বৈষ্ণব বা নানকপন্থী সন্যাসী মুকসুদন দাসের নামানুসারে মুকসুদাবাদ নামকরণ। গৌড়েশ্বর হুসেন শা'র অসুখ সারিয়ে বিপুল ভূ-সম্পত্তি উপহার পান মুকসূদন। অন্য আর একটি মতে বণিক-পুত্র মুকসুস খাঁ থেকে মুকসুদাবাদ। আকবরনামায় পাওয়া যায় বাংলার শাসক সায়েদ খাঁর ভাই মুকসুদ খাঁর নাম থেকে নামকরণ Murshidabad।
History of Murshidabad :-
১৬০০ খ্রিস্টাব্দে মোগল সেনাপতি মানসিংহর কাছে পাঠান শক্তি পরাজিত হওয়ার পর রাজমহলে রাজধানী বসে বাংলার। তবে, জাহাঙ্গীরের সময়ে ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তরিত হলেও দাক্ষিণাত্যের দরিদ্র ব্রাহ্মণ বংশে জন্মানো সুদর্শন নারায়ণ মিশ্র ইরান দেশীয় বণিকের কাছে প্রতিপালিত মোগল দরবারের কর্মচারী মির্জা হাদি হলেন মুর্শিদকুলী খাঁ অর্থাত্ পরিত্রাতা দেবদূত। নিজের বুদ্ধিমত্তায় বাংলা-বিহার-ওড়িশার দেওয়ান হয়ে ঔরঙ্গজেবের সময় সুবা বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে সরিয়ে এনে ভাগীরথীর পশ্চিম তীরে ঢাকা পাড়া বা মহল্লা পত্তন করেন মুর্শিদকুলী খাঁ। পরে রাজনৈতিক-বাণিজ্যিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ভাগীরথী পার হয়ে পচ্শিম থেকে পুবে মুকসুদাবাদে এসে আশ্রিত হয়। বাদশাহ ঔরঙ্গজেবের কাছ থেকে দেওয়ানির সঙ্গে খেতাবও পান-মুর্শিদকুলী মতিমন্ উল্ মুল্ক আলাউদ্দিন জাফর খাঁ নাসিরী নাসির জঙ্গ। ৪০ স্তম্ভের উপর তৈরি করা চোহল সেতুন কেল্লা দরবার আজ ধ্বংস হয়েছে। ১৭৫৩র ৯ই এপ্রিল আলিবর্দি খাঁর মৃত্যুর পর বাংলা-বিহার-ওড়িশার মসনদে বসেন সিরাজ-উদ-দৌল্লা।
মুর্শিদাবাদ ভ্রমণ রচনা:-
কলকাতা থেকে ১৯৭ কিমি দুরে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের স্মৃতি বিজড়িত Mursidabadএর পর্যটন আকর্ষণ আজ দুর্নিবার। এই মুর্শিদাবাদের ৫৩ কিমি দক্ষিণে পলাশীর আমবাগানে মিরজাফরের বিশ্বাস ঘাতকতায় বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের পরাজয় ঘটে জুন ২৩, ১৭৫৭য়। সিরাজের পরাজয়ে Mirjafor সিংহাসনে বসেন। তবে সুখের নয় মিরজাফরের নবাবি জীবন। ইংরেজ মিরজাফর কে সরিয়ে জামাতা মিরকাশিম কে সিংহাসনে বসান। মিরকাশিম রাজধানী সরিয়ে নিয়ে জান Murshidabad থেকে মুঙ্গেরে। স্বাধীনচেতা নবাবের পরাজয় ঘটে ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দের ১লা আগস্ট মুর্শিদাবাদের ৩২ কিমি উত্তরে সুতির কাছে গিরিয়ার প্রান্তরে। গিরিয়ায় পরাজিত হয়ে উধুয়া নালায় শিবির তৈরি করে নবাবি ফৌজ। কিন্তু ৫ই সেপ্টেম্বর ১৭৬৩র ভোরে ইংরেজ আচমকা আক্রমণ করে জয় করে নেয় নবাবি শিবির। আবার নবাব হন মিরজাফর কিন্তু কায়েম হয় ব্রিটিশ রাজ বাংলায়। ভারতের ব্রিটিশ রাজের প্রথম রাজধানীও গড়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের ১৪ কিমি দুরে Baharampur-এ। আর ১৭৭২এ বহরমপুর ছেড়ে ব্রিটিশ রাজের রাজধানী কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়। নবাবের আর এক কৃষ্টি-আম্রকাননে ১০৮ রকমের আমের সৃষ্টি। UNESCO-র World Heritage তালিকা ভুক্ত হয়েছে Murshidabad।
Places to visit in Murshidabad :-
ব্যারাকের মাঠ - নয়ন ভোলানো স্নিগ্ধ-সুমধুর পরিবেশে বৃক্ষরাজি সারি দিয়ে দাড়িয়। কোর্ট, কাছারি, জেল, হাসপাতাল ছাড়াও নানান সরকারি অফিস বসেছে ব্রিটিশদের তৈরি করা সেনানীদের বাড়িঘরে ব্যারাকের মাঠ কে ঘিরে। আজকের সার্কিট হাউসে লর্ড ক্লাইভ ও ওয়ারেন হেস্টিংসও বাস করে গেছেন সে সময়ে। ১৮৫৭র ২৬শে ফেব্রুয়ারি প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম অর্থাত্ সিপাহী বিদ্রোহে সবার আগে গর্জে ওঠে এই ব্যারাকের মাঠ। সেই স্মৃতিতে শহীদ স্মারক হয়েছে শতবর্ষ পরে ১৯৫৭র ১৫ই আগস্ট ব্যারাকের মাঠের উত্তর-পচ্শিমে। আরোও উত্তরে ট্যুরিস্ট লজ আর দক্ষিণে সেনানিবাসের প্রধান বাজার গোরাবাজার।
বহরমপুর কোর্ট থেকে দেড় কিমি, বাসস্ট্যান্ড থেকে আধা কিমি পশ্চিমে আর খাগড়া ঘাট রোড স্টেশনের ৩ কিমি পূ-দক্ষিণে ব্যারাকের মাঠ।
Hazarduari:- ১৮২৯এর ২৫শে আগস্ট ভিত গেড়ে ১৮ লক্ষ টাকা খরচ করে ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে তদানীন্তন নবাব নাজিম হুমায়ূন খাঁর বসবাসের জন্য ব্রিটিশ স্থপতি স্যার ডানকান ম্যাকলিয়ডের নকশায় ব্রিটিশরাজ তৈরি করান ইতালিয়ান শৈলিতে ৮০ ফুট উচু ৪২৫×২০০ ফুটের ত্রিতলিকা গম্বুজওয়ালা Hazarduari. ৮ টি গ্যালারি সহ ১২০ ঘরের এই প্রাসাদে ১০০০টি দরজার থেকে নাম হয়েছে Hazarduari। যদিও প্রকৃত দরজা ৯০০, বাঁকি ১০০ কৃত্রিম। অনন্য গথিক শৈলীর নান্দনিক নিদর্শন হাজারদুয়ারি নবাব প্রাসাদ নামে বিখ্যাত হলেও সেদিনের নবাব কিন্তু বয়কট করেন বাসগৃহ রূপে Hazarduari কে। যদিও দরবারে বসতেন নবাব রূপোর সিংহাসনে মহারাণী ভিক্টোরিয়ার পুরস্কার দেওয়া ১৬১টি ঝাড়যুক্ত বিশাল ঝাড়বাতির নীচে দ্বিতলে। মন্ত্রণাকক্ষের লুকোচুরি আয়না, হাতির দাঁতের পালকি ও তাঞ্জাম, মেহগনি কাঠের আসবাবপত্র, আর্ট গ্যালারিতে দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা বিশ্বখ্যাত মার্শাল, টিশিয়ান, রাফেল, ভ্যান ডাইক ছাড়াও বিভিন্ন শিল্পীর আঁকা চার শতাধিক অয়েলপেন্টিং, মর্মরমূর্তি, ফুলদানি, রকমারি ঘড়ির সংগ্রহ, সে যুগেও অনন্য করে তোলে Hazarduari কে। সুবে বাংলার নবাবি আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন ও পুথিপত্রের অমূল্য সংগ্রহশালা-মুর্শিদাবাদের অন্যতম আকর্ষণ হাজারদুয়ারীর সংস্কার হয়েছে ১৯৯১এ। নবাবের ব্যবহার করা জিনিসপত্রের প্রদর্শনী দেখতে পর্যটক আসেন দেশ-বিদেশ থেকে। চাইনিজ পোর্সেলিন প্লেটগুলিও অভিনবত্বে ভরা। নবাবরা খেতেন এই প্লেটে। খাবারে বিষ থাকলে প্লেটটি ফেটে যাবে। মুর্শিদকুলী খাঁ থেকে সর্বশেষ নবাবের তৈলচিত্র বংশপরম্পরায় তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া নিচের তলার অস্ত্রাগারে ২৭০০ অস্ত্রের সম্ভার। এমনকি সিরাজকে খুন করা মহম্মদী বেগমের ছুরি, সিরাজ ও আলিবর্দির ব্যবহার করা তলোয়ার আকর্ষণ বাড়িয়েছে। তিন তলায় ইংরেজি ও পার্সি ভাষায় লেখা লাইব্রেরির ১০৭৯২টি বই, ৩৭৯১টি পাণ্ডুলিপির সংগ্রহ উল্লেখ্য। সোনা দিয়ে মোড়া বাগদাদের সম্রাট হারুন-আল-রশিদের হাতে লেখা কোরান শরীফ, আবুল ফজল লিখিত ৫০২ পাতার আইন-ই-আকবরির পাণ্ডুলিপি, নবাবি চিঠিপত্র উল্লেখ্য। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত খোলা এবং প্রতি শুক্রবার বন্ধ থাকে Hazarduari।
এছাড়া প্রাসাদের সামনে-মায়ের সাধ পুরণে শিয়াদের পতনভূমি কারাবালার মাটি এনে সিরাজের তৈরি এক গম্বুজের Madina Masjid, মদিনা চত্বরে অসামান্য স্থাপত্য শিল্পের নিদর্শন সুউচ্চ ঘড়িঘর। এছাড়া Madina Masjid এ আছে ১৬৪৭-এ জনার্দন কর্মকারের তৈরি ১৮ ফুট দীর্ঘ, ১৬৮৮০ পাউন্ডের কামান। যার এক তোপ দাগতে ১৮ সের বারুদ লাগতো। চত্বর পার হয়ে প্রাসাদের উল্টোদিকে বড় Imambara। সিরাজের তৈরি কাঠের ইমামবাড়াটি ভস্মীভূত হওয়ার পর ৭ লক্ষাধিক টাকায় ১৮৪৮-এ নবাব নাজিম মনসুর আলি ১৮৪৮-এ তৈরি করেন ২০৭ মিটার এই Imambara। চীনি ও ওলন্দাজি রঙিন টালিতে দেওয়াল সাজানো। পশ্চিমের বিশালাকার কক্ষে হজরত মহম্মদের কবরের বিভিন্ন রেপ্লিকা দর্শনীয়। আরো রয়েছে সঙ্করজাত অদ্ভুত সব জীবজন্তুর মুর্তি। তবে শুধুমাত্র মহরমের সময় দশ দিনের জন্য দর্শনীয় Imambara টি। হাজারদুয়ারীর পিছনে ডান দিকে যাওয়ার সময় গঙ্গার তীরে New Palace তথা ওয়াসেফ মঞ্জিল বর্তমান অতিথি নিবাস হয়েছে। হাজারদুয়ারীর থেকে ৩ কিমি উত্তরে মহিমাপুরে পাঞ্জাব থেকে আসা যোধপুরের বাসিন্দা জগৎশেঠ উপাধিতে ভূষিত মানিকচাঁদ-ফতেচাঁদদের কুঠি বাড়ি ঘেঁষে পথ চলে গেছে Kathgola র। কেবল উপাধিই নয় ১৮ শতকে অন্যতম শেঠও ছিলেন এই জৈন পরিবার। জগৎশেঠের বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যের নিদর্শন পাওয়া যায় Kuthibariতে। এক সময়ে কাঠগোলাপ হতো বাগিচায়। আর এই কাঠ গোলাপ থেকেই Kathgola নাম। ১৮৭৩-এ জিয়াগঞ্জের ধনকুবের ধনপত সিং দুগার ও লক্ষ্মীপত সিংহ দুগার সুরম্য প্রাসাদের সাথে আদিনাথের মন্দির তৈরি করেন। সুন্দর তোরণ পার হতে উদ্যান ধরে পূর্বমুখী যেতে মনোহর নন্দনকাননে ৪ তলা প্রাসাদ। পাশ্চাত্যশৈলীর বিভিন্ন বিলাস সামগ্রী যাদুপুরি করে তুলেছে প্রাসাদকে। ঠিক তেমনই সুন্দর ১৭৮০তে মর্মরে তৈরি কারুকার্যমণ্ডিত আদিমহারাজ মন্দির। কাঠগোলা থেকে সামান্য ডাইনে ছোট ইমামবাড়া বা Hoseni Dalan। এ পথেই আর একটু এগিয়ে লালাজীর মন্দির।
আখড়ার সামান্য উত্তরে জগৎশেঠের বাড়ির কাছেই পানিপথ থেকে ব্যবসা করতে এসে ইংরেজ কোম্পানির রেভিন্যু কালেকটর হয়ে ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে প্রজা উৎপীড়নে কুখ্যাত কীর্তিচাঁদ বাহাদুরের তৈরি হাজারদুয়ারীর ছোট্ট সংস্করণ নসীপুর রাজপ্রাসাদ। দেবী সিংহর বাড়ি বলেও পরিচয় আছে। রাজবাড়িটি জীর্ণ হলেও হিন্দু-পুরাণের নানান দেব-দেবীর অবস্থানে দেবালয়ের রূপ নিয়েছে। নসীপুরের ঝুলনের সুনাম আছে। কিছুটা দুরে রামানুজ শাখার আখড়া মোহনদাসের আশ্রম। আরোও কিছুটা গিয়ে জাফরাগঞ্জ দেউড়ি বা ইতালীয় স্থাপত্যে তৈরি করা Nizamat Imambara. আলিবর্দীর ভগিনীপতি মিরজাফরের প্রাসাদ। একই চত্বরে মিরজাফরের ছেলে মিরনের বাড়ি। ১৭৫৭র ২রা জুলাই মাত্র ২০ বছর বয়সে সিরাজ-উদ-দৌল্লা খুন হন মহম্মদী বেগের হাতে এই বাড়িতে। বিধ্বস্ত বাড়িটি প্রাচীর ঘেরা অবস্থায় বোবা হয়ে দাঁড়িয়ে। আর সেই থেকে নাম হয়েছে জাফরাগঞ্জের Namak Haram Deorhi. সিরাজের বিরুদ্ধে চক্রান্তের নীল নকশাও তৈরি হয় এই বাড়িতে বা Namak Haram Deorhi । ব্রিটিশদের থেকে উপহার পাওয়া মিরজাফরের কামান দুটোও দেখে নেওয়া যায় Nimak Haram
চত্বরে। Chak Bazar এর পচ্শিমে মিরাজাফরের তৈরি Chak Masjid। ভাগীরথীর অন্য পাড়ে মোতিঝিলের সৌন্দর্যে ঈর্ষান্বিত সিরাজের গড়া বিলাসভবন Herajheel বা লালগড় প্রাসাদ ভাগীরথীর গ্রাসে বিধ্বস্ত হলেও পাথরে বাঁধানো Herajheelটি আজও অতীত রোমন্থন করায়।
আছে নবাবের প্লেজার গ্রাউন্ড রোশনিবাগ ডাহাপাড়ায়। দেউড়ির উল্টোদিকে হাজারদুয়ারীর থেকে দেড় কিমি উত্তরে Jafraganj Cemetery। মিরজাফর এবং তার বংশের ১১০০ সমাধি হয়েছে। গেট বরাবর শেষ পূর্ব থেকে তৃতীয় স্থানে শায়িত রয়েছে Mirzafor। মিরজাফরের বেগম বিবি মণি বেগম, বব্বু বেগভ সাজিদা নাসিন রাও শায়িত রয়েছে Jafraganj Cemeteryতে। কিছুটা দুরে মুর্শিদকুলী-কন্যা আজিমউন্নিষার সমাধি। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে কন্যাও সমাধিত হয়েছেন ১৭৩০-এ সোপানতলে। সুন্দর মসজিদ ছিল সেসময়ে যদিও ভাগীরথীর গ্রাসে সে মসজিদ। ৪টি তোরণের একটি অতীত স্মৃতি বহন করে আজও। দ্বিমতে, ব্যাভিচারের অপরাধে কলিজাখাকি(প্রতিদিন একটি শিশুর কলিজা খেতেন) আজিমউন্নিষাকে জীবন্ত সমাধিস্থ করেন স্বামী সুজা খাঁ। কিছুটা দুরেই Katra অর্থাত্ বাজার হাট ছিল একসময়। কাটরার পথে রেললাইন পার হলেই Kadamsarif। একসময় মহম্মদের পদচিহ্ন ছিল যা এখন গৌড়ে দেখা যায়। বসন্ত আলি খাঁ নামে ১৭৮২তে তৈরি কদমশরীফ বা মসজিদ। খোজার তৈরি অপরাধে Kadamsarif পরিত্যক্ত হলেও Kadamsarif এর গঠন শৈল চলার পথে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আরো কিছুটা দুরে দক্ষিণ দিকে ১৮৩১এ তৈরি বিনোদন মহল হুমায়ূন মঞ্জিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কোর্ট হাউস বসেছিল এখানে। আরো কিছুটা গিয়ে মুর্শিদাবাদ রেল স্টেশনের দেড় কিমি উত্তর-পূর্বে Katra Masjid। মক্কার কাবা মসজিদের অনুকরণে ১৭২৩-২৪ মুর্শিদকুলী খার তৈরি ৪০ গুন সাড়ে সাত মিটার ব্যাপ্ত সুন্দর কারুকার্যে শোভিত এই Katra Masjid। উপাদান এসেছে বিভিন্ন হিন্দু মন্দির থেকে। ৬৭ ধাপ উঠে ২২ মিটার উচু চার কোনে চারটির মধ্যে দুটি ধ্বংস হয়েছে অবশিষ্ট দুই মিনারে চড়ে চারিপাশের দৃশ্য দেখে নেওয়া যায় Katra Masjid থেকে। ৩টি ধ্বংস হয়ে ১৫ মিটার ব্যাসের ২টি গম্বুজ রয়েছে ছাঁদে। এর নির্মানশৈলি ভাবতেও বিস্ময় জাগে। কড়ি-বরগার ব্যবহার নেই খিলানযুক্ত কাটরা মসজিদে। ৭০০ কারী অর্থাত্ কোরান পাঠকের বসবাস ছিল। কালো পাথরের খিলানযুক্ত বিশাল প্রবেশদ্বারের মাথায় ইরানি ভাষায় লেখা। স্বর্গমর্ত্য উভয় লোকের যিনি গৌরব, আরবের মহম্মদের জয় হউক। যে ব্যক্তি তাহার দ্বারের ধূলি নহে, তাঁহার মস্তকে ধূলিবৃষ্টি হউক। একসময়ের চন্দ্রাতপটি লীন হলেও পূবের ১৪ ধাপের সোপানতলে সমাহিত রয়েছেন ১৭২৫-এ ইন্তেকাল হওয়া নবাব মুর্শিদকুলী খাঁ। ১৮৯৭-র ভূমিকম্পে ভীষন ক্ষতিগ্রস্ত হয় Katra Masjid। কাটরা মসজিদের পশ্চিমে রেল লাইনের ধারে ১৭৩৯-৪১-এ তৈরি কাটরার অনুকরণে সফররাজ খাঁর তৈরি Fut Masjid. কাটরা থেকে ১ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে গোবরানালার তীরে দেশের সুরক্ষার্থে গড়ে ওঠে দূর্গ তথা তোপখানা। নিদর্শন মেলে ১৬৩৭-এ অধুনা বাংলাদেশের ঢাকার জাহাঙ্গীর নগরের সুবেদার ইসলাম খাঁর নির্দেশে জনার্দন কর্মকারের তৈরি Jahan Kosa Cannon অর্থাত্ বিশ্বজয়ী কামান। ৫.৩৫ মিটার দীর্ঘ Jahan Kosaর বেড় ১.৩৫ মিটার। আর মুখের বেড় ৪৫.৫ সেমি এবং ওজন আট টনের মত। বারুদ লাগে ৩০ কিলো গোলা ছুঁড়তে প্রতিবারে Jahan Kosa Cannon থেকে। দেব জ্ঞানে পুজা করেন স্থানীয়রা Jahan Kosa কে। Hazarduari র ২ কিমি দক্ষিণে সদরঘাটে ভাগীরথী পার হয়ে দেড় কিমি দক্ষিণে যেতে নবাব পরিবারের সমাধিক্ষেত্র আনান্দের বাগিচা বা Khosbag। সুমধুর পরিবেশে নবাব আলিবর্দি, নবাব সিরাজ, বেগম লুৎ-ফা-উন্নেষা ছাড়াও নবাব পরিবারের বিভিন্নজন শান্তির ঘুমে সমাহিত khosbag-এ। রয়েছে জাতীয় বিশ্বাসঘাতক ব্রিটিশদের বিচারে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত সেই দানশা ফকির। যার ধৃষ্টতায় সিরাজ ধৃত হন রাজমহলে। যাত্রীনিবাস হয়েছে Khosbag-এ। কিছুটা দুরে বর্গীয় নেতা ভাস্কর পন্ডিতের তৈরি শ্বেতমর্মরে শিব মন্দির। রোশনিবাগ ফোয়ারা ও আলোর রোশনাইতে সুশোভিত উদ্যানের মাঝে ১৭৩০এ মসজিদ তৈরি করেন নবাব আলিবর্দি খাঁ। সমাহিত রয়েছেন সুজাউদ্দৌলা ছাড়াও নবাব পরিবারের বহুজন। সামান্য উত্তরে সুজার তৈরি ফর্হাবাগ বা সুখকাননটি আজ বিধ্বস্ত। দেখে নেওয়া যায় ১৭৯৯এ কলকাতা গেলেও রাজধানী মুর্শিদাবাদের শেষ নিদর্শন টাকশালের ধ্বংসস্তূপ। অদুরে ব্যান্ডেল-খাগড়া ঘাট-আজিমগঞ্জ শাখা রেলের লালবাগ কোর্ট স্টেশন। Hazarduari র থেকে ৩ আর লালবাগের ১ কিমি দক্ষিণে বহরমপুর সড়কে Perl Lake বা Motijheel। U আকারের হাঁসুলির মত ঝিল বা লেকের পাড়ে সুন্দর পরিবেশে সাংহীদালান বা ত্রিতল প্রাসাদটি তৈরি করেন আলিবর্দির জ্যেষ্ঠ জামাতা নওয়াসেজ মহম্মদ খাঁ। নওয়াজেসের মৃত্যুর পর বেগম মেহেরউন্নিষার বা ঘসেটি বেগমের প্রাসাদ হয় Motijheel। সেকালে মোতির চাষও হতো ঝিলে। পরবর্তীতে ব্রিটিশদের সঙ্গে যোগসাজশে নবাব সিরাজ বন্দি করেন মাসি মেহের-উন্নিষাকে। সিরাজের পতনের পর ১৭৬৫তে ক্লাইভের অভিষেক, আরোও পরে ইংরেজ রেসিডেন্সি বসে Motijheel-এর সাংহীদালান প্রাসাদে। ৭৫০ বিঘার রূপসী ঝিলটিও এঁদো পুকুরের রূপ নিয়েছে। আর আছে ঝিলের পাড়ে কালো মসজিদ ও দরজা-জানালাহীন স্তূপাকার কিংবদন্তি ঢিপি। জনশ্রুতি, যক্ষের ধন আজও নাকি সঞ্চিত রয়েছে ঢিপিতে। উদ্ধারে গিয়ে রক্ত উঠে মৃত্যুও হয়েছে নাকি বহুজনের। সূর্যাস্ত সুন্দর দৃশ্যমান মোতিঝিলে।
ইতিহাসের মোতিঝিল পর্যটন মানচিত্রে না থাকলেও পর্যটন বিনোদনের নানান পসরা নিয়ে তৈরি করা ৩৩ বিঘার Motijheel Parkটিও যথেষ্ট সমাদৃত। মিউজিয়াম হয়েছে, টয়ট্রেন চলছে, বোটিংয়ের ব্যবস্থা আছে Motijheel park এ।
নবাবি মুর্শিদাবাদের স্বাধীনতার সূর্য অস্ত গেলেও পর্যটক প্রিয় Jay kali Temple রয়েছে ট্যুরিস্ট লজের সামনে জাতীয় সড়ক পার হয়ে উত্তর মুখি নতুন বাজারে। কষ্টিপাথরের সুন্দর মুর্তি হয়েছে দেবি মহিষমর্দিনীর Jay kali Mandir-এ। সেন আমলের দেবি এই দশভুজা। দশভুজা থেকে ১ কিমি উত্তর-পূর্বে চন্দ্রশেখর মুখার্জি রোডে ১৮ শতকের বুড়ো শিব মন্দিরটিও দেখে নেওয়া যেতে পারে। আরো উত্তরে Khagra Bazar.
Khagra-র দোকান থেকে কাঁসার বাসনপত্র, মুর্শিদাবাদের রেশমি পোষাক, সূক্ষ্ম কারুকার্যময় হাতির দাঁতের অলঙ্কার স্মারক রূপে সংগ্রহ করা যেতেই পারে। সরকারি সিল্ক রিসার্চ সেন্টারটিও ঘুরে দেখা যেতে পারে। বাজার ছাড়িয়ে আরোও উত্তরে মুর্শিদাবাদ বা হাজারদুয়ারীর পথে Saidabad. বহরমপুরের প্রাচীন জনপদ Saidabad। এক সময়ে ফরাসি উপনিবেশ ছিল Saidabad-এ। ডুপ্লেও বাস করে গেছেন কিছুদিন এই সৈদাবাদে। ইংরেজদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় হার এবং ১৮২৯এ সড়ক তৈরীর সময় ফরাসি উপনিবেশ বিলুপ্ত হলেও জায়গার নাম ফরাসডাঙ্গা আজও সাক্ষ্য বহন করছে। ১৬৬৫তে আর্মেনিয়ান বণিকদের আগমন ঘটেছিল Saidabad এ ফরাসডাঙার পূর্বে। তাদের তৈরি ১৭৫৮য় সুবৃহত্ আর্মানি গির্জা। সমাধিও রয়েছে গির্জার চত্বরে-আর্মেনিয়ান ভাষায় ফলকও দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া সৈদাবাদের রাজবাড়িটি বিধ্বস্ত হলেও সামনের খিলানের অভিনবত্ব আকর্ষণীয়। বিভিন্ন শিব মন্দিরও রয়েছে Saidabad-এ। রাজবাড়ির থেকে সামান্য উত্তরে পঞ্চমুখী শিব। উত্তর-পূর্বে মুর্শিদাবাদের বৃহত্তম চার-চালা শিব মন্দিরটিও অলংকরণে অভিনব।
সৈদাবাদ বাজার পার হলেই ডাইনে নবাব মিরজাফরের দেওয়ান নন্দকুমারের বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়ি Kunjaghata Rajbari। মিরজাফরের উমেদারিতে দিল্লীর বাদশাহ মহারাজ উপাধি প্রদান করেন নন্দকুমার কে। ১৭৭৫-এ নন্দকুমার কিছু সময় বসবাসও করেন Kunjaghata rajbari তে। নন্দকুমারের চিঠি, শাল, উত্তরীয়, অঙ্গবস্ত্র , বালাপোশ, তরবারি ছাড়াও বিভিন্ন কিছু প্রদর্শিত হয়েছে স্মারক রূপে Kunjaghata তে। আছে নন্দকুমারের উপহার পাওয়া চৈতন্যদেবের জীবদ্দশায় আঁকা তৈলচিত্র। প্রধান প্রাসাদটি বিধ্বস্ত হলেও সামনের দিক, দূর্গা দালান, শিব, লক্ষ্মীনারায়ণ ও বৃন্দাবনচন্দ্রর মন্দির তিনটি দেখে নেওয়া যায় Kunjaghata Rajbari তে।
Kasim Bazar:- বহরমপুর এবং মুর্শিদাবাদের মাঝখানে kasim bazar। সৈদাবাদের পূর্বদিকে Kasim Bazar Rail Station পার হয়ে উত্তরে যেতে কাশিমবাজার ছোট Rajbari, কাটরা মসজিদের অনুকরণে ১৮ শতকের প্রথম দিকে তৈরি এই মসজিদ, ১৭৮৮তে চটজলদি পথ সংযোগকারী কাটাখাল কাটিগঙ্গার কাছে দশ শিবমন্দির, রাজবাড়ির উত্তরে ভাগীরথীর মজে যাওয়া বাঁওড়ের কাছে রেসিডেন্সির ভগ্নাবশেষ এবং সমাধিক্ষেত্র, ১ কিমি দক্ষিণে মহারাজা মণীন্দ্র চন্দ্র নন্দীর Kasim Bazar Rajbari। পদ্মা, ভাগীরথী, জলঙ্গি দ্বারা বেষ্টিত এক সময়ের বন্দর নগরী কাশিমবাজার বা মাসুদা বাজার আজ পর্যটকদের কাছে উপেক্ষিত। রেশমের রমরমাও লোপ পেয়েছে। সেকালের ঘন সন্নিবিষ্ট বাড়ির একেরপর এক ছাঁদ ডিঙিয়ে ৮-১০ কিমি চলা যেত। ১৬৫৮য় জোব চার্নক ৩০০ টাকা বেতনে সহ-অধ্যক্ষের চাকরি করেন Kasim Bazar Kuthiতে। ১৭৫৬য় সিরাজ জয় করে নেন Kasimbazar। Kasim Bazar Rajbari-র ঠাকুর দালান ও দ্বিতীয় তলায় লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরটির অভিনবত্ব আছে। কারুকার্যমণ্ডিত ১০০ থাম ও ৫০ খিলানে শোভিত অলিন্দটি সুন্দর। টেরাকোটা ও পদ্মের অলঙ্করণও নান্দনিক। মহাজনটুলির নেমিনাথ জৈন মন্দির ২৪ জৈন তীর্থংকরের মুর্তি ও পদচিহ্ন আর একটি দর্শনীয় Kasim Bazar Rajbari তে।
এক সময়ের নীলকর সাহেবদের দৌরাত্ম্যে গঙ্গার পলি চাপা পড়লেও পঞ্চাননতলার অনন্য কারুকার্যমণ্ডিত নীলকুঠিতে বর্তমান জেলা পরিষদ বসেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রেপ্লিকা রূপে ১৮৪৫শে তৈরি করা বহরমপুর কলেজ। ১৯০২এ নবজাগরণের বিশিষ্ট নেতা ও সাংবাদিক কৃষ্ণ নাথ নন্দীর নামে নামান্তরিত কলেজ বাড়িটিও দেখে নেওয়া যেতে পারে। আবার ভাগীরথীর পাড়ে লালবাঁধ ধরেও ঘুরে নেওয়া যায় সকাল-সন্ধ্যা পায়ে পায়ে Baharampur। ভাদ্রমাসের শেষ বৃহস্পতিবার ১৬ থেকে ২৩টায় জলদেবতা খোঁজা ও খিজিরকে তুষ্ট করতে কলার ভেলা ভাসানো হয় ভাগীরথীর জলে। বর্ণাঢ্য, কারুকার্যমণ্ডিত, আলোক সজ্জিত রকমারি ভেলা দেখতে যাত্রিরা আসেন দূরদূরান্ত থেকে খোজা খিজির বা বেড়া উৎসবে। শুরু নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর আমল ১৭০৪-২৫ খ্রিস্টাব্দ, জৌলুস লোপ পেলেও মুর্শিদাবাদ ট্রাস্টির ব্যবস্থাপনায় আজও বেড়া উৎসব উদযাপিত হয়। মেলা বসে লালবাগের নবাব-প্রাসাদ চত্বর জুড়ে। মহরম আর এক বরণীয় উৎসব মুর্শিদাবাদের।
বহরমপুর ঘোরার জন্য টাঙা পাওয়া গেলেও অটো/রিকশাই ব্যবহার করা উচিত হবে। পয়েন্ট ও দিন অনুসারে ভাড়া নির্ধারণ করে এরা। সকাল সাতটায় বের হয়ে বিকেল পাঁচটায় শেষ করা যায় ঘোরা Baharampur/Murshidabad/Kasim Bazar।
শুধু নবাবি Murshidabad Tour ঘন্টা পাঁচেকে শেষ করা যেতে পারেই। এ ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদ রেল স্টেশন নেমে যাওয়াই সঠিক হবে। সময়-অর্থ-দুরত্ব তিনের সাশ্রয় হবে।
====================================================================
হাজারদুয়ারীর ১ কিমি উত্তরে ডাহাপাড়া ঘাট থেকে ফেরি পার হয়ে রিকশায় বা হেঁটেহেঁটেই শ্রীজগদ্বন্ধু ধাম ও মুর্শিদাবাদ জেলার প্রাচীনতম মন্দির Kiriteswari Temple দেখে ফেরা যেতে পারে বহরমপুর। ট্রেন যাচ্ছে BAK লুপ লাইনে খাগড়াঘাট রোড রেল স্টেশন থেকে লালবাগ/ডাহাপাড়া ধাম হয়ে আজিমগঞ্জ। ডাহাপাড়া ধাম হল্ট রেল স্টেশন থেকে ৫ কিমি দুরে Kiriteswari Mandir। সতীর কিরীটি বা মুকুট পড়ে Kiriteswari তে। সতীপীঠ বলে খ্যাত হলেও উপপীঠও বলে লোকে। হিন্দু পুণ্য তীর্থ এই মন্দিরে দেবী জাগ্রত, ভৈরব যাঁর সংবর্ত। এর অতীতের নাম ছিল কীরিটকণা, ১৭২ টি শিবমন্দির তৈরি হয়েছিল সে সময়ে। ১৪০৫-এ মুল মন্দিরটি ধ্বংস হলেও কারুকার্যমণ্ডিত প্রস্তর বেদীটি এখন অতীত সাক্ষ্য বহন করে। বর্তমান Kiriteswari Mandir টি ১৮ শতকে বঙ্গাধিকারী দর্পনারায়ণ রায়ের তৈরি। দেবীর কোনো মুর্তি নেই কিরীটি পূজিত হতো মন্দিরে। কিরীটি স্থানান্তরিত হয়েছে পথের বিপরীতে রাণী ভবানীর তৈরি গুপ্ত মঠে। সয়ের-উল-মুতাক্ষারিনে উল্লেখ পাওয়া যায় কুষ্ঠরোগ গ্রস্ত মিরজাফর জ্বালা জুড়াতে দেবীর চরণামৃত পাণ করেছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ রয়েজে, রয়েছে দেবদেবীর ভাঙা মুর্তি কালিসায়র দীঘির পাড়ে Kiriteswari Temple চত্বর জুড়ে। যাত্রীরা সব থেকে বেশি আসেন পৌষ মাসের প্রতি মঙ্গলবার। ৪ কিমি দুরে Dahaparaয় শ্রীজগদ্বন্ধু ধামের ভক্তাবাসে থাকার ব্যবস্থা আছে। পরম বৈষ্ণব জগদ্বন্ধু সুন্দরের জন্মও ডাহাপাড়ায়। বৈশাখ মাসে প্রভুর জন্মোৎসব জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব হয় Dahapara Dham এ। আবার Dahapara Dham থেকে ট্রেনে খাগড়া ঘাট অথবা আজিমগঞ্জও যাওয়া যেতে পারে বড়নগর দর্শনে। আজিমগঞ্জ থেকে রিকশায় ঘুরে নেওয়া যায় Dahapara Dham। তেমনি খোশবাগ সফরেও রিকশায় দেখে নেওয়া যায় ডাহাপাড়ার আশ্রম ও মন্দির। ডাহাপাড়ার আর এক অতীত সুজা খাঁর তৈরি করা ফর্হাবাগ বা সুখকানন। অতীতে স্বর্ণমুদ্রা তৈরি হতো ডাহাপাড়ায়, যার নিদর্শন আজও ভাগীরথীর তীরে ভগ্নগৃহে পাওয়া যায় Dahapara-য়।
Karnasubarna:- বহরমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে সালারের দিকের বাসে গঙ্গা পার হয়ে ১১ কিমি গিয়ে রাঙামাটি বা গৌড়েশ্বর শশাঙ্কের রাজধানী ৭ শতকের কিংবদন্তীতে মোড়া অতীতের Karnasubarna ঘুরে নিতেও পারেন। তবে এই প্রত্নভূমি কর্ণসুবর্ণের গড় আজ ভূমিক্ষয়ে বিপন্ন। বুদ্বও এক সপ্তাহ অবস্থান করেন Karnasubarna-এ, স্মারক রূপে তৈরি হয় বৌদ্ধবিহার, সংঘারাম ও মন্দির। বৌদ্ধবিহার কে বরণীয় করে তুলতে স্তুপ গড়েন সম্রাট অশোক। এমনকি ভারতের প্রাচীনতম বৌদ্ধ মুর্তি পাওয়া গেছে Karnasubarna থেকে। কর্ণসুবর্ণে থাকার ব্যবস্থা নেই, ঘোরা শেষে বহরমপুর ফিরতে হবে। প্যাসেঞ্জার ট্রেন যাচ্ছে খাগড়া ঘাট রোড স্টেশন থেকে ১৩ কিমি দুরের Karnasubarna Station। হাওড়া থেকেও ট্রেন আসছে BAK লুপ লাইনে ব্যান্ডেল/কাটোয়া হয়ে ১৯৩ কিমি দুরের কর্ণসুবর্ণে।
রেল স্টেশন থেকে দেড় কিমি হাঁটা পথে ৬ থেকে ৮ মিটার উঁচু ঢিপির নীচে ১৯৬২তে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে খননে আবিষ্কার হয়েছে সৌধ, দেবালয়, সিঁড়ি, স্তূপ, ইঁদারা ছাড়াও খ্রীস্টীয় ২ থেকে ১৩ শতকের নানান কিছু। বৌদ্ধবিহারের মধ্যে রক্তমৃত্তিকা ছিল সবচেয়ে খ্যাত। ৭৭ বর্গ কিমি জুড়ে বাকহারা অতীতের সঠিক নির্ণয় সম্ভব না হলেও রাজবাড়ি-ভাঙার পরিখাবেষ্টিত দেওয়ালে ঘেরা রক্তমৃত্তিকা বৌদ্ধ-বিহারটি শশাঙ্কর রাজধানী Karnasubarna-র অংশবিশেষ বলে বিধান মিলেছে। অদূরে রাক্ষসডাঙা। যাতায়াতের সুব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় পর্যটন মানচিত্রে আজও অবহেলিত কর্ণসুবর্ণ। আবার খাগড়া ঘাট রোড স্টেশন থেকে ট্রেনে আজিমগঞ্জ সিটি পৌঁছে মাইল খানেকের হাঁটা পথে গঙ্গার তীরে বাংলার কাশী বড়নগরের মন্দিররাজি দেখে নিতে পারেন। ১৮ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে নাটোরের রাণী রামকান্তর পত্নী ভবানীর ১৭১৪-৯৩-এর হাতে মন্দিরের পর মন্দির গড়ে ওঠে নাটোর রাজপরিবারের গঙ্গাবাস বড়নগরে। বঙ্গেশ্বরীর ইচ্ছে ছিল কাশীধামের মত করে বড়নগরকে গড়ে তোলা। সামনে ভাগীরথী, ওপারে মুর্শিদাবাদ, বড়নগরও ছিল বিশাল গঞ্জ সে সময়ে।
আধা কিমি জুড়ে ডজনখানেক মন্দিরের টেম্পল কমপ্লেক্স Baranagar। চলার পথে দক্ষিনে এক বাংলা পঞ্চানন শিব। শিবঠাকুরের এখানে মুর্তিতে পাঁচটি আনন। খিলানে পোড়ামাটির কাজ। উত্তর দিকে সামান্য গিয়ে ২৮৬০এ তৈরি চারবাংলা মন্দির। তিন খিলানযুক্ত প্রবেশ পথে চতুষ্কোণ চত্বরের চারপাশে চার মন্দির দেড় মিটার উঁচু ভিতের উপরে মুখোমুখি অবস্থানে। দেবতা শিবঠাকুর, প্রতিটা মন্দিরে তিন জনা। টেরাকোটার মন্দির, অলঙ্করণেও বৈচিত আছে। রামায়ণ মহাভারত সহ নানান পৌরাণিক আখ্যান মুর্ত হয়েছে চারবাংলার ভাস্কর্যে।
এদেরই উ-পচ্শিমে অষ্টোকণী ভবানীশ্বর শিব মন্দির। মুর্শিদাবাদের নিজিস্ব শৈলিতে ১৭৫৫য় রাণী ভবানীর অনন্য কীর্তি এই ভবানীশ্বর। পঙ্খের কাজ অনবদ্য। ১৮ মিটার উঁচু মন্দিরের ছাঁদের গম্বুজটি যেন উল্টানো কমল। তার মাথায় পদ্মের পাপড়ি ৮ দিকে বিকশিত। আটটি প্রবেশ দ্বারও এর। ভাস্কর্য মন্দিরকে ঘিরে বারান্দা হয়েছে চারপাশে। কিছুটা দুরে পথের বাঁকে রাণী ভবানীর মেয়ে তারাসুন্দরীর তৈরি গোপাল মন্দিরটি আজ দীর্ণ। দেবতারা স্থানান্তরিত হয়েছে রাজবাড়ীতে। দু'পাশে ভাঙা দুই শিবমন্দির। এদেরি বামে রাণী ভবানীর রাজরাজেশ্বরী মন্দির। অনাড়ম্বর মন্দিরে অষ্টধাতুর মূর্তি হয়েছে পুত্র-কন্যাসহ দশভুজা মহিষমর্দিনী দুর্গার। এছাড়া দেবতা রয়েছেন দারুনির্মিত মদনগোপাল, জয়দুর্গা, করুণাময়ী মহালক্ষী, ঘোড়ার মতো গ্রীবাযুক্ত বিষ্ণু রাজরাজেশ্বরী মন্দিরে। সামান্য উত্তরে অতীতের রাজবাড়ীটি আজ বিধ্বস্ত। এই বাড়িতেই ৭৮ বছর বয়সে ১৭৯৫ খ্রিস্টাব্দে তিরোধান ঘটে রাণী ভবানীর। বসবাস করছেন রাজপরিবারে উত্তরসূরিরা আংশিক সংস্কার করে রাজবাড়ীতে। তৈলচিত্রে রাজপরিবারে বংশ পরম্পরাও দেখে নেওয়া যায়। রাজবাড়ী রেখে আরোও উত্তর দিকে যেতে বড়নগরের নিজিস্ব দেবতা অষ্টভূজ গণেশ মন্দির, জোড়বাংলা শিব মন্দির। টেরাকোটার কাজ খুবই সুন্দর। আরও উত্তরে রাণী ভবানীর গুরুবংশের মঠবাড়ি। বিপরীতে জোড়বাংলা। টেলাকোটায় সমৃদ্ধ গঙ্গেশ্বর শিব মন্দির। রাণীর মা কস্তুরীদেবী প্রতিষ্ঠিত কস্তুরীশ্বর শিবও রয়েছেন গঙ্গেশ্বর চত্বরে। আরও উত্তরে দেবতার অবর্তমানে টেরাকোটার সমৃদ্ধ নাগেশ্বর মন্দিরটিও সুন্দর। মন্দিরের শেষ নেই বড়নগরে।
How to go Murshidabad :-
ভাগীরথী এক্সপ্রেস শিয়ালদহ ছেড়ে বহরমপুর কোর্ট/মুর্শিদাবাদ পৌঁছে লালগোলা যাচ্ছে। লালগোলা প্যাসেঞ্জারে ঘন্টা পাঁচেকে বহরমপুর। এছাড়া চিৎপুর ছেড়ে বহরমপুর/মুর্শিদাবাদ হয়ে লালগোলা। যাচ্ছে রাণাঘাট-লালগোলা প্যাসেঞ্জারও। শহীদ মিনার থেকে CSTC এবং NBCTC সহ প্রাইভেট বাস যাচ্ছে। হাওড়া স্টেশন থেকে প্রাইভেট বাস যাচ্ছে বহরমপুর। যাচ্ছে SBSTC-র দূর্গাপুর-লালগোলা, দূর্গাপুর-শিকারপুর, দূর্গাপুর-বহরমপুর ছাড়াও উত্তরবঙ্গমুখি NBSTC, CSTC, SBSTC ও প্রাইভেট বাস বহরমপুর হয়ে।
Hotels in Murshidabad :-
There are some Information of Murshidabad Hotels and Murshidabad hotels phone numbers for further Information contact them.
WBTDC-র ট্যুরিস্ট লজ, Phone:- 03482-259711/9732510031. Tourism Centre, Phone:- 033-22436440/22488271. Smart hotel, Phone:- 03482-251147. Baharampur Lodge, Phone:- 03482-252952/250500. Sirajbag, Phone:- 03482-200614/23554931. White House Hotel, phone:-03482-259264/258689. Manjusha Hotel, Phone:- 03482-270321. Anurag Hotel, Phone:- 03482-270629. Yatrik Hotel, Phone:- 03482-270830. Sagnik Hotel, Phone:- 03482-270051/271492. Youth Hostel, Phone:- 22480626. Natalie Abash, Phone:- 03482-270232.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন