্লাল ভিটা অর্থাত্ বল্লাল সেনের দুর্গ ও মাটির প্রাকারের ধ্বংসাবশেষ। উত্তর-পূর্বে রাজপ্রাসাদে জল যেত এই দিঘি দিয়ে। ধনপতি চাঁদ সওদাগরের বাসও ছিল দিঘির পাড়ে। এ পথে আরো কিছুটা গিয়ে দানশা ফকিরের মাজার।

How to go Gour :-
মালদহের রথবাড়ি মোড় থেকে NH-34 ধরে ফারাক্কার দিকে দক্ষিণে ৩ কিমি গিয়ে বাম দিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মহদিপুরের রাস্তায় ৭ কিমি গিয়ে পিয়াস বারি। পিয়াস বারি থেকে ডান দিকের রাস্তায় ৩ কিমি বিস্তৃত গৌড়ের অতীতের রারধানীর ধ্বংসাবশেষ। গৌড়ের নিজিস্ব কোনো বাস নেই। মালদহ বাসস্ট্যান্ড থেকে মহদিপুর গিয়ে হেঁটে হেঁটে পাঁচ কিমি ঘুরে শেষ করা যায় বৌদ্ধ-হিন্দু-নবাবি রাজধানী গৌড় ভ্রমণ। অবশ্যই চাইলে টাঙা অথবা ট্যাক্সি ভাড়া করেও ঘুরে নিতে চাইলেও এসব ভাড়া পাওয়া যায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়।

How to go Malda :-

সোম থেকে শনি হাওড়া ছেড়ে ব্যান্ডেল/কালনা/নবদ্বীপধাম/কাটোয়া/খাগড়াঘাট-জঙ্গিপুর-নিউ ফারাক্কা হয়ে মালদহ যাচ্ছে হাওড়া-মালদহ ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস। শিয়ালদহ ছেড়ে দ্বিতীয় দিন মালদহ যাচ্ছে গৌড় এক্সপ্রেস। হাওড়া ছেড়ে পরদিন মালদহ যাচ্ছে হাওড়া-বালুরঘাট প্যাসেঞ্জার। শিয়ালদহ থেকে আরোও যাচ্ছে  কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল, হাটেবাজারে এক্সপ্রেস, তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেস, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, কলকাতা-হলদিবাড়ি এক্সপ্রেস। রেল থেকে ২ কিমি দুরে শহরের মাঝখানে বাসস্ট্যান্ড।

Hotels in Gour :-
There are some Information about hotels of Gour, Malda. You may contact these hotels of Gour, Malda phone number.

থাকতে হবে মালদহের কোনো হোটেল বা লজে।
Hotel Purbachal, Phone:- 03512-267187/266183. Hotel Meghdoot, Phone:- 03512-266216. Malda Tourist Lodge, Phone:- 03512-220911. Tourism Centre, Phone:- 033-22488271/22436440.  Malda Tourist Lodge, Phone:- 03512-23553931. Hotel Continental, Phone:- 03512-252388. Hotel Natraj, Phone:- 03512-220281.

 
 

রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০

Tarapith : Tarapith tourist spots / তারাপীঠ ভ্রমণ গাইড

Tarapith:- 
সতীর চোখের উর্ধ্বনেত্রের মণি অর্থাত্ তারা পড়েছিল তাই সতীপীঠ নয়, মহাপীঠ বা শক্তপীঠ বলে খ্যাত Tarapith। উত্তরে বয়ে চলা দ্বারকা নদীর পূর্ব তীরে একসময়ের চণ্ডীপুর বর্তমানে Tarapith নামে খ্যাত। সাধক বশিষ্ঠ দ্বারকার পাড়ে মহাশ্মশানের সাদা শিমূলের নীচে পঞ্চমুণ্ডির(শৃগাল-সর্প-সারমেয়-বৃষ-নৃমুণ্ড) আসনে বসে তারা মায়ের সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। যদিও সেই শিমূল গাছটি আজ আর নেই, নেই সেই খরস্রোতা দ্বারকা নদীও। মহাশ্মশানের নিস্তব্ধতা আজ জনতার কোলাহলপূর্ণ। ব্রহ্মার মানস পুত্র বশিষ্ঠর সিদ্ধপীঠ এই Tarapith-এ, কমলাকান্ত, রাজা রামকৃষ্ণ, বিশেক্ষ্যাপা, আনন্দনাথ, মোক্ষদানন্দ, কৈলাসপতি বাবা, শঙ্করবাবা, ন্যাংটো বাবা ছাড়াও বিভিন্ন সাধক সিদ্ধিলাভ করেণ। এছাড়া সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন সাধক বামাক্ষ্যাপাও এই Tarapith-এ। জয়দত্তের তৈরি করা তারা মায়ের প্রাচীন মন্দির আজ ধ্বংস প্রাপ্ত। আটচালা উত্তরমুখী বর্তমান Tarapith Temple টি ১২২৫ বঙ্গাব্দের ১২ই ফাল্গুন মল্লারপুরের জগন্নাথ রায় তৈরি করান। মন্দিরটির অলঙ্করণে প্রবেশপথের খিলানের উপরে দেবী মহিষাসুরমর্দিনী সপরিবারে উৎকীর্ণ। বাম দিকে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ এবং দক্ষিণ দিকে রামায়ণ বর্ণনা করা হয়েছে Tarapith Mandir এর ভাস্কর্যে। রয়েছে বিভিন্ন পৌরাণিক আখ্যান। দেবী এখানে তারাময়ী কালী। মুখ ছাড়া সমস্ত অঙ্গ বসন পরিহিতা। আর সন্ধ্যায় দেখতে পাওয়া যায় বশিষ্ট কে দেখা দেওয়া কষ্টিপাথরের মহাকাল, মহাকালীর স্তন্যপানরত দ্বিভুজা ছোট্ট Mahakal মুর্তি। দেবীর ভৈরব চন্দ্রচূড় শিব রয়েছেন ছোট্ট মন্দিরে।

বিভিন্ন কিংবদন্তীতে ঘেরা মন্দির সংলগ্ন জীয়ৎকুণ্ড বা জীবিতকুণ্ড ও অবিরাম মন্দিরটি দর্শনীয়। বামাক্ষ্যাপার সমাধিমন্দিরে মুর্তি হয়েছে সাধকের। মন্দির হয়েছে মুণ্ডমালীতলায় অর্থাত্ তারামা গলার মুণ্ডমালা যেখানে রেখে দ্বারকায় স্নান করতে যেতেন সেখানে। পঞ্চমুণ্ডির আসন পাতা মহাশ্মশান তান্ত্রিক, সাধু, ফকিরদের উপনিবেশে পর্যবসিত হয়েছে Tarapith। আনন্দময়ী মায়ের আশ্রমও হয়েছে তারাপীঠে। ১৩১৮ বঙ্গাব্দের ২রা শ্রাবণ কে স্মরণ করে বামাক্ষ্যাপার তিরোধান উৎসব হয় এখনো।  আশ্বিন মাসের শুক্লা চতুর্দশীতে ৭ দিনের মেলা ছাড়াও উৎসব হয় সারা বছর Tarapith-এ। এখান থেকে রিকশায় যাওয়া যায় বামাক্ষ্যাপার জন্মস্থান আটলা গ্রাম, স্মরণে মন্দির হয়েছে বামাক্ষ্যাপার জন্মভিটেয়।
আগ্রহীরা তারাপীঠ থেকে বাসে সাঁইথিয়ার দিকে ১০ কিমি গিয়ে বলরামের অবতাররূপী নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর জন্মস্থান গর্ভাবাস নামে বিখ্যাত বৈষ্ণব তর্থ Birchandra Purও ঘুরে আসতে পারেন। বাস রাস্তার দক্ষিণ দিকে নিত্যানন্দের আরাধ্য দেবতা বাঁকারামের আটচালা মন্দির। মূর্তিটি ভিষনই সুন্দর এবং ভক্তদের প্রসাদ মেলে Bankaram Temple এ। ষষ্ঠীতলা, বিশ্বরূপতলা, শ্রীক্ষেত্রে দেবতা জগন্নাথের মন্দির পথ চলতেে চলতেই
দেখে নেওয়া যায়। ইসকন ও মন্দির তৈরি করেছে। রাস ও দোল বিখ্যাত উৎসব Birchandra Pur-এর। মহাভারতের পান্ডবরা অজ্ঞাতবাসের সময়ে ব্রাহ্মণের ছদ্দবেশে Birchandra pur এ ছিলেন। সে সময়ে নাম ছিল একচক্রাগ্রাম। কিছুটা দুরে দুই শৈবতীর্থ Vabuk ও Goureswar। Sainthia র দিকে আরোও ৪ কিমি গিয়ে সাঁইথিয়ার ৮ কিমি উত্তর-পূর্ব দিকে ময়ূরাক্ষীর তীরে কোটাসূর। অনুচ্চ টিলার আকারে মদনেশ্বর শিবমন্দির প্রাঙ্গণে প্রদীপাকার পাথরখণ্ড আজও কুন্তীদেবীর প্রদীপ নামে পরিচিত। এছাড়া আছে বকরাক্ষসের মালাইচাকি এবং দুটি শিবমন্দির প্রাঙ্গণে। এছাড়াও আছে সৃর্য ও বিষ্ণুর কষ্টিপাথরের সুদর্শন মুর্তি মদনেশ্বর চত্বরে। কথিত ভীম এখানেই বকরাক্ষসকে বধ করে হিড়িম্বা কে বিবাহ করে। কোটাসূর থেকে ৭ কিমি দুরে অসুরালয় গ্রামের উচ্চভূমি অসুরডাঙ্গায় সে সময়ে রাক্ষসদের বসবাস ছিল।

How to go Tarapith :-

হাওড়া-সাহেবগঞ্জ লুপলাইনে কলকাতা থেকে ২৯৪ কিমি দুরে রামপুরহাট। সকাল ৯-০০টায় শহীদ মিনার থেকে CSTC-র বাস যাচ্ছে বারাসাত/কৃষ্ণনগর/বহরমপুর/সাঁইথিয়া/তারাপীঠ হয়ে আট ঘন্টায় Rampurhat। WBSTC-র বাস ধর্মতলা থেকে সকাল ৭-০০ ও সন্ধ্যা ৬-৩০শে ছেড়ে তারাপীঠ যায়। পানাপাড়া/বক্রেশ্বর/সিউড়ি/তারাপীঠ হয়েও CSTC-র বাস যাচ্ছে কলকাতা থেকে Rampurhat-এ।  এছাড়া বিভিন্ন ট্রেনে রামপুরহাট পৌঁছে ভোর থেকে গভীর রাতে রেল স্টেশন থেকে ৯ কিমি সড়ক পথে ট্রেকার, অটো, মিনিবাসে Tarapith যাওয়া যায়।

Hotels in Tarapith:-
There are some hotels of Tarapith. You may contact with these Phone number of Tarapith Hotels for further enquiries.

Hotel Suvana, Phone:- 03461-253212/9932357958. New Binapani Lodge, Phone:- 03461-253232/712/713. Tirthabas, Phone:- 03461-253217. Kalyani Lodge, Phone:- 253454/9679314836. Hotel Santinivas, Phone:- 03461-253249. Sandip Lodge, Phone:- 03461-253248. Shailabas, Phone:- 03461-253725. Bharat Sebashram Sangha, Phone:- 03461-253827/128/199/9732127224. Dwaraka Lodge, Phone:- 03461-253221. Hotel Rupashi Bangla, Phone:- 03461-253363. Sonu Lodge, Phone:- 03461-253890/9932784053. Hotel Chhuti, Phone:- 03641-253255. Hotel Purbasha, Phone:- 03461-253359. Asha Lodge, Phone:- 03461-253309. Hotel Meridian,Phone:- 03461-253113/9800404198. Hotel Sathi, Phone:- 03461-253287/9830133872. 

Shantiniketan: Shantiniketan Tourist Spots / শান্তিনিকেতন ভ্রমণ

১৮৬১ সালে রবীন্দ্রনাথের পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর রায়পুরের জমিদার এস পি সিনার থেকে নিকডাঙায় ২০ বিঘা জমি কিনে শান্তির নীড় তৈরি করে নাম রাখেন Shantiniketan। সময়ের ব্যাবধানে বাড়ির নাম থেকে জায়গাটির নাম হয়ে যায় শান্তিনিকেতন। রবীন্দ্রনাথ ১৮৬১-১৯৪১ পাঁচটি ছাত্র নিয়ে ব্রহ্মচর্যাশ্রমে পর্যবসিত করেন। ১৮৭৩এ রবীন্দ্রনাথ প্রথমবার আসেন শান্তিনিকেতনে। ইটের তৈরি বাড়িগুলো থেকে দূরে নীল আকাশের নীচে সেদিনের সেই ব্রহ্মচর্যাশ্রমটি আজ সারা বিশ্ব চেনে Shantiniketan নামে। ছাত্র/ছাত্রিরা আসছেন দেশ বিদেশ থেকেও। ১৯২২-এর ১৬ই মে গড়ে ওঠে Biswabharati University যার সুনামও বিশ্বজুড়ে। বিশ্বভূবনের প্রতিটি বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয় এখানে, সহশিক্ষা সহ। ক্লাস হয় শাল-বকুল-আম্র ছায়ায় নীলাকাশের নীচে। রয়েছে দীর্ঘ ৪৫ বছরের রবীন্দ্র স্মৃতি শান্তিনিকেতনের আকাশে বাতাসে। ১৯৪১এর ৭ই আগস্ট রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর ভারত সরকার অধিগ্রহণ করে। কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি মেলে ১৯৫১র ১৪ই মে Biswabharati University র। আজ ভারতের পর্যটন মানচিত্রে Shantiniketan একটিি অন্যতম নাম।
শান্তিনিকেতনের প্রধান আকর্ষণ রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের বাসভবন uttarayanঅনেকগুলো ভবনের সমষ্টি উত্তরায়ণের বিচিত্রা ভবনে বসেছে Rabindra Museum। ১৯১৩ সালে পাওয়া নোবেল পুরস্কারটি চুরি যাওয়ার পর নোবেলের প্রতিকৃতির সাথে উপহার পাওয়া বিভিন্ন পদক, কবির ব্যাবহারিত চটি-জোব্বা-কলম, বসন-ভূষণ, ছবি, পাণ্ডুলিপি প্রদর্শিত হয়েছে মিউজিয়ামটিতে। ব্রিটিশরা ১৯১৫তে  নাইটহুড উপাধি দেন কবিকে। ১৯১৯র জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ফেরত দেন ব্রিটিশদের খেতাব। আর এক অংশে গবেষণা কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। চত্বরে প্রদর্শিত হয়েছে কবির ব্যাবহারিত অস্টিন গাড়িটিও। পাশেই Rabindra Bhawan এবং রয়েছে রবীন্দ্র-পরিকল্পিত রবীন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত উদয়ন, কোনার্ক, শ্যামলী, পুনশ্চ, উদীচী। কবির নিজের হাতে লাগানো মালতীলতা আজও কোনার্কের সামনে শিরীষ গাছে স্মারক হয়ে প্রস্ফুটিত। উদীচীর ডাইনে গোলাপ বাগিচা। কিছুটা দুরে স্টুডিও চিত্রভানু। সাধারণের জন্য দর্শনীয় না হলেও কবির পুত্র রথীন্দ্রনাথের জন্মদিন ২৩শে নভেম্বর খোলা থাকে সর্বসাধারণের জন্য। এছাড়া সড়ক পার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়াঙ্গনে মহর্ষির সাধনবেদি Chatimtala আর এক দ্রষ্টব্য। সপ্তপর্ণী বৃক্ষের শীতল ছায়ায় শ্বেতমর্মরে বেদিতে বসে মহর্ষি লাভ করেছিলেন প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ, আত্মার শান্তি। কিছুটা দুরে ১৮৬৩তে তৈরি ব্রহ্মচর্যাশ্রম অর্থাত্ বর্ণময় কাঁচের উপসনা মন্দির। মন্দিরের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য কলকাতা থেকে এসে সম্পূর্ণতা পায় আলপনা আঁকা মেঝেতে আজও উপাসনা হয় প্রতি বুধবার ভোরে। 
উল্টোদিকে মহর্ষির আর এক স্মারক ১৮৬৪তে তৈরি শান্তিনিকেতন গৃহ। Kala Bhawan - এ, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গগনেন্দ্রনাথ, নন্দলাল বসুর ম্যুরাল ও উঠান জুড়ে রামকিঙ্কর বেইজের স্টুকো ভাস্কর্য, বিনোদবিহারীর আঁকা দেওয়ালচিত্রে সুশোভিত হিন্দী ভাষা সংস্কৃতির হিন্দিভবন, নন্দলাল বসু চিত্রিত চীন ভবনে প্রাচীন বৌদ্ধ-জৈন পুথির সংগ্রহ, সঙ্গীত ভবন, নন্দন-প্রদর্শনশালা, মূল পাঠাগার ভবন, বহু বিচিত্র মুর্তি খোদিত কালোবাড়ি ছাত্রাবাস। এদেরও পর্যটক আকর্ষণ অনস্বীকার্য।
শান্তিনিকেতনের জন্মদিন ৭ই পৌষে জাঁকালো উৎসব হয়, মেলা বসে, শেষ দিনে সকাল ৮-০০টায় পরলোকগত আশ্রমবাসীদের স্মৃতিবাসর, দুপুরে হবিষ্যান্ন গ্রহন, সন্ধ্যায় আতশবাজি পোড়ে আকাশকে রঙিন করে-এরই নাম Pousmela। খুবই আকর্ষণীয় এই Pousemela জাতীয় উৎসবের চেহারা নিয়েছে। দিনরাতভোর বেচাকেনা চলে তালপাতার বাঁশি থেকে কুমোরের হাঁড়িকুঁড়ি। বিক্রি হচ্ছে শ্রীনিকেতনের চামড়ার ব্যাগ, মোড়া, মধুবনীর ছবি, ডোকরা শিল্প ছাড়াও গ্রামীণ পণ্যের নানান জিনিস। বাউলেরা আসে গাঁ-গঞ্জ থেকে আসরে। ১৯২৫এ শুরু হয়ে ঋতুরাজ বসন্তে শান্তিনিকেতনের আর এক আকর্ষণীয় উৎসব Basanta Utsab বা হোলির সূচনা। বাসন্তীরঙা বসনে সবাই চলেছেন Amrakunja-এ। ভোর থেকে গানে গানে মুখরিত হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। ফাগ ওড়ে বাতাসে। নেচে গেয়ে বৈতালিকের দল চলে পুরাতন Nandan Bhawan থেকে গৌর প্রাঙ্গণে। সারাদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠান যার খ্যাতি আছে পর্যটক মহলে। পর্যটকদের উচিত হবে উৎসব দুটো উপভোগ করা। শ্রীনিকেতনের মাঘমেলা মলিন হলেও পর্যটন আকর্ষণ যথেষ্ট। Sri Niketan মেলার মাঠে কৃষি ও গ্রামীণ শিল্পের প্রদর্শনীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিচিত্রা অনুষ্ঠানের আসর বসে ৩ দিনের এই মাঘোৎসবে। শান্তিনিকেতনের সমস্ত দপ্তর বন্ধ থাকে উৎসব চলাকালীন সময়ে। এছাড়া উৎসব হয় নববর্ষ, বর্ষশেষে, খ্রিস্টোৎসব শান্তিনিকেতন। শান্তিনিকেতন ঘুরে দেখার সময় বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার সকাল ১০-৩০ থেকে বিকাল ৪-৩০টা পর্যন্ত এবং মঙ্গলবার সকাল ১০-৩০ থেকে ১২-৩০ পর্যন্ত। গরমের ছুটিতে মে-জুন মাসে সকাল ৭টা থেকে ১১-০০ পর্যন্ত পর্যটকরা ঘুরে দেখতে পারেন। এছাড়া PRO-র বিশেষ ব্যাবস্থায় দুপুর ২-৩০ থেকে ৪-৩০ টা পর্যন্ত শান্তিনিকেতন এবং সকাল ১০টা থেকে ১২-৩০টা পর্যন্ত Sri Niketan দেখে নেওয়া যেতে পারে। বুধবার বন্ধ থাকে Santiniketan।
উত্তরায়ণ পার হতেই ত্রিমোহিনীর বাঁকের মুখে তালধ্বজ। আরো কিছুটা গিয়ে খালের পাড়ে ১৯৭৭র ১১জুলাই  তৈরি হয়েছে Ballavpur National Park বা Deer Park। শাল, পিয়াশাল, শিশু, কাজু, হরীতকী, আমলকী, বহেরা, শিরীষ, জাম, মহুয়া, সোনাঝুরি, আকাশমণিতে ঘেরা ৭০০একর পরিব্যাপ্ত পার্কটিতে চিতল হরিণ, বার্কিং ডিয়ার, কৃষ্ণসার, ময়ূর ছাড়াও খরগোশ, বেজি, শিয়াল, সাপ ও পাখির বাস। সকাল ৮টায় এবং বিকাল ৩টায় খাবার খেতে আসার দৃশ্য অনন্য সুন্দর লাগে। পাশেই প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র বা নেচার ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার। পাশেই উচু-নিচু ছোট ছোট টিলায় শাল-সোনাঝুরির জঙ্গলে বিপ্লবীদের আশ্রয়স্থলে এক বিপ্লবীর তৈরি করা আমার কূটীরে কারুশিল্প, চর্মশিল্প, ব্লক প্রিন্ট ছাড়াও বিভিন্ন রকমের হস্তশিল্প দেখার সঙ্গে কিনতে পাওয়া যায়। আছে Bird Sanctuary Shantiniketan-এ। ডিয়ারপার্ক সংলগ্ন বিশাল ঝিলের বুকে নভেম্বর থেকে মার্চ মাসে বালিহাঁস, মরাল, পানডুবি, মেটেহাঁস, জলপিপি, তিতির, মাছরাঙা ছাড়াও হর্নবিল, পোকার্ড, গ্যাডওয়াল, শোভেলার, পিনটেল, ইগ্রেট ও হাজারো পরিযায়ীর মেলা। এছাড়াও আছে অজস্র কচ্ছপ ঝিলের জলে। সকাল-সন্ধ্যায় পায়ে-পায়ে খোয়াই-এর পাড়ে পাড়ে দেখে কাটান উর্মিল লাল কাঁকরের নিস্তব্ধ তোলপাড়। প্রতিবেশিনী Kopai শান্তি নিকেতনের আর এক উচ্ছল কবিতা। কোপাইয়ের ছন্দে ছন্দ মিলিয়ে শিশুসন্তান পিঠে বেঁধে সাঁওতাল মেয়েরা চলে মাঠের পর মাঠ পার হয়ে দুরে-বহুদূরে গাইছে বাউল এক তারায়ের মত। শান্তিনিকেতনের নবতম আকর্ষণ আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহ বা Gitanjali Art Gallery, ওয়ার্কশপ এবং কাফেটেরিয়া বাগান।

শান্তিনিকেতন থেকে ৩ কিমি দুরে Sri Niketan. এক সময়ের সুরুলে, ১৯২৩এ তৈরি হয়েছিল Biswabharati-র পল্লী শিল্পকেন্দ্র বিভাগ। এর কৃষি গবেষণার সুনাম আজ ভারত জুড়ে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নীলচাষ এবং চিনি তৈরি করত সুরুলে। ঠিক তেমনই সুনাম এর হস্তজাত শিল্পপণ্যের ভারত তথা বিশ্বজুড়ে। স্মারক হিসেবে সংগ্রহ করা যাবে নান্দনিক বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল হস্তজাত পণ্য সামগ্রী। ঝোলা ব্যাগ, কারুকার্যমণ্ডিত মোড়া, পটারি, বাটিকের বিভিন্ন কিছু যা শান্তিনিকেতনের একান্তই নিজস্ব। পথে পড়ে পিয়ার্সন পল্লী, অ্যান্ড্রুজ ভবন, বিনয় ভবন, কালীসায়র, রঘু ডাকাতের কালী মন্দির। কবির ৲২৫ তম জন্মবর্ষে  Bolpur Rail Station এর ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মটিও দেওয়াল চিত্রে সাজানো হয়েছে। বসেছে আর্ট গ্যালারি-কবির স্মৃতি বিজড়িত বিভিন্ন সম্ভার নিয়ে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। কবির শেষযাত্রার সেলুন কারটিও প্রদর্শিত হয়েছে রেল স্টেশন থেকে বের হতেই সুন্দর মন্ডব তৈরি করে। Bolpur Station থেকে জয়দেব রোড ধরে ইলাম বাজার যেতে সুপুর, রায়পুর, কাঁকুটিয়া ও দেউলির অবস্থান। রিকশা বা বাসে একে একে ঘুরে নেওয়া যায়। ৪ কিমি দুরে ইতিহাস ও কিংবদন্তির মিলনক্ষেত্র সুপুর। ইলামবাজার গামি যে-কোনো বাসে শিবতলায় নেমে রাজা সুরথের তৈরি সুরথেশ্বর শিব মন্দির দেখে ৩ কিমি পশ্চিমে শাক্ত ও বৈষ্ণব তীর্থ কাঁকুটিয়া বামাক্ষ্যাপার স্মৃতি বিজড়িত হাটপুকুর কালীবাড়ি ও লোচনদাস প্রতিষ্ঠিত মহাপ্রভুর মন্দির দেখে নেওয়া যেতে পারে। দীপান্বিতা কালীপুজোর রাতে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তের দল আসেন। কাঁকুটিয়া গ্রাম পার হয়ে অজয় নদের তীরে শৈবতীর্থ দেউলীর খ্যাতী সুপ্রাচীন দেউলীশ্বর শিব মন্দিরের জন্য। হালকা গোলাপি রঙের মন্দিরের দক্ষিণ দিকে বৈষ্ণব কবি লোচন দাসের সিদ্ধাসন। এখানে বসেই চৈতন্যমঙ্গল রচনা করেন কবি। রায়পুরের জমিদার বাড়িটি আজ জীর্ণতা প্রাপ্ত হলেও সংলগ্ন নারায়ণ মন্দির, গৌড়ীয় মঠ, গোপীনাথ ধর্মঠাকুরের গড় দেখে নেওয়া যায়। মার্কণ্ডেয় পুরাণে পাওয়া যায়, ভাগ্য বিপর্যয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে দেবীর আরাধনায় হৃতসম্পদ ফিরে পেতে সুপুরের মহারাজা সুরথ লক্ষ বলি উপহার দেন দেবী চণ্ডী কে। সেখান থেকেই জায়গাটির নাম বলিপুর।

How to go Shantiniketan :-

হাওড়া থেকে বর্ধমান হয়ে পূর্ব রেলপথের সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনে ট্রেন যাচ্ছে Bolpur। ট্রেনে যাতায়াতে Shantiniketan Express উপযুক্ত হবে। এছাড়া গণদেবতা এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ-গুয়াহাটি কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, হাওড়া-পাকুড়-মালদহ ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস Bolpur যাচ্ছে। কম খরচে যেতে চাইলে হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে লোকালে বর্ধমান গিয়ে প্যাসেঞ্জার ট্রেনে Bolpur যাওয়া যায়। হাওড়া জয়নগর প্যাসেঞ্জার, হাওড়া-রাজগীর, শিয়ালদহ-রামপুরহাট প্যাসেঞ্জার কলকাতা ছেড়ে বর্ধমান-বোলপুর যাচ্ছে। পানাগড় হয়ে সড়ক সংযোগ রয়েছে সারা ভারতের সঙ্গে শান্তিনিকেতনের। শহীদ মিণার থেকে পানাগড় হয়ে বাস যাচ্ছে CSTCর সকাল ৯টায়।

Hotels in Shantiniketan:-
There ar some Santiniketan hotels and Santiniketan hotels Phone numbers.

Santiniketan Tourist Lodge,  Phone:- 03463-252699. Tourism Centre, Phone:- 033-22488271/22436440. Diamond, Phone:- 033-22259639. Bolpur Lodge, Phone:- 03463-252662. Rangamati, Phone:- 03463-252305/9474309748. Royal Bengal, Phone:- 03463-257148/448/9007982002. Reliable Travels, Phone:- 9830163154. Chitrali Lodge, Phone:- 03463-252111/9475170286. Chowdhury Lodge, Phone:- 03463-253834/9474944741. Suravi Lodge, Phone:- 03463-252636. Money Holiday Resort, Phone:- 9434307150. TTMI, Phone:- 033-22845063. Manasi Hotel, Phone:- 03463-254200. Poushali, Phone:- 03463-261825/9434142454. Lokenath, Phone:- 9831510631. Chhuti Holiday Tesort, Phone:- 03463-252692/9434012872. Mark Meadows, Phone:- 03463-264871/9434007777.
These all are Cheapest Hotels of Shantiniketan. contact with these hotels of Shantiniketan phone number and get Information about Santiniketan hotels criteria.

Santipur : Santipur tour / শান্তিপুর ভ্রমণ

Santipur :- 
শান্তমুনির বাসস্থান শান্তপুরের বর্তমান নাম Santipur। নবদ্বীপ ও মায়াপুরের মতো বৈষ্ণব ধর্মের আর এক পীঠস্থান santipur। ১৪৩৪ খ্রিস্টাব্দে শ্রীহট্টের নবগ্রামে কমলাক্ষর জন্ম। বেদ ও চতুষ্টয় অধ্যায়ন করে বেদ-পঞ্চানন বা অদ্বৈত আচার্য হন কমলাক্ষ। মৃত্যু বরণ করেন ১২৫ বছর বয়সে। ৫২ বছর বয়সে কঠোর সাধনার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে মহাপ্রভু শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য পৃথিবীতে আসেন নবদ্বীপে। গৌরাঙ্গ, নিত্যানন্দ ও অদ্বৈতআচার্যের মহামিলন ঘটে বাবলা গ্রামের শ্রীপাটে। এমনকি সাধক বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী বা জটিয়া বাবার জন্মও এই শান্তিপুরের অদ্বৈত বংশে। শ্যামাচাঁদ, গোকুলচাঁদ, জলেশ্বর, প্রাচীন মসজিদ ছাড়াও মন্দির আছে নানান Santipur-এ। তাঁতবস্ত্রের জন্য বিখ্যাত Santipur। প্রতি রবিবারে হাট বসে এবং তাঁতিরা আসেন তাঁতজাত সম্ভার নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে Santipur-এ। শান্তিপুরের আর এক আকর্ষণ কার্তিক পূর্ণিমায়, নবদ্বীপের পরের দিন Santipur Rash Utsav। অজস্র বারোয়ারি পুজো হয়-সাজসজ্জায় ও আলোকমালায় মহিত করে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষের ঢল নামে মন্দিরে মন্দিরে Santipur Rash এ। মদনগোপাল ঠাকুর বাড়ি, গোস্বামী বাড়ি, রাধাবল্লভ জিউ, বিজয় গোস্বামী বাড়ি, অদৈত্বপাঠ এদের মধ্যে উল্লেখ। চার দিন ধরে চলে Rash Utsav, তৃতীয় রাতে ভাঙা রাসের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার সুনাম আজ পৃথিবীজুড়ে। বিভিন্ন পৌরাণিক আখ্যান বর্ণিত মাটির মূর্তি,  সংরূপি বিভিন্ন অবতার, ১০৮ ঢাকির নাচ, ময়ূরপঙ্খীতে বৈষ্ণব-বৈষ্ণবী, সুসজ্জিত নানান হাওদা, অভিনব আলোক সজ্জায় মাতোয়ারা করে তোলে শান্তিপুর কে ওই Rash-এর রাতে । কুমারী মেয়েরা দেবির সাজে সজ্জিত হয়ে আসন গ্রহণ করে হাওদায়। অভিনবত্ব আছে রাইরাজা হাওদার। বৈষ্ণব সাম্রাজে গা ছমছম করা নিশুতি রাতে-আগমেশ্বরী, বামাকালী, চাঁদিনিবাড়ির কালী, জটে কালী, মহিষাখাগি কালী, পটেশ্বরী কালীর পুজা পদ্ধতি আজও যেনো অন্যরকম ধাঁধা। শান্তিপুরের কৃষ্টি, সাহিত্য, সংস্কৃতির পুরানো দিনের কথা জানতে Santipur Public Library-এর দ্বিতীয় তলায় Santipur Museum টি দেখে নেওয়া উচিত। সোম ছাড়া ৪টে থেকে ৭টা খোলা থাকে।  দেখে নেওয়া যায় রানাঘাট-শান্তিপুর ট্রেন রাস্তায় হবিবপুর স্টেশন বা গাড়িতে রাণাঘাট থেকে হবিবপুর পথে, হবিবপুর বিডিও অফিস বাসস্ট্যান্ডে নেমে বাম দিকে হেঁটে অথবা রিকশায় হবিবপুর ইসকন গৌরধামে শ্রী জগন্নাথ মন্দিরটিও।

How to go Santipur :-
শিয়ালদহ থেকে কৃষ্ণনগর লোকালে কৃষ্ণনগর এবং কৃষ্ণনগর থেকে বাসে  NH-34 ধরে ২০ কিমি দুরে শান্তিপুরে যাওয়া যায়। এছাড়া লোকাল ট্রেন যাচ্ছে শিয়ালদহ থেকে রাণাঘাট/ফুলিয়া হয়ে শান্তিপুরে। 

Hotels in Santipur:-
There are some Santipur hotels Information. If you need Santipur hotels may contact these santipur hotels contact numbers.

Municipal-এর ঘর আছে বি সি রায় রোডে, ছয় জনের ডর্মি, Phone:- 03472-278018.
হবিবপুরে ৪০ বেডের প্রভুপদ ঘর, Phone:- 03473-281150/9434056092/9230097148/9331039799.

Murshidabad : Murshidabad Tour Spots/ মুর্শিদাবাদ ভ্রমণ গাইড

Murshidabad 

বৈষ্ণব বা নানকপন্থী সন্যাসী মুকসুদন দাসের নামানুসারে মুকসুদাবাদ নামকরণ। গৌড়েশ্বর হুসেন শা'র অসুখ সারিয়ে বিপুল ভূ-সম্পত্তি উপহার পান মুকসূদন। অন্য আর একটি মতে বণিক-পুত্র মুকসুস খাঁ থেকে মুকসুদাবাদ। আকবরনামায় পাওয়া যায় বাংলার শাসক সায়েদ খাঁর ভাই মুকসুদ খাঁর নাম থেকে নামকরণ Murshidabad।

History of Murshidabad :-

১৬০০ খ্রিস্টাব্দে মোগল সেনাপতি মানসিংহর কাছে পাঠান শক্তি পরাজিত হওয়ার পর রাজমহলে রাজধানী বসে বাংলার। তবে, জাহাঙ্গীরের সময়ে ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তরিত হলেও দাক্ষিণাত্যের দরিদ্র ব্রাহ্মণ বংশে জন্মানো সুদর্শন নারায়ণ মিশ্র ইরান দেশীয় বণিকের কাছে প্রতিপালিত মোগল দরবারের কর্মচারী মির্জা হাদি হলেন মুর্শিদকুলী খাঁ অর্থাত্ পরিত্রাতা দেবদূত। নিজের বুদ্ধিমত্তায় বাংলা-বিহার-ওড়িশার দেওয়ান হয়ে ঔরঙ্গজেবের সময় সুবা বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে সরিয়ে এনে ভাগীরথীর পশ্চিম তীরে ঢাকা পাড়া বা মহল্লা পত্তন করেন মুর্শিদকুলী খাঁ। পরে রাজনৈতিক-বাণিজ্যিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ভাগীরথী পার হয়ে পচ্শিম থেকে পুবে মুকসুদাবাদে এসে আশ্রিত হয়। বাদশাহ ঔরঙ্গজেবের কাছ থেকে দেওয়ানির সঙ্গে খেতাবও পান-মুর্শিদকুলী মতিমন্ উল্ মুল্ক আলাউদ্দিন জাফর খাঁ নাসিরী নাসির জঙ্গ। ৪০ স্তম্ভের উপর তৈরি করা চোহল সেতুন কেল্লা দরবার আজ ধ্বংস হয়েছে। ১৭৫৩র ৯ই এপ্রিল আলিবর্দি খাঁর মৃত্যুর পর বাংলা-বিহার-ওড়িশার মসনদে বসেন সিরাজ-উদ-দৌল্লা। 

মুর্শিদাবাদ ভ্রমণ রচনা:- 

কলকাতা থেকে ১৯৭ কিমি দুরে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের স্মৃতি বিজড়িত Mursidabadএর পর্যটন আকর্ষণ আজ দুর্নিবার। এই মুর্শিদাবাদের ৫৩ কিমি দক্ষিণে পলাশীর আমবাগানে মিরজাফরের বিশ্বাস ঘাতকতায় বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের পরাজয় ঘটে জুন ২৩, ১৭৫৭য়। সিরাজের পরাজয়ে Mirjafor সিংহাসনে বসেন। তবে সুখের নয় মিরজাফরের নবাবি জীবন। ইংরেজ মিরজাফর কে সরিয়ে জামাতা মিরকাশিম কে সিংহাসনে বসান। মিরকাশিম রাজধানী সরিয়ে নিয়ে জান Murshidabad থেকে মুঙ্গেরে। স্বাধীনচেতা নবাবের পরাজয় ঘটে ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দের ১লা আগস্ট মুর্শিদাবাদের ৩২ কিমি উত্তরে সুতির কাছে গিরিয়ার প্রান্তরে। গিরিয়ায় পরাজিত হয়ে উধুয়া নালায় শিবির তৈরি করে নবাবি ফৌজ। কিন্তু ৫ই সেপ্টেম্বর ১৭৬৩র ভোরে ইংরেজ আচমকা আক্রমণ করে জয় করে নেয় নবাবি শিবির। আবার নবাব হন মিরজাফর কিন্তু কায়েম হয় ব্রিটিশ রাজ বাংলায়। ভারতের ব্রিটিশ রাজের প্রথম রাজধানীও গড়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের ১৪ কিমি দুরে Baharampur-এ। আর ১৭৭২এ বহরমপুর ছেড়ে ব্রিটিশ রাজের রাজধানী কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়। নবাবের আর এক কৃষ্টি-আম্রকাননে ১০৮ রকমের আমের সৃষ্টি। UNESCO-র World Heritage তালিকা ভুক্ত হয়েছে Murshidabad।

Places to visit in Murshidabad :-

ব্যারাকের মাঠ - নয়ন ভোলানো স্নিগ্ধ-সুমধুর পরিবেশে বৃক্ষরাজি সারি দিয়ে দাড়িয়। কোর্ট, কাছারি, জেল, হাসপাতাল ছাড়াও নানান সরকারি অফিস বসেছে ব্রিটিশদের তৈরি করা সেনানীদের বাড়িঘরে ব্যারাকের মাঠ কে ঘিরে। আজকের সার্কিট হাউসে লর্ড ক্লাইভ ও ওয়ারেন হেস্টিংসও বাস করে গেছেন সে সময়ে। ১৮৫৭র ২৬শে ফেব্রুয়ারি প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম অর্থাত্ সিপাহী বিদ্রোহে সবার আগে গর্জে ওঠে এই ব্যারাকের মাঠ। সেই স্মৃতিতে শহীদ স্মারক হয়েছে শতবর্ষ পরে ১৯৫৭র ১৫ই আগস্ট ব্যারাকের মাঠের উত্তর-পচ্শিমে। আরোও উত্তরে ট্যুরিস্ট লজ আর দক্ষিণে সেনানিবাসের প্রধান বাজার গোরাবাজার।
বহরমপুর কোর্ট থেকে দেড় কিমি, বাসস্ট্যান্ড থেকে আধা কিমি পশ্চিমে আর খাগড়া ঘাট রোড স্টেশনের ৩ কিমি পূ-দক্ষিণে ব্যারাকের মাঠ।

Hazarduari:- ১৮২৯এর ২৫শে আগস্ট ভিত গেড়ে ১৮ লক্ষ টাকা খরচ করে ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে তদানীন্তন নবাব নাজিম হুমায়ূন খাঁর বসবাসের জন্য ব্রিটিশ স্থপতি স্যার ডানকান ম্যাকলিয়ডের নকশায় ব্রিটিশরাজ তৈরি করান ইতালিয়ান শৈলিতে ৮০ ফুট উচু ৪২৫×২০০ ফুটের ত্রিতলিকা গম্বুজওয়ালা  Hazarduari. ৮ টি গ্যালারি সহ ১২০ ঘরের এই প্রাসাদে ১০০০টি দরজার থেকে নাম হয়েছে Hazarduari। যদিও প্রকৃত দরজা ৯০০, বাঁকি ১০০ কৃত্রিম। অনন্য গথিক শৈলীর নান্দনিক নিদর্শন হাজারদুয়ারি নবাব প্রাসাদ নামে বিখ্যাত হলেও সেদিনের নবাব কিন্তু বয়কট করেন বাসগৃহ রূপে Hazarduari কে। যদিও দরবারে বসতেন নবাব রূপোর সিংহাসনে মহারাণী ভিক্টোরিয়ার পুরস্কার দেওয়া ১৬১টি ঝাড়যুক্ত বিশাল ঝাড়বাতির নীচে দ্বিতলে। মন্ত্রণাকক্ষের লুকোচুরি আয়না, হাতির দাঁতের পালকি ও তাঞ্জাম, মেহগনি কাঠের আসবাবপত্র, আর্ট গ্যালারিতে দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা বিশ্বখ্যাত মার্শাল, টিশিয়ান, রাফেল, ভ্যান ডাইক ছাড়াও বিভিন্ন শিল্পীর আঁকা চার শতাধিক অয়েলপেন্টিং, মর্মরমূর্তি, ফুলদানি, রকমারি ঘড়ির সংগ্রহ, সে যুগেও অনন্য করে তোলে Hazarduari কে। সুবে বাংলার নবাবি আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন ও পুথিপত্রের অমূল্য সংগ্রহশালা-মুর্শিদাবাদের অন্যতম আকর্ষণ হাজারদুয়ারীর সংস্কার হয়েছে ১৯৯১এ। নবাবের ব্যবহার করা জিনিসপত্রের প্রদর্শনী দেখতে পর্যটক আসেন দেশ-বিদেশ থেকে। চাইনিজ পোর্সেলিন প্লেটগুলিও অভিনবত্বে ভরা। নবাবরা খেতেন এই প্লেটে। খাবারে বিষ থাকলে প্লেটটি ফেটে যাবে। মুর্শিদকুলী খাঁ থেকে সর্বশেষ নবাবের তৈলচিত্র বংশপরম্পরায় তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া নিচের তলার অস্ত্রাগারে ২৭০০ অস্ত্রের সম্ভার। এমনকি সিরাজকে খুন করা মহম্মদী বেগমের ছুরি, সিরাজ ও আলিবর্দির ব্যবহার করা তলোয়ার আকর্ষণ বাড়িয়েছে। তিন তলায় ইংরেজি ও পার্সি ভাষায় লেখা লাইব্রেরির ১০৭৯২টি বই, ৩৭৯১টি পাণ্ডুলিপির সংগ্রহ উল্লেখ্য। সোনা দিয়ে মোড়া বাগদাদের সম্রাট হারুন-আল-রশিদের হাতে লেখা কোরান শরীফ, আবুল ফজল লিখিত ৫০২ পাতার আইন-ই-আকবরির পাণ্ডুলিপি, নবাবি চিঠিপত্র উল্লেখ্য। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত খোলা এবং প্রতি শুক্রবার বন্ধ থাকে Hazarduari।

এছাড়া প্রাসাদের সামনে-মায়ের সাধ পুরণে শিয়াদের পতনভূমি কারাবালার মাটি এনে সিরাজের তৈরি এক গম্বুজের Madina Masjid, মদিনা চত্বরে অসামান্য স্থাপত্য শিল্পের নিদর্শন সুউচ্চ ঘড়িঘর। এছাড়া Madina Masjid এ আছে ১৬৪৭-এ জনার্দন কর্মকারের তৈরি ১৮ ফুট দীর্ঘ, ১৬৮৮০ পাউন্ডের কামান। যার এক তোপ দাগতে ১৮ সের বারুদ লাগতো। চত্বর পার হয়ে প্রাসাদের উল্টোদিকে বড় Imambara। সিরাজের তৈরি কাঠের  ইমামবাড়াটি ভস্মীভূত হওয়ার পর ৭ লক্ষাধিক টাকায় ১৮৪৮-এ নবাব নাজিম মনসুর আলি ১৮৪৮-এ তৈরি করেন ২০৭ মিটার এই Imambara। চীনি ও ওলন্দাজি রঙিন টালিতে দেওয়াল সাজানো। পশ্চিমের বিশালাকার কক্ষে হজরত মহম্মদের কবরের বিভিন্ন রেপ্লিকা দর্শনীয়। আরো রয়েছে সঙ্করজাত অদ্ভুত সব জীবজন্তুর মুর্তি। তবে শুধুমাত্র মহরমের সময় দশ দিনের জন্য দর্শনীয় Imambara টি। হাজারদুয়ারীর পিছনে ডান দিকে যাওয়ার সময় গঙ্গার তীরে New Palace তথা ওয়াসেফ মঞ্জিল বর্তমান অতিথি নিবাস হয়েছে। হাজারদুয়ারীর থেকে ৩ কিমি উত্তরে মহিমাপুরে পাঞ্জাব থেকে আসা যোধপুরের বাসিন্দা জগৎশেঠ উপাধিতে ভূষিত মানিকচাঁদ-ফতেচাঁদদের কুঠি বাড়ি ঘেঁষে পথ চলে গেছে Kathgola র। কেবল উপাধিই নয় ১৮ শতকে অন্যতম শেঠও ছিলেন এই জৈন পরিবার। জগৎশেঠের বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যের নিদর্শন পাওয়া যায় Kuthibariতে। এক সময়ে কাঠগোলাপ হতো বাগিচায়। আর এই কাঠ গোলাপ থেকেই Kathgola নাম। ১৮৭৩-এ জিয়াগঞ্জের ধনকুবের ধনপত সিং দুগার ও লক্ষ্মীপত সিংহ দুগার সুরম্য প্রাসাদের সাথে আদিনাথের মন্দির তৈরি করেন। সুন্দর তোরণ পার হতে উদ্যান ধরে পূর্বমুখী যেতে মনোহর নন্দনকাননে ৪ তলা প্রাসাদ। পাশ্চাত্যশৈলীর বিভিন্ন বিলাস সামগ্রী যাদুপুরি করে তুলেছে প্রাসাদকে। ঠিক তেমনই সুন্দর ১৭৮০তে মর্মরে তৈরি কারুকার্যমণ্ডিত আদিমহারাজ মন্দির। কাঠগোলা থেকে সামান্য ডাইনে ছোট ইমামবাড়া বা Hoseni Dalan। এ পথেই আর একটু এগিয়ে লালাজীর মন্দির।
আখড়ার সামান্য উত্তরে জগৎশেঠের বাড়ির কাছেই পানিপথ থেকে ব্যবসা করতে এসে ইংরেজ কোম্পানির রেভিন্যু কালেকটর হয়ে ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে প্রজা উৎপীড়নে কুখ্যাত কীর্তিচাঁদ বাহাদুরের তৈরি হাজারদুয়ারীর ছোট্ট সংস্করণ নসীপুর রাজপ্রাসাদ। দেবী সিংহর বাড়ি বলেও পরিচয় আছে। রাজবাড়িটি জীর্ণ হলেও হিন্দু-পুরাণের নানান দেব-দেবীর অবস্থানে দেবালয়ের রূপ নিয়েছে। নসীপুরের ঝুলনের সুনাম আছে। কিছুটা দুরে রামানুজ শাখার আখড়া মোহনদাসের আশ্রম। আরোও কিছুটা গিয়ে জাফরাগঞ্জ দেউড়ি বা ইতালীয় স্থাপত্যে তৈরি করা Nizamat Imambara. আলিবর্দীর ভগিনীপতি মিরজাফরের প্রাসাদ। একই চত্বরে মিরজাফরের ছেলে মিরনের বাড়ি। ১৭৫৭র ২রা জুলাই মাত্র ২০ বছর বয়সে সিরাজ-উদ-দৌল্লা খুন হন মহম্মদী বেগের হাতে এই বাড়িতে। বিধ্বস্ত বাড়িটি প্রাচীর ঘেরা অবস্থায় বোবা হয়ে দাঁড়িয়ে। আর সেই থেকে নাম হয়েছে জাফরাগঞ্জের Namak Haram Deorhi. সিরাজের বিরুদ্ধে চক্রান্তের নীল নকশাও তৈরি হয় এই বাড়িতে বা Namak Haram Deorhi । ব্রিটিশদের থেকে উপহার পাওয়া মিরজাফরের কামান দুটোও দেখে নেওয়া যায়  Nimak Haram
 চত্বরে। Chak Bazar এর পচ্শিমে মিরাজাফরের তৈরি Chak Masjid। ভাগীরথীর অন্য পাড়ে মোতিঝিলের সৌন্দর্যে ঈর্ষান্বিত সিরাজের গড়া বিলাসভবন Herajheel বা লালগড় প্রাসাদ ভাগীরথীর গ্রাসে বিধ্বস্ত হলেও পাথরে বাঁধানো Herajheelটি আজও অতীত রোমন্থন করায়।
আছে নবাবের প্লেজার গ্রাউন্ড রোশনিবাগ ডাহাপাড়ায়। দেউড়ির উল্টোদিকে হাজারদুয়ারীর থেকে দেড় কিমি উত্তরে Jafraganj Cemetery। মিরজাফর এবং তার বংশের ১১০০ সমাধি হয়েছে। গেট বরাবর শেষ পূর্ব থেকে তৃতীয় স্থানে শায়িত রয়েছে Mirzafor। মিরজাফরের বেগম বিবি মণি বেগম, বব্বু বেগভ সাজিদা নাসিন রাও শায়িত রয়েছে Jafraganj Cemeteryতে। কিছুটা দুরে মুর্শিদকুলী-কন্যা আজিমউন্নিষার সমাধি। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে কন্যাও সমাধিত হয়েছেন ১৭৩০-এ সোপানতলে। সুন্দর মসজিদ ছিল সেসময়ে যদিও ভাগীরথীর গ্রাসে সে মসজিদ। ৪টি তোরণের একটি অতীত স্মৃতি বহন করে আজও। দ্বিমতে, ব্যাভিচারের অপরাধে কলিজাখাকি(প্রতিদিন একটি শিশুর কলিজা খেতেন) আজিমউন্নিষাকে জীবন্ত সমাধিস্থ করেন স্বামী সুজা খাঁ। কিছুটা দুরেই Katra অর্থাত্ বাজার হাট ছিল একসময়। কাটরার পথে রেললাইন পার হলেই Kadamsarif। একসময় মহম্মদের পদচিহ্ন ছিল যা এখন গৌড়ে দেখা যায়। বসন্ত আলি খাঁ নামে ১৭৮২তে তৈরি কদমশরীফ বা মসজিদ। খোজার তৈরি অপরাধে Kadamsarif পরিত্যক্ত হলেও Kadamsarif এর গঠন শৈল চলার পথে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আরো কিছুটা দুরে দক্ষিণ দিকে ১৮৩১এ তৈরি বিনোদন মহল হুমায়ূন মঞ্জিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কোর্ট হাউস বসেছিল এখানে। আরো কিছুটা গিয়ে মুর্শিদাবাদ রেল স্টেশনের দেড় কিমি উত্তর-পূর্বে Katra Masjid। মক্কার কাবা মসজিদের অনুকরণে ১৭২৩-২৪ মুর্শিদকুলী খার তৈরি ৪০ গুন সাড়ে সাত মিটার ব্যাপ্ত সুন্দর কারুকার্যে শোভিত এই Katra Masjid। উপাদান এসেছে বিভিন্ন হিন্দু মন্দির থেকে। ৬৭ ধাপ উঠে ২২ মিটার উচু চার কোনে চারটির মধ্যে দুটি ধ্বংস হয়েছে অবশিষ্ট দুই মিনারে চড়ে চারিপাশের দৃশ্য দেখে নেওয়া যায় Katra Masjid থেকে। ৩টি ধ্বংস হয়ে ১৫ মিটার ব্যাসের ২টি গম্বুজ রয়েছে ছাঁদে। এর নির্মানশৈলি ভাবতেও বিস্ময় জাগে। কড়ি-বরগার ব্যবহার নেই খিলানযুক্ত কাটরা মসজিদে। ৭০০ কারী অর্থাত্ কোরান পাঠকের বসবাস ছিল। কালো পাথরের খিলানযুক্ত বিশাল প্রবেশদ্বারের মাথায় ইরানি ভাষায় লেখা। স্বর্গমর্ত্য উভয় লোকের যিনি গৌরব, আরবের মহম্মদের জয় হউক। যে ব্যক্তি তাহার দ্বারের ধূলি নহে, তাঁহার মস্তকে ধূলিবৃষ্টি হউক। একসময়ের চন্দ্রাতপটি লীন হলেও পূবের ১৪ ধাপের সোপানতলে সমাহিত রয়েছেন ১৭২৫-এ ইন্তেকাল হওয়া নবাব মুর্শিদকুলী খাঁ। ১৮৯৭-র ভূমিকম্পে ভীষন ক্ষতিগ্রস্ত হয় Katra Masjid। কাটরা মসজিদের পশ্চিমে রেল লাইনের ধারে ১৭৩৯-৪১-এ তৈরি কাটরার অনুকরণে সফররাজ খাঁর তৈরি Fut Masjid. কাটরা থেকে ১ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে গোবরানালার তীরে দেশের সুরক্ষার্থে গড়ে ওঠে দূর্গ তথা তোপখানা। নিদর্শন মেলে ১৬৩৭-এ অধুনা বাংলাদেশের ঢাকার জাহাঙ্গীর নগরের সুবেদার ইসলাম খাঁর নির্দেশে জনার্দন কর্মকারের তৈরি Jahan Kosa Cannon অর্থাত্ বিশ্বজয়ী কামান। ৫.৩৫ মিটার দীর্ঘ Jahan Kosaর বেড় ১.৩৫ মিটার। আর মুখের বেড় ৪৫.৫ সেমি এবং ওজন আট টনের মত। বারুদ লাগে ৩০ কিলো গোলা ছুঁড়তে প্রতিবারে Jahan Kosa Cannon থেকে। দেব জ্ঞানে পুজা করেন স্থানীয়রা Jahan Kosa কে। Hazarduari র ২ কিমি দক্ষিণে সদরঘাটে ভাগীরথী পার হয়ে দেড় কিমি দক্ষিণে যেতে নবাব পরিবারের সমাধিক্ষেত্র আনান্দের বাগিচা বা Khosbag। সুমধুর পরিবেশে  নবাব আলিবর্দি,  নবাব সিরাজ, বেগম লুৎ-ফা-উন্নেষা ছাড়াও নবাব পরিবারের বিভিন্নজন শান্তির ঘুমে সমাহিত khosbag-এ। রয়েছে জাতীয় বিশ্বাসঘাতক ব্রিটিশদের বিচারে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত সেই দানশা ফকির। যার ধৃষ্টতায় সিরাজ ধৃত হন রাজমহলে। যাত্রীনিবাস হয়েছে Khosbag-এ। কিছুটা দুরে বর্গীয় নেতা ভাস্কর পন্ডিতের তৈরি শ্বেতমর্মরে শিব মন্দির। রোশনিবাগ ফোয়ারা ও আলোর রোশনাইতে সুশোভিত উদ্যানের মাঝে ১৭৩০এ মসজিদ তৈরি করেন নবাব আলিবর্দি খাঁ। সমাহিত রয়েছেন সুজাউদ্দৌলা ছাড়াও নবাব পরিবারের বহুজন। সামান্য উত্তরে সুজার তৈরি ফর্হাবাগ বা সুখকাননটি আজ বিধ্বস্ত। দেখে নেওয়া যায় ১৭৯৯এ কলকাতা গেলেও রাজধানী মুর্শিদাবাদের শেষ নিদর্শন টাকশালের ধ্বংসস্তূপ। অদুরে ব্যান্ডেল-খাগড়া ঘাট-আজিমগঞ্জ শাখা রেলের লালবাগ কোর্ট স্টেশন। Hazarduari র থেকে ৩ আর লালবাগের ১ কিমি দক্ষিণে বহরমপুর সড়কে Perl Lake বা Motijheel। U আকারের হাঁসুলির মত ঝিল বা লেকের পাড়ে সুন্দর পরিবেশে সাংহীদালান বা ত্রিতল প্রাসাদটি তৈরি করেন আলিবর্দির জ্যেষ্ঠ জামাতা নওয়াসেজ মহম্মদ খাঁ। নওয়াজেসের মৃত্যুর পর বেগম মেহেরউন্নিষার বা ঘসেটি বেগমের প্রাসাদ হয় Motijheel। সেকালে মোতির চাষও হতো ঝিলে। পরবর্তীতে ব্রিটিশদের সঙ্গে যোগসাজশে নবাব সিরাজ বন্দি করেন মাসি মেহের-উন্নিষাকে। সিরাজের পতনের পর ১৭৬৫তে ক্লাইভের অভিষেক, আরোও পরে ইংরেজ রেসিডেন্সি বসে Motijheel-এর সাংহীদালান প্রাসাদে। ৭৫০ বিঘার রূপসী ঝিলটিও এঁদো পুকুরের রূপ নিয়েছে। আর আছে ঝিলের পাড়ে কালো মসজিদ ও দরজা-জানালাহীন স্তূপাকার কিংবদন্তি ঢিপি। জনশ্রুতি,  যক্ষের ধন আজও নাকি সঞ্চিত রয়েছে ঢিপিতে। উদ্ধারে গিয়ে রক্ত উঠে মৃত্যুও হয়েছে নাকি বহুজনের। সূর্যাস্ত সুন্দর দৃশ্যমান মোতিঝিলে।
ইতিহাসের মোতিঝিল পর্যটন মানচিত্রে না থাকলেও পর্যটন বিনোদনের নানান পসরা নিয়ে তৈরি করা ৩৩ বিঘার Motijheel Parkটিও যথেষ্ট সমাদৃত। মিউজিয়াম হয়েছে, টয়ট্রেন চলছে, বোটিংয়ের ব্যবস্থা আছে Motijheel park এ।

নবাবি মুর্শিদাবাদের স্বাধীনতার সূর্য অস্ত গেলেও পর্যটক প্রিয় Jay kali Temple রয়েছে ট্যুরিস্ট লজের সামনে জাতীয় সড়ক পার হয়ে উত্তর মুখি নতুন বাজারে। কষ্টিপাথরের সুন্দর মুর্তি হয়েছে দেবি মহিষমর্দিনীর Jay kali Mandir-এ। সেন আমলের দেবি এই দশভুজা। দশভুজা থেকে ১ কিমি উত্তর-পূর্বে চন্দ্রশেখর মুখার্জি রোডে ১৮ শতকের বুড়ো শিব মন্দিরটিও দেখে নেওয়া যেতে পারে। আরো উত্তরে Khagra Bazar.
Khagra-র দোকান থেকে কাঁসার বাসনপত্র, মুর্শিদাবাদের রেশমি পোষাক, সূক্ষ্ম কারুকার্যময় হাতির দাঁতের অলঙ্কার স্মারক রূপে সংগ্রহ করা যেতেই পারে। সরকারি সিল্ক রিসার্চ সেন্টারটিও ঘুরে দেখা যেতে পারে। বাজার ছাড়িয়ে আরোও উত্তরে মুর্শিদাবাদ বা হাজারদুয়ারীর পথে Saidabad. বহরমপুরের প্রাচীন জনপদ Saidabad। এক সময়ে ফরাসি উপনিবেশ ছিল Saidabad-এ। ডুপ্লেও বাস করে গেছেন কিছুদিন এই সৈদাবাদে। ইংরেজদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় হার এবং ১৮২৯এ সড়ক তৈরীর সময় ফরাসি উপনিবেশ বিলুপ্ত হলেও জায়গার নাম ফরাসডাঙ্গা আজও সাক্ষ্য বহন করছে। ১৬৬৫তে আর্মেনিয়ান বণিকদের আগমন ঘটেছিল Saidabad এ ফরাসডাঙার পূর্বে। তাদের তৈরি ১৭৫৮য় সুবৃহত্ আর্মানি গির্জা। সমাধিও রয়েছে গির্জার চত্বরে-আর্মেনিয়ান ভাষায় ফলকও দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া সৈদাবাদের রাজবাড়িটি বিধ্বস্ত হলেও সামনের খিলানের অভিনবত্ব আকর্ষণীয়। বিভিন্ন শিব মন্দিরও রয়েছে Saidabad-এ। রাজবাড়ির থেকে সামান্য উত্তরে পঞ্চমুখী শিব। উত্তর-পূর্বে মুর্শিদাবাদের বৃহত্তম চার-চালা শিব মন্দিরটিও অলংকরণে অভিনব।
সৈদাবাদ বাজার পার হলেই ডাইনে নবাব মিরজাফরের দেওয়ান নন্দকুমারের বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়ি Kunjaghata Rajbari। মিরজাফরের উমেদারিতে দিল্লীর বাদশাহ মহারাজ উপাধি প্রদান করেন নন্দকুমার কে। ১৭৭৫-এ নন্দকুমার কিছু সময় বসবাসও করেন Kunjaghata rajbari তে। নন্দকুমারের চিঠি, শাল, উত্তরীয়, অঙ্গবস্ত্র , বালাপোশ, তরবারি ছাড়াও বিভিন্ন কিছু প্রদর্শিত হয়েছে স্মারক রূপে Kunjaghata তে। আছে নন্দকুমারের উপহার পাওয়া চৈতন্যদেবের জীবদ্দশায় আঁকা তৈলচিত্র। প্রধান প্রাসাদটি বিধ্বস্ত হলেও সামনের দিক, দূর্গা দালান, শিব, লক্ষ্মীনারায়ণ ও বৃন্দাবনচন্দ্রর মন্দির তিনটি দেখে নেওয়া যায় Kunjaghata Rajbari তে।

Kasim Bazar:- বহরমপুর এবং মুর্শিদাবাদের মাঝখানে kasim bazar। সৈদাবাদের পূর্বদিকে Kasim Bazar Rail Station পার হয়ে উত্তরে যেতে কাশিমবাজার ছোট Rajbari, কাটরা মসজিদের অনুকরণে ১৮ শতকের প্রথম দিকে তৈরি এই মসজিদ, ১৭৮৮তে চটজলদি পথ সংযোগকারী কাটাখাল কাটিগঙ্গার কাছে দশ শিবমন্দির, রাজবাড়ির উত্তরে ভাগীরথীর মজে যাওয়া বাঁওড়ের কাছে রেসিডেন্সির ভগ্নাবশেষ এবং সমাধিক্ষেত্র, ১ কিমি দক্ষিণে মহারাজা মণীন্দ্র চন্দ্র নন্দীর Kasim Bazar Rajbari। পদ্মা, ভাগীরথী, জলঙ্গি দ্বারা বেষ্টিত এক সময়ের বন্দর নগরী কাশিমবাজার বা মাসুদা বাজার আজ পর্যটকদের কাছে উপেক্ষিত। রেশমের রমরমাও লোপ পেয়েছে। সেকালের ঘন সন্নিবিষ্ট বাড়ির একেরপর এক ছাঁদ ডিঙিয়ে ৮-১০ কিমি চলা যেত। ১৬৫৮য় জোব চার্নক ৩০০ টাকা বেতনে সহ-অধ্যক্ষের চাকরি করেন Kasim Bazar Kuthiতে। ১৭৫৬য় সিরাজ জয় করে নেন Kasimbazar। Kasim Bazar Rajbari-র ঠাকুর দালান ও দ্বিতীয় তলায় লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরটির অভিনবত্ব আছে। কারুকার্যমণ্ডিত ১০০ থাম ও ৫০ খিলানে শোভিত অলিন্দটি সুন্দর। টেরাকোটা ও পদ্মের অলঙ্করণও নান্দনিক। মহাজনটুলির নেমিনাথ জৈন মন্দির ২৪ জৈন তীর্থংকরের মুর্তি ও পদচিহ্ন আর একটি দর্শনীয় Kasim Bazar Rajbari তে।
এক সময়ের নীলকর সাহেবদের দৌরাত্ম্যে গঙ্গার পলি চাপা পড়লেও পঞ্চাননতলার অনন্য কারুকার্যমণ্ডিত নীলকুঠিতে বর্তমান জেলা পরিষদ বসেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রেপ্লিকা রূপে ১৮৪৫শে তৈরি করা বহরমপুর কলেজ। ১৯০২এ নবজাগরণের বিশিষ্ট নেতা ও সাংবাদিক কৃষ্ণ নাথ নন্দীর নামে নামান্তরিত কলেজ বাড়িটিও দেখে নেওয়া যেতে পারে। আবার ভাগীরথীর পাড়ে লালবাঁধ ধরেও ঘুরে নেওয়া যায় সকাল-সন্ধ্যা পায়ে পায়ে Baharampur। ভাদ্রমাসের শেষ বৃহস্পতিবার ১৬ থেকে ২৩টায় জলদেবতা খোঁজা ও খিজিরকে তুষ্ট করতে কলার ভেলা ভাসানো হয় ভাগীরথীর জলে। বর্ণাঢ্য, কারুকার্যমণ্ডিত, আলোক সজ্জিত রকমারি ভেলা দেখতে যাত্রিরা আসেন দূরদূরান্ত থেকে খোজা খিজির বা বেড়া উৎসবে। শুরু নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর আমল ১৭০৪-২৫ খ্রিস্টাব্দ, জৌলুস লোপ পেলেও মুর্শিদাবাদ ট্রাস্টির ব্যবস্থাপনায় আজও বেড়া উৎসব উদযাপিত হয়। মেলা বসে লালবাগের নবাব-প্রাসাদ চত্বর জুড়ে। মহরম আর এক বরণীয় উৎসব মুর্শিদাবাদের।

বহরমপুর ঘোরার জন্য টাঙা পাওয়া গেলেও অটো/রিকশাই ব্যবহার করা উচিত হবে। পয়েন্ট ও দিন অনুসারে ভাড়া নির্ধারণ করে এরা। সকাল সাতটায় বের হয়ে বিকেল পাঁচটায় শেষ করা যায় ঘোরা Baharampur/Murshidabad/Kasim Bazar।

শুধু নবাবি Murshidabad Tour ঘন্টা পাঁচেকে শেষ করা যেতে পারেই। এ ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদ রেল স্টেশন নেমে যাওয়াই সঠিক হবে। সময়-অর্থ-দুরত্ব তিনের সাশ্রয় হবে।
====================================================================
হাজারদুয়ারীর ১ কিমি উত্তরে ডাহাপাড়া ঘাট থেকে ফেরি পার হয়ে রিকশায় বা হেঁটেহেঁটেই শ্রীজগদ্বন্ধু ধাম ও মুর্শিদাবাদ জেলার প্রাচীনতম মন্দির Kiriteswari Temple দেখে ফেরা যেতে পারে বহরমপুর। ট্রেন যাচ্ছে BAK লুপ লাইনে খাগড়াঘাট রোড রেল স্টেশন থেকে লালবাগ/ডাহাপাড়া ধাম হয়ে আজিমগঞ্জ। ডাহাপাড়া ধাম হল্ট রেল স্টেশন থেকে ৫ কিমি দুরে Kiriteswari Mandir। সতীর কিরীটি বা মুকুট পড়ে Kiriteswari তে। সতীপীঠ বলে খ্যাত হলেও উপপীঠও বলে লোকে। হিন্দু পুণ্য তীর্থ এই মন্দিরে দেবী জাগ্রত, ভৈরব যাঁর সংবর্ত। এর অতীতের নাম ছিল কীরিটকণা, ১৭২ টি শিবমন্দির তৈরি হয়েছিল সে সময়ে। ১৪০৫-এ মুল মন্দিরটি ধ্বংস হলেও কারুকার্যমণ্ডিত প্রস্তর বেদীটি এখন অতীত সাক্ষ্য বহন করে। বর্তমান Kiriteswari Mandir টি ১৮ শতকে বঙ্গাধিকারী দর্পনারায়ণ রায়ের তৈরি। দেবীর কোনো মুর্তি নেই কিরীটি পূজিত হতো মন্দিরে। কিরীটি স্থানান্তরিত হয়েছে পথের বিপরীতে রাণী ভবানীর তৈরি গুপ্ত মঠে। সয়ের-উল-মুতাক্ষারিনে উল্লেখ পাওয়া যায় কুষ্ঠরোগ গ্রস্ত মিরজাফর জ্বালা জুড়াতে দেবীর চরণামৃত পাণ করেছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ রয়েজে, রয়েছে দেবদেবীর ভাঙা মুর্তি কালিসায়র দীঘির পাড়ে Kiriteswari Temple চত্বর জুড়ে। যাত্রীরা সব থেকে বেশি আসেন পৌষ মাসের প্রতি মঙ্গলবার। ৪ কিমি দুরে Dahaparaয় শ্রীজগদ্বন্ধু ধামের ভক্তাবাসে থাকার ব্যবস্থা আছে। পরম বৈষ্ণব জগদ্বন্ধু সুন্দরের জন্মও ডাহাপাড়ায়। বৈশাখ মাসে প্রভুর জন্মোৎসব জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব হয় Dahapara Dham এ। আবার Dahapara Dham থেকে ট্রেনে খাগড়া ঘাট অথবা আজিমগঞ্জও যাওয়া যেতে পারে বড়নগর দর্শনে। আজিমগঞ্জ থেকে রিকশায় ঘুরে নেওয়া যায় Dahapara Dham। তেমনি খোশবাগ সফরেও রিকশায় দেখে নেওয়া যায় ডাহাপাড়ার আশ্রম ও মন্দির। ডাহাপাড়ার আর এক অতীত সুজা খাঁর তৈরি করা ফর্হাবাগ বা সুখকানন। অতীতে স্বর্ণমুদ্রা তৈরি হতো ডাহাপাড়ায়, যার নিদর্শন আজও ভাগীরথীর তীরে ভগ্নগৃহে পাওয়া যায় Dahapara-য়।

Karnasubarna:- বহরমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে সালারের দিকের বাসে গঙ্গা পার হয়ে ১১ কিমি গিয়ে রাঙামাটি বা গৌড়েশ্বর শশাঙ্কের রাজধানী ৭ শতকের কিংবদন্তীতে মোড়া অতীতের Karnasubarna ঘুরে নিতেও পারেন। তবে এই প্রত্নভূমি কর্ণসুবর্ণের গড় আজ ভূমিক্ষয়ে বিপন্ন। বুদ্বও এক সপ্তাহ অবস্থান করেন Karnasubarna-এ, স্মারক রূপে তৈরি হয় বৌদ্ধবিহার, সংঘারাম ও মন্দির। বৌদ্ধবিহার কে বরণীয় করে তুলতে স্তুপ গড়েন সম্রাট অশোক। এমনকি ভারতের প্রাচীনতম বৌদ্ধ মুর্তি পাওয়া গেছে Karnasubarna থেকে। কর্ণসুবর্ণে থাকার ব্যবস্থা নেই, ঘোরা শেষে বহরমপুর ফিরতে হবে। প্যাসেঞ্জার ট্রেন যাচ্ছে খাগড়া ঘাট রোড স্টেশন থেকে ১৩ কিমি দুরের Karnasubarna Station। হাওড়া থেকেও ট্রেন আসছে BAK লুপ লাইনে ব্যান্ডেল/কাটোয়া হয়ে ১৯৩ কিমি দুরের কর্ণসুবর্ণে।
রেল স্টেশন থেকে দেড় কিমি হাঁটা পথে ৬ থেকে ৮ মিটার উঁচু ঢিপির নীচে ১৯৬২তে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে খননে আবিষ্কার হয়েছে সৌধ, দেবালয়, সিঁড়ি,  স্তূপ, ইঁদারা ছাড়াও খ্রীস্টীয় ২ থেকে ১৩ শতকের নানান কিছু। বৌদ্ধবিহারের মধ্যে রক্তমৃত্তিকা ছিল সবচেয়ে খ্যাত। ৭৭ বর্গ কিমি জুড়ে বাকহারা অতীতের সঠিক নির্ণয় সম্ভব না হলেও রাজবাড়ি-ভাঙার পরিখাবেষ্টিত দেওয়ালে ঘেরা রক্তমৃত্তিকা বৌদ্ধ-বিহারটি শশাঙ্কর রাজধানী Karnasubarna-র অংশবিশেষ বলে বিধান মিলেছে। অদূরে রাক্ষসডাঙা। যাতায়াতের সুব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় পর্যটন মানচিত্রে আজও অবহেলিত কর্ণসুবর্ণ। আবার খাগড়া ঘাট রোড স্টেশন থেকে ট্রেনে আজিমগঞ্জ সিটি পৌঁছে মাইল খানেকের হাঁটা পথে গঙ্গার তীরে বাংলার কাশী বড়নগরের মন্দিররাজি দেখে নিতে পারেন। ১৮ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে নাটোরের রাণী রামকান্তর পত্নী ভবানীর ১৭১৪-৯৩-এর হাতে মন্দিরের পর মন্দির গড়ে ওঠে নাটোর রাজপরিবারের গঙ্গাবাস বড়নগরে। বঙ্গেশ্বরীর ইচ্ছে ছিল কাশীধামের মত করে বড়নগরকে গড়ে তোলা। সামনে ভাগীরথী, ওপারে মুর্শিদাবাদ, বড়নগরও ছিল বিশাল গঞ্জ সে সময়ে।
আধা কিমি জুড়ে ডজনখানেক মন্দিরের টেম্পল কমপ্লেক্স Baranagar। চলার পথে দক্ষিনে এক বাংলা পঞ্চানন শিব। শিবঠাকুরের এখানে মুর্তিতে পাঁচটি আনন। খিলানে পোড়ামাটির কাজ। উত্তর দিকে সামান্য গিয়ে ২৮৬০এ তৈরি চারবাংলা মন্দির। তিন খিলানযুক্ত প্রবেশ পথে চতুষ্কোণ চত্বরের চারপাশে চার মন্দির দেড় মিটার উঁচু ভিতের উপরে মুখোমুখি অবস্থানে। দেবতা শিবঠাকুর, প্রতিটা মন্দিরে তিন জনা। টেরাকোটার মন্দির,  অলঙ্করণেও বৈচিত আছে। রামায়ণ মহাভারত সহ নানান পৌরাণিক আখ্যান মুর্ত হয়েছে চারবাংলার ভাস্কর্যে।
এদেরই উ-পচ্শিমে অষ্টোকণী ভবানীশ্বর শিব মন্দির। মুর্শিদাবাদের নিজিস্ব শৈলিতে ১৭৫৫য় রাণী ভবানীর অনন্য কীর্তি এই ভবানীশ্বর। পঙ্খের কাজ অনবদ্য। ১৮ মিটার উঁচু মন্দিরের ছাঁদের গম্বুজটি যেন উল্টানো কমল। তার মাথায় পদ্মের পাপড়ি ৮ দিকে বিকশিত। আটটি প্রবেশ দ্বারও এর। ভাস্কর্য মন্দিরকে ঘিরে বারান্দা হয়েছে চারপাশে। কিছুটা দুরে পথের বাঁকে রাণী ভবানীর মেয়ে তারাসুন্দরীর তৈরি গোপাল মন্দিরটি আজ দীর্ণ। দেবতারা স্থানান্তরিত হয়েছে রাজবাড়ীতে। দু'পাশে ভাঙা দুই শিবমন্দির। এদেরি বামে রাণী ভবানীর রাজরাজেশ্বরী মন্দির। অনাড়ম্বর মন্দিরে অষ্টধাতুর মূর্তি হয়েছে পুত্র-কন্যাসহ দশভুজা মহিষমর্দিনী দুর্গার। এছাড়া দেবতা রয়েছেন দারুনির্মিত মদনগোপাল, জয়দুর্গা, করুণাময়ী মহালক্ষী, ঘোড়ার মতো গ্রীবাযুক্ত বিষ্ণু রাজরাজেশ্বরী মন্দিরে। সামান্য উত্তরে অতীতের রাজবাড়ীটি আজ বিধ্বস্ত। এই বাড়িতেই ৭৮ বছর বয়সে ১৭৯৫ খ্রিস্টাব্দে তিরোধান ঘটে রাণী ভবানীর। বসবাস করছেন রাজপরিবারে উত্তরসূরিরা আংশিক সংস্কার করে রাজবাড়ীতে। তৈলচিত্রে রাজপরিবারে বংশ পরম্পরাও দেখে নেওয়া যায়। রাজবাড়ী রেখে আরোও উত্তর দিকে যেতে বড়নগরের নিজিস্ব দেবতা অষ্টভূজ গণেশ মন্দির, জোড়বাংলা শিব মন্দির। টেরাকোটার কাজ খুবই সুন্দর। আরও উত্তরে রাণী ভবানীর গুরুবংশের মঠবাড়ি। বিপরীতে জোড়বাংলা। টেলাকোটায় সমৃদ্ধ গঙ্গেশ্বর শিব মন্দির। রাণীর মা কস্তুরীদেবী প্রতিষ্ঠিত কস্তুরীশ্বর শিবও রয়েছেন গঙ্গেশ্বর চত্বরে। আরও উত্তরে দেবতার অবর্তমানে টেরাকোটার সমৃদ্ধ নাগেশ্বর মন্দিরটিও সুন্দর। মন্দিরের শেষ নেই বড়নগরে।

How to go Murshidabad :-
ভাগীরথী এক্সপ্রেস শিয়ালদহ ছেড়ে বহরমপুর কোর্ট/মুর্শিদাবাদ পৌঁছে লালগোলা যাচ্ছে। লালগোলা প্যাসেঞ্জারে ঘন্টা পাঁচেকে বহরমপুর। এছাড়া চিৎপুর ছেড়ে বহরমপুর/মুর্শিদাবাদ হয়ে লালগোলা। যাচ্ছে রাণাঘাট-লালগোলা প্যাসেঞ্জারও। শহীদ মিনার থেকে CSTC এবং NBCTC সহ প্রাইভেট বাস যাচ্ছে। হাওড়া স্টেশন থেকে প্রাইভেট বাস যাচ্ছে বহরমপুর। যাচ্ছে SBSTC-র দূর্গাপুর-লালগোলা, দূর্গাপুর-শিকারপুর, দূর্গাপুর-বহরমপুর ছাড়াও উত্তরবঙ্গমুখি NBSTC, CSTC, SBSTC ও প্রাইভেট বাস বহরমপুর হয়ে।

Hotels in Murshidabad :-
There are some Information of Murshidabad Hotels and Murshidabad hotels phone numbers for further Information contact them.

WBTDC-র ট্যুরিস্ট লজ, Phone:- 03482-259711/9732510031. Tourism Centre, Phone:- 033-22436440/22488271. Smart hotel, Phone:- 03482-251147. Baharampur Lodge, Phone:- 03482-252952/250500. Sirajbag, Phone:- 03482-200614/23554931. White House Hotel, phone:-03482-259264/258689. Manjusha Hotel, Phone:- 03482-270321. Anurag Hotel, Phone:- 03482-270629. Yatrik Hotel, Phone:- 03482-270830. Sagnik Hotel, Phone:- 03482-270051/271492. Youth Hostel, Phone:- 22480626. Natalie Abash, Phone:- 03482-270232.

শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

Bethuadahari : Bethuadahari tour plan/ বেথুয়াডহরি ভ্রমণ।

Bethuadahari :- 
Bethuadahari নামে Wildlife Sanctuary হলেও আসলে এটি একটি Deer Park। ১৬৫ একর এলাকা জুড়ে টিক, অর্জুন, সেগুন, শিরীষ, বাবলা, শিশু, মেহগনি, শেওড়া, ভাঁটের বনভূমিতে আড়াইশোর মত হরিণের বসবাস Bethuadahari তে। শিংহেল হরিণ, চিতল হরিণ ছাড়াও রয়েছে দেশি খরখোশ, বনবিড়াল, হনুমান ও শম্বর Bethuadahari Wildlife Sanctuary তে। বর্ষায় সাপেদেরও দেখতে পাওয়া যায় অভয়ারণ্যে। মিনি চিড়িয়াখানা ও প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রও হয়েছে Bethuadahari-তে। পায়ে পায়ে পুরো করা যায় বনভ্রমণ।

Where is Bethuadahari :- 
নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে অবস্থিত Bethuadahari। Krisnanagar থেকে বহরমপুরের পথে Bethuadahari Rail Station, দুরত্ব ২৮ কিমি। কলকাতা থেকে সড়ক দুরত্ব ১৪৮ কিমি এবং রেল দুরত্ব ১২৮ কিমি Bethuadahari র।


 How to go Bethuadahari :-

ভাগীরথী এক্সপ্রেস, লালগোলা প্যাসেঞ্জার শিয়ালদহ থেকে এবং কলকাতা চিৎপুর ছেড়ে কৃষ্ণনগর হয়ে সাড়ে তিন ঘন্টায় বেথুয়াডহরি যাচ্ছে। বাস যাচ্ছে কলকাতা থেকে CSTC, SBSTC, NBSTC, Private-পলাশী, বহরমপুর ছাড়াও উত্তর বঙ্গের দিগ্বিদিকের জাতীয় সড়ক ৩৪ ধরে বেথুয়াডহরি হয়ে। কৃষ্ণনগর থেকেও সরকারি বেসরকারি বাস যাচ্ছে বেথুয়াডহরি ঘন্টা দেড়েকে। রেল স্টেশন থেকে ১ কিমি দুরে NH34 এ বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্য। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টে পর্যন্ত বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্য খোলা থাকে।

Hotels in Bethuadahari :-
There are some Information about Bethuadahari Accommodation, if You need accommodation or Bethuadahari Hotels contact by this Information.

চন্দ্রালোকিত জ্যোৎস্নায় রেস্টহাউসের দরজায় হরিণের যাওয়া আসা শিহরণ তোলে দেহমনে। সকাল ৭ টায় এবং বিকাল ৩টেয় হরিণের খাবার খেতে আসার দৃশ্যও চমকিত করে। গ্রীষ্মকাল বাদে যে কোনো ছুটির দিনে ঘুরে আসুন বেথুয়াডহরি।  থাকার জন্য জাতীয় সড়কের ধারে বেদুইন আর আধা কিমি ভিতরে কটেজ আছে। খাবারের ব্যবস্থা নিজ উদ্যোগে করতে হয়। ২ নম্বর রেস্ট হাউসটি থাকার জন্য বেছে নেওয়া উচিত হবে, যোগাযোগ:- DFO, Nadia-Murshidabad Division, Krisnanagar, Nadia, Fax:- 03472-252362. ডে-সেন্টার হয়েছে জাতীয় সড়কে WBTDC-র আহার্য পাওয়া যায়। এছাড়া স্টেশনের কাছে জলযোগ বা ডলফিন বেছে নিতেই পারেন।

শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

Mayapur /Mayapur mandir tourist spots / মায়াপুর ভ্রমণ

History of Mayapur :-
এক সময়ের মিয়াপুর আজ Mayapur হয়ে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে নিজিস্ব জায়গা করে নিয়েছে। ৫০০ বছর আগে অদ্বৈত আচার্যের কঠিন তপস্যায় ফলে মহাপ্রভু এই ধরণীতে নেমে আসেন এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রূপে মায়াপুরে জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মস্থানে শ্রীশ্রী যোগপীঠ মন্দির তৈরি হয়েছে। মতবিরোধও আছে সেই সময়ের আর বর্তমানের Mayapur -এর অবস্থান এবং শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মভূমি নিয়ে। বৈষ্ণব শাস্ত্রানুসারে গঙ্গার পূর্ব পাড়েই Nabadwip এর অবস্থান ছিল। মায়াপুরের প্রধান দ্রষ্টব্য  ISCON-এর তৈরি চন্দ্রোদয় মন্দির। বিশাল এলাকা নিয়ে কর্মযজ্ঞ চলছে International Society for Krishna Consciousness বা ISCON-এর। ঢুকেই ডাইনে প্রভুপাদের সমাধি মন্দির। ১৪ বছর ধরে ১০ কোটি টাকারও বেশি ব্যায়ে ইস্কনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল প্রভুপাদের জন্মশতবার্ষিকীতে তৈরি করা ভক্তিবেদান্ত স্বামী স্মৃতিমন্দির। মনোহর বাগিচা পার হয়ে চন্দ্রোদয়ে মূর্তিতে শ্রীকৃষ্ণ আলেখ্য প্রদর্শিত হয়েছে।

Worshiping time of Mayapur :- 

৪-৩০ শে মঙ্গল আরতি, ৭-১৫ দর্শন আরতি, ৮-০০ ভাগবত পাঠ, ১২-০০ ভোগ আরতি, ৪-০০ ধূপ আরতি, ৬-০০ সন্ধ্যা আরতি, ৭-৩০ শে ভগবত গীতা পাঠ, ৮-১৫ শয়ন আরতি।

Places to visits in Mayapur :- 
বিভিন্ন রকমের প্রসাদ কিনতে পাওয়া যায় Mayapur-এ পুজার জন্য চন্দ্রোদয় মন্দিরে। কাছেই বিশ্ব প্রদর্শনী-ম্যাজিক আয়নায় কিম্ভুতকিমাকার নিজের প্রতিবিম্ব দেখা যায়। রয়েছে ভক্তি সারঙ্গ গোস্বামী মহারাজা মঠ; জন্মভিটা তথা শ্রী মন্দির; খোলভাঙায় শ্রীবাস অঙ্গন; অদ্বৈত ভবন; ২৯ চুড়ার শ্রীচৈতন্য মঠ, বিপরীতে পুণ্যিপুকুর শ্যামকুণ্ড; শ্রীচৈতন্য মঠ, একই চত্বরে রাধাকুণ্ড, গোবর্ধন, তমাল বক্ষ, চৈতন্যলীলার প্রদর্শনালয় মাসি-মেসোর মন্দির। কিছুটা দুরে বামুনপুকুরে চাঁদকাজীর বা মৌলানা সিরাজুদ্দিনের সমাধি পীঠ এবং ৫০০ বছরের গোলকচাঁপা ফুলগাছটিও দেখে নেওয়া যায় Mayapur-এ।
জনশ্রুতি, চাঁদকাজী প্রবল বিরোধী ছিলেন শ্রীচৈতন্যর এবং নগরে নামকীর্তনও বন্ধ করেন কাজী। নিষেধাজ্ঞা না মেনে মশাল মিছিল সহ সংকীর্তন শোভাযাত্রা নিয়ে কাজীর বাড়ি যান শ্রীচৈতন্য। যুক্তি তর্কে পরাজিত হয়ে ভক্ত হন কাজীসাহেব। সমাধি পীঠের আধা কিমি দুরে বাজারের পেছনে আর এক ইতিহাস, বল্লাল সেনের ৪০০ ফুট লম্বা, ৩০ ফুট উঁচু ঢিপিটিও দেখে নিতে পারেন আগ্রহীরা। মাটি খুঁড়ে প্রাসাদপুরি পাওয়া গেছে বল্লাল সেনের। চন্দ্রোদয় মন্দির ১টায় বন্ধ হলেও Mayapur-এর অন্যান্য মন্দির ১২ টা থেকে ৪টে পর্যন্ত বন্ধ থাকে। চন্দ্রোদয় থেকে ৩ কিমির মধ্যে সব গুলো মন্দিরই রয়েছে। হেঁটে বা রিক্সা ভাড়া করে ঘুরে নেওয়া যায় Mayapur.

Hotels in Mayapur :-
There are some Information about Mayapur Hotels and Mayapur hotels contact number.
থাকার জন্য ISCON এর চারটি বাড়ি আছে চন্দ্রোদয়ের ডান দিকে শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম নামে। শঙ্খে VIP, পদ্মে Life members, চক্রে General এবং গদায় ডর্মি প্রথায় থাকার ব্যবস্থা। রিসেপশন থেকে থাকা ও খাওয়ার বুকিং করতে হয়। এছাড়া খাবার পাওয়া যায় ক্যান্টিন থেকে লাঞ্চ ৩০ থেকে ১০০ এবং ডিনার ৪০ থেকে ১০০টাকা। জনতা প্রসাদ পাওয়া যায় গেটের দক্ষিণ দিকে দুপুরে। নিরামিষ পিৎজার স্বাদ নেওয়া যেতে পারে এদের শ্রী কৃষ্ণ ক্যান্টিনে। ISCON, Mayapur, Phone:- 03472-245250/64588777.
এছাড়া আছে শ্রী চৈতন্য গৌড়ীয় মঠ, অকিঞ্চন কুটীর যাত্রি নিবাস, বিড়লা গেস্টহাউস মায়াপুরে। নামহট্ট ভবনের কন্টাক্ট নম্বর 034-722-45305। চৈতন্যভবনে ও নিত্যানন্দ কুটিরেও থাকা যেতে পারে। মায়াপুরের মূল চারটি ভবন, চৈতন্যভবন ও নিত্যানন্দ কুটির গদাভবনের ফার্স্ট  ফ্লোরের রিসেপশন থেকে এই ফোন নম্বরে 03472-245620  বুকিং করা যায়। ইস্কন কমপ্লেক্সের বাইরে কিছু হোটেল থাকলেও সেগুলোতে পরিবার সহ থাকা অসম্ভব। বাইরে থাকার খুব প্রয়োজন হলে নবদ্বীপে থাকা যেতে পারে।

How to go Mayapur :-
শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে কাটোয়া লোকালে বিষ্ণুপ্রিয়া হল্টে এসে নামুন এবং সেখান থেকে টোটো করে গঙ্গার ঘাট গিয়ে গঙ্গার ঘাট থেকে নৌকাতে বা লঞ্চে করে মায়াপুর ঘাটে গিয়ে মায়াপুর ঘাট থেকে হেঁটে বা টোটো করে মায়াপুর ইস্কনের মন্দির। ট্রেন-হাওড়া থেকে ব্যান্ডেল-কাটোয়া-আজিমগঞ্জ-বারহাড়োয়া (BAK) লুপ লাইনের নবদ্বীপ ধাম; নদীপারে মায়াপুর। EMU Local-ও চলছে হাওড়া/ব্যান্ডেল থেকে নবদ্বীপধাম হয়ে কাটোয়া।

How to go Mayapur for Krisnanagar :-

Krisnanagar থেকে সরাসরি ধুবুলিয়া হয়ে ঘন্টা দেড়েকে বাস বা মিনিবাস যাচ্ছে Mayapur.
শিয়ালদহ থেকে সকালের দিকে কৃষ্ণনগর লোকাল ধরে কৃষ্ণনগর এসে নামুন। কৃষ্ণনগর থেকে বাস, অটো, টোটো করে নবদ্বীপ ঘাটে এসে নদী পার হোয়ে টোটোতে বা পায়ে হেঁটে মায়াপুর ইস্কনের মন্দির। কৃষ্ণনগর থেকে বাসে নবদ্বীপ পৌঁছে বড়াল ঘাট থেকে ভাগীরথী পার হয়ে যাওয়া যেতে পারে হুলোর ঘাট অর্থাত্ শ্রীধাম মায়াপুর।

How to go Mayapur by Bus :-
CSTC-র বাস যাচ্ছে সাড়ে ছয় ঘন্টায় কলকাতার শহীদ মিনার থেকে সকাল ৬টা এবং ২-৪৫ মিনিটে ছেড়ে বারাসাত/কৃষ্ণনগর হয়ে। ফেরে সকাল ৬টা এবং ১০টায় মায়াপুর থেকে। NBSTC-র বাস ৭টায় কলকাতা ছেড়ে কৃষ্ণনগর হয়ে মায়াপুর যাচ্ছে। এছাড়া ISCON, ২২ গুরুসদয় দত্ত রোড, কলকাতা ১৯ ফোন:- ৩২৪৮৮০৪১-এর বাস যাচ্ছে প্রতিদিন সকাল ৬টা এবং ৮-৩০শে প্রসাদ সহ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচে।

Places to visits in Mayapur :-

পাখিপ্রেমিরা ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত  মায়াপুর থেকে ২ কিমি দুরে জলপথে গিয়ে গঙ্গার চরে Sankarpur-এ পরিযায়ী পাখির মেলা দেখে নিতে পারেন। আবার শিয়ালদহ-কাটোয়া লোকাল অথবা হাওড়া-কাটোয়া লোকালে সকালে পূর্বস্থলী পৌঁছে, রিকশায় চুপিরঘাট গিয়ে নৌকায় করে যেতে পারেন River Sanctuary Sankarpur। গঙ্গার অন্য পাড়ে বর্ধমান জেলার কাষ্টশালী। পূর্বস্থলী থেকে ফেরার ট্রেন ৩-৩৩ এ কাটোয়া-হাওড়া,  ৪-২৭শে কাটোয়া-শিয়ালদহ,  ৬টা, ৭-১৭, ৮-৩১শে কাটোয়া-ব্যান্ডেল লোকাল, ৮-৫৫য় আজিমগঞ্জ-হাওড়া প্যাসেঞ্জার।

বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

Jhargram : Jhargram Tourist Spots / ঝাড়গ্রাম ভ্রমণ গাইড

Jhargram :- 
শাল, পিয়াশাল, শিমুল, জারুল, মহুয়া শোভিত প্রকৃতির সাজঘর Jhargram. Jhargram এর লাল কাঁকুরে পথঘাটের ঘা ঘেঁষে শাল-পিয়াল-আকাশমণি-সোনাঝুরি সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে। তার ফাঁকফোকরে বসতি। জলবায়ু স্বাস্থ্যকর এবং এখানের জল পেটের সমস্যায় উপাদেয়। গ্রীষ্মকালে মহুয়ার মোহমায়া এবং বর্ষায় ঝরঝর বাদল তান ধরে শালের মঞ্জুরিতে। Jhargram Rail Station থেকে ৩ কিমি দুরে Jhargram Palace বা চক মিলানো রাজার বাড়ি। বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেখে নেওয়া যায় Jhargram Rajbari । আছে লোকেশ্বর বিষ্ণু-চতুর্মুখ শিব-মনসা দেবীর মন্দিরও। অদূরে কিংবদন্তি খ্যাত সবিতার দাসী সাবিত্রী মন্দির। একসময় মন্দিরটি ছিল পাথরের বর্তমান মন্দিরটি তৈরি ১৯২০ সালে। মানবী দেবি সবিতার কেশ ও খড়্গ পুজা হচ্ছে এখনো পেটিকায়। মূর্তি হয়েছে চন্দন ও সিঁদুরে। সকাল ৯টা থেকে ১২ টা এবং সূর্যাস্ত থেকে ২ ঘন্টা খোলা থাকে মন্দির। শহর থেকে ৩ কিমি দুরে Jhargram Deer Park ৩৪.৫ হেক্টর জুড়ে ১৯৮৬তে তৈরি হয়েছে। বিশাল এক দীঘিকে কেন্দ্র করে মনোরম পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে এই park টি। আছে রঘুনাথ পুরের রাস্তায় আদিবাসী সংস্কৃতি পরিষদ। রাধানগরে ১০০ একর কেচেন্দা বাঁধ বা রাজবাঁধ ঝাড়গ্রামের রাজা বিক্রমজিৎ মল্ল উগাল দেবের খনন করা। এর সামনে সেবায়তন। চলার পথে আরো একটি দিঘি মেলাবাঁধ।

Jangalmahal:- লোধাশুলির ৫ কিমি, Jhargram Rail Station থেকে ১০ কিমি দূূরে Jangalmahal. আড়িয়াদহের অজয় ঘোষাল মহাশয়ের শখ ও স্বপ্ন সার্থক রূপরেখা পেয়েছে ২০ বিঘা বিস্তৃত Jangalmahal Horticulture তথা Botanical Garden এ। কালো গোলাপ, ক্যাকটাস, অর্কিড, জীবজন্তু, ফুলফলের গাছগাছালিতে ভরা Jangalmahal এখন ঝাড়গ্রামের এক অন্যতম দ্রষ্টব্য। সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত এবং বিকাল ২ টো থেকে সন্ধ্যা ৫ টা পর্যন্ত Jangalmahal খোলা থাকে এবং 
আগস্ট মাসে সকাল ৮ টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এবং ৩টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে Jangalmahal. এ রাস্তাতেই পড়ে মহারাজা উদ্যান বাটী। জঙ্গলের আদিমতা কে অক্ষুণ্ণ রেখে ৪০ বিঘা বিস্তৃত Maharaja Udyanbati তৈরী হয়েছে প্রকৃতি প্রেমিদের জন্য। গেস্টহাউস পার হতেই গড় salboni Forest. মল্লরাজাদের কীর্তি কলাপে সমৃদ্ধ বিশাল শালের গড়। গভীর জঙ্গলের ৩ কিমি ভিতরে লোধা উপজাতির বসবাস।
শহর থেকে সিটি বাস ও অটোরিকশায় যাওয়া যায় Jangalmahal.

Chilkigarh:- Chilkigarh বিখ্যাত গড়  জঙ্গলমহলের দূর্গ এবং মন্দিরের জন্য। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম গণবিদ্রোহ চুয়াড় বিদ্রোহে শামিল হন রাজা। রজক অর্থাত্ ধবলদের হারিয়ে ধবলদেব উপাধিধারী ধলভূম রাজাদের Rajbari ডুলুং নদী পার হয়ে এই Chilkigarh এ। পথ থেকে সরে প্রকৃতির যাদুঘরে অতীতের পঞ্চরত্ন মন্দিরটি পরিত্যক্ত হওয়ার পরে নতুন করে মন্দির হয়েছে।১৩৪৮-এ গড় জঙ্গলের মধ্যে পিঢ় রীতিতে অশ্বারূঢ়া, ত্রিনয়নী, চতুর্ভুজা, অষ্টধাতুর জাগ্রতা শাক্তদেবি কনকদূর্গার Kanakdurga Mandir. দুর অতীতে সোনার দূর্গা কে লুঠ করেন ভাস্কর পন্ডিত। অতীতে প্রতি অমাবস্যায় নরবলি হতো আজ নবমীতে ছাগল ও মহিষবলি হয় Kanakdurga Temple এ। অরণ্য চিরে নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে ডুলুং নদী। যাতায়াতের রাস্তায় শীতের সময় জামবনির কাছে কেন্দুয়া গ্রামে পরিযায়ী পাখিদের রোজনামচা দেখে নেওয়া যায়। 
জঙ্গলমহল থেকে সরাসরি বাস পাওয়া না গেলে ঝাড়গ্রাম থেকে চিল্কীগড়/গিধনিমুখি বাসে জঙ্গলমহলের রাস্তায় ২ কিমি এসে, ডান দিকে ১১ কিমি গিয়ে জামবনি রেখে আরোও ৫ কিমি গিয়ে Chilkigarh.

Gidhni:-  মন্দির রেখে  Rajbari দেখে আরো ৬ কিমি গিয়ে Gidhni. ট্রেনে Jhargram Station এর পরের স্টেশন Gidhni Station. হাওড়া থেকে ১৭০ কিমি দুরে পচ্শিমবঙ্গের প্রান্তসীমা Gidhni. আকাশে-বাতাসে ঝাড়খণ্ডের গন্ধে মিশে, শালবন চিরে পথ চলে ডুলুং নদী। Gidhni-এর প্রকৃতি আপন মহিমায় সমুজ্জ্বল। মেটে বাড়িঘর, রাঙাপথের বাঁকে বাঁকে ছোট্ট ছোট্ট গ্রামে পুটুশ, বনতুলসী, কুসুম, মহুয়া বনে মুণ্ডা, সাঁওতাল, মহালি, শবরদের বসবাস। ১৯৫৫-এর ১লা এপ্রিল ২২ হেক্টর Gidhni Forest ৩টি বিটে ভাগ হয়ে নাম হয়েছে আমতোলিয়া, কানাইসোল আর গদরাসোল। গিধনি থেকে ১ কিমি দুরে কানাইসোল, নীল আকাশের গায়ে সারস, টিয়া, শালিকের কোলাজ। Kanaisol Banglo র কাছেই একদিকে পারিহাটি অন্যদিকে Chilkigarh. কিছুটা দুরে Dalmapahar থেকে ভাল্লুক, হাতি, হায়নারা অভিসারে নামে।

Belpahari:- ঝাড়গ্রাম থেকে ৪৫ কিমি দুরে শালে ছাওয়া, টিলা টিলা সুন্দর পাহাড়ি অধিত্যাকায় আদিবাসী অধ্যুষিত Belpahari Village. সরাসরি বাস পাওয়া যায় ঝাড়গ্রাম/মেদিনীপুর ছাড়াও বিভিন্ন দিক থেকে বেলপাহাড়ি, তামাজুড়ি/ঝিলিমিলির। পিয়াল শাল, মহুয়া, ঝাউ, সোনাঝুরি, ইউক্যালিপ্টাস ও শিরীষেরা ছাতা ধরেছে Belpahari-র মাথায়। চোখে পড়ে কানাইসোল পাহাড়ের কপালে টিকলি হয়ে পূর্ণিমার চাঁদের শোভাবর্ধন Belpahari থেকে। জ্যোৎস্নায় ভেজা পাহাড়তলির নৈসর্গিক পরিবেশে সহজ সরল Belpahari -এর মানুষজন মকর সংক্রান্তিতে এলাকা জুড়ে টুসুর পরবে মাতোয়ারা।

Ghagra:- বেলপাহাড়ির থেকে ৯ কিমি দুরে আর এক স্বপ্নপুরী লাল সুড়কির পথে ঘাঘরা। জিপে বা পায়ে পায়ে ট্রেক করে মিনিট ৪০ শে যাওয়া যায় ঘাঘরায়। পাহাড়ে ঘেরা চারিপাশে ইউক্যালিপ্টাস-অমলতাস-পিয়াল-শালের সবুজ বনবাসর। কিছুটা দুরে তারাফেনি ব্যারেজের অনাবিল জলধারা নিস্তব্ধতা ভাঙছে। তারই মাঝে এলোমেলো পাথর খণ্ড। কংসাবতীর জল বন্দি করা হয়েছে এখানে ১০ লকের বাঁধে। জল শোধন হয়ে বেলপাহাড়ি যাচ্ছে এখান থেকে। তারাফেনি থেকে বিকল্প রাস্তায় শিলদা-বিনপুর-দহিজুড়ি হয়ে ঝাড়গ্রামে ফেরা যায়

Shilda:- গিধনি থেকে শিলদার দুরত্ব ৯ কিলোমিটার। চুয়াড় বিদ্রোহের অন্যতম ঘাঁটি ছিল সাঁওতাল ভূমির Shilda। সুখ্যাতি আছে দশমীতে Shilda Voirabi Mela-এর। দুপুর থেকে ঢল নামে মানুষের পাহাড় বন পেরিয়ে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার থেকে। ঘাটশিলা থেকে গভীর রাতে দেবী রণকিণী আসেন ভৈরবের সাথে মিলিত হতে। Shilda-য় আরোও আছে Rajbari, মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ শিলদা বাঁধ বা দিঘি। শুক্রবারের হাটের বৈচিত্র্য আছে  Shilda-এর।

Dahijuri:- ঝাড়গ্রাম থেকে ১৮ কিমি দুরের ৯৫০ বিঘা শালে ছাওয়া সব পেয়েছির বাগান Dahijuri-ও ঘুরে নেওয়া যায়। প্রকৃতিই dahijuri Tour এর প্রধান দ্রষ্টব্য।

Kakrajhor:- কুসুম, শাল, পিয়াশাল, আকাশমণি, পলাশ, সেগুন মহুয়ার সৌরভে সুরভিত ভৈরব পাহাড় ঘেঁষে ৯০০০ হেক্টরের গভীর জঙ্গলে বুনো শূয়োর ও ভাল্লুক ঘুরে বেড়াচ্ছে Kakrajhor-এ। রাতের বেলায় কেন্দু ও মহুয়া খেতে আসে এরা। কখনো কখনো লেপার্ড, বাঘ ও হাতিরাও ঘুরে যায় Dalma Pahar থেকে। আদিবাসীদের মাদলের ও মৃদঙ্গের দ্রিম দ্রিম বোল ভেসে আসে Dalmapahar থেকে। প্রখর গ্রীষ্ম বাদ দিয়ে বছরের যে কোনো সময়ে চাঁদনি রাতে ঘুরে আসা যায়  Kakrajhor.২৮টি গ্রামে শতাধিক পরিবারে পাহাড়ি নদীর পাড়ে বসবাস হাজার খানেক মুণ্ডা,  সাঁওতাল, ভূমিজ উপজাতির Kakrajhor-এ। কেন্দুপাতা সংগ্রহ যাদের জীবিকা। কাঁকড়াঝোড়ের শালবনের মোহময়ী রূপমাধুরী স্বপ্নময় করে তোলে পর্যটকদের। পশ্চিমে ঘর্ঘরা নালা বা ভৈরবী নদীর এপারে বাংলা ওপারে ঝাড়খণ্ড। বিক্ষিপ্ত বোল্ডারের মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে মাকুনি নদী। অরণ্যক পথে ভৈরবীর হাটুজল ভেঙে মাকুনি গিরিখাত অভিযান করে নিলে মন্দ হয় না। গভীর জঙ্গলে পাখিদের কলকাকলি রমণীয় করে পরিবেশ। কাঁকড়াঝোড়ে বিশ্রাম নিয়ে ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলাও যাওয়া যেতে পারে ৭ কিমি হেঁটে হুল্লু পৌঁছে বাস বা ট্রেকারে আরোও ১৫ কিমি গিয়ে। নিজিস্ব ব্যবস্থায় জিপেও যাওয়া যায় এপথ। সরাসরি Kakrajhor যেতে চাইলে ঘাটশিলা হোয়ে যাওয়াই শ্রেয়।
বেলপাহাড়ির পার হয়ে আরোও ১০ কিমি গিয়ে তামাজুড়ির বাসরাস্তা ধরে ভোলাবেদা থেকে ১৮ কিমি পায়ে হেঁটে যাওয়া যায় Kakrajhor. জিপ যাচ্ছে ভোলাবেদা রেখে বাঁশপাহাড়ির রাস্তায় ১৮ কিমি গিয়ে শিয়রবেদা থেকেও ১৮ কিমি গিয়ে Kakrajhor Forest তথা বনবাংলো। হাওড়া থেকে সরাসরি যাত্রায় ইস্পাত এক্সপ্রেসে ঝাড়গ্রাম বা লোকালে খড়্গপুর পৌঁছে, খড়গপুর-টাটা প্যাসেঞ্জারে Jhargramপৌঁছে জিপে কাঁকড়াঝোড় যাওয়া যায়। ৭৬ কিমি দুরের Jhargram Rajbari থেকে যাওয়া-আসার জিপ পাওয়া যায়।

বাস বা অটোরিকশায় টুকরো করে বা জিপে ঝাড়গ্রাম থেকে সকাল ৭ টায় বের হয়ে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে ঘুরে নেওয়া যায় আলোচ্যসূচিতে কাঁকড়াঝোড় জুড়ে নিয়ে।

How to go Jhargram :-

হাওড়া থেকে ১৫৫ কিমি দুরে ঝাড়গ্রাম। হাওড়া থেকে ইস্পাত এক্সপ্রেস, স্টিল এক্সপ্রেস, হাওড়া-কোরাপুট-জগদলপুর এক্সপ্রেস, এছাড়া হাওড়া থেকে খড়্গপুর/ঝাড়গ্রাম/ঘাটশিলা হয়ে টাটা এবং শালিমার থেকে লোকমান্য তিলক এক্সপ্রেস যাচ্ছে ঝাড়গ্রাম। এছাড়াও নানান লোকাল ট্রেন আছে হাওড়া থেকে।

CSTC-র বাস যাচ্ছে শহীদ মিনার থেকে কলকাতা-মুম্বাই NH6 ধরে ২৪৬ কিমি দুরে লোধাশুলি থেকে ডানদিকে গড় শালবনি হোয়ে ১৪ কিমি গিয়ে ঝাড়গ্রাম।


Hotels in Jhargram:-
There are some hotels in Jhargram and their contact information. If you have further enquiries about Jhargram hotels contact with them by Phone numbers.

মল্ল রাজাদের রাজবাড়িতে ৩১ বেডের ট্যুরিস্ট লজ, যোগাযোগ:- ট্যুরিজম সেন্টার, ফোন:- 03221-22436440. Banani, Call:- 9832791270. ঝাড়গ্রাম ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার, ফোন:-03221- 22370060/61.
গিধনিতে FIB আছে, যোগাযোগ DFO, Jhargram, Phone:- 255010/255171.
বেলপাহাড়িতে FIB, যোগাযোগ DFO, Jhargram, Midnapur, Phone:- 255010/ 255150.
দহিজুড়িতে বিলাস বহুল কটেজ আছে, বুকিং কলকাতা,  ফোন:- 25210259. MPS -ও Green Fort Resort, Phone:- 03221-308101/24198621/23.

Rameswaram tour guide : রামেশ্বরম ভ্রমণ / Rameswaram, Tamilnadu

Rameshwaram temple :- রাম, রাবণকে নিধন করার পর ব্রাহ্মণ হত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে লঙ্কা থেকে ফেরার পথে শিবের পুজা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। শি...