রাম, রাবণকে নিধন করার পর ব্রাহ্মণ হত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে লঙ্কা থেকে ফেরার পথে শিবের পুজা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। শিবমূর্তি আনতে হনুমান কে পাঠালেন কৈলাসে কিন্তু পুজার সময় অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে দেখে সীতাদেবী বালি দিয়ে শিবমূর্তি তৈরি করে পুজা করার পর হনুমান শিবমূর্তি নিয়ে উপস্থিত হলেন। এমতাবস্থায় সেই মুর্তিও প্রতিষ্ঠা করলেন রাম সাগর তীরে সামান্য উত্তরে। Rameswaram Temple- টি ১২ শতকে চোলরাজারা তৈরি শুরু করেন এবং ১৯ শতকে নায়ক রাজাদের সময়ে সম্পূর্ণ হয়। ১২১২ স্তম্ভের ওপরে মন্দিরটি তৈরি করার জন্য অর্থের যোগান দেয় সেতুপতি রাজারা। পৃথিবীর দীর্ঘতম বারান্দা ১২২০ মিটার রয়েছে Rameswaram-এ। সিলিং ও স্তম্ভ গুলো কারুকার্যমণ্ডিত এক একটি গ্রানাইট পাথর খোদাই করে তৈরি। সোনার আসনে মাথায় কালসর্প নিয়ে দেবতা সোনার পঞ্চমুখী ঢাকনা দিয়ে ঢাকা। Rameswaram Mandir-এ রয়েছে ১৫×১৬ ফুটের নন্দী ও পার্বতী ছাড়াও বিভিন্ন দেবতা। Rameswaram Mandir-টির উত্তর-দক্ষিণ-পশ্চিমে পিরামিডের মতো গোপুরম রয়েছে এবং পূর্ব দিকের গোপুরম দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়। এছাড়া মন্দিরটির নাটমন্দিরের সামনে ১২ তলা বিল্ডিং এর সমান সোনার পাতে মোড়া স্তম্ভ রয়েছে। Mandir-টি খোলা থাকে ভোর ৪ টে থেকে দুপুর ১টা এবং বিকাল ৩টে থেকে রাত্রি ৯ টা পর্যন্ত এবং প্রতিদিন ভোর ৫টায় স্ফটিক লিঙ্গ পুজা দিয়ে দিনের শুরু হয়। ৬ হেক্টর জায়গায় জুড়ে প্রাচীরে ঘেরা মন্দির চত্বরে মন্দিরটি উচু ভিতের উপরে অবস্থিত। বিশলয়তায় এবং ভাস্কর্যে অনন্য সুন্দর মন্দিরটি দ্রাবিড়ীয় স্থাপত্য শৈলীতে তৈরি এবং Rameswaram আকারে দক্ষিণ ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম। এছাড়া Rameswaram-এ রয়েছে ২২টি কুণ্ড, রামকুণ্ড, সীতাকুণ্ড লক্ষণ কুণ্ড সহ। রামকুণ্ডর জলে পাথর ভাসে এবং লক্ষণ কুণ্ডের জলে খাবার দিলে মাছেদের দেখতে পাওয়া যায়। কুণ্ড মানে তীর্থম... মন্দির পাশ্ববর্তী ১০০ মিটার এলাকা জুড়ে অগ্নিকুণ্ডমে সমুদ্রের শান্ত জলে রামচন্দ্রও স্নান করেছিলেন।
Places to visits in Rameswaram :-
Gandhamadana Mountain:- মন্দির থেকে ৩ কিমি দুরে ৩০ মিটার উচ্চতায় বালির পাহাড় Gandhamadana. হনুমান Gandhamadana Hills থেকে লাফ দিয়ে পকপ্রনালী পার হয়ে শ্রীলঙ্কায় যেতেন। Gandhamadana Mountain-এর Temple-এ শ্রী রাম-পদমের পুজা হয়।
Tapu :- অগভীর স্বচ্ছ জলে দেখে নেওয়া যায় বিভিন্ন রক, স্টার ফিশ, সী-হর্স কোরাল সহ রঙিন মাছেদের জলকেলি। হোটল তামিলনাড়ু থেকে দেড় কিমি দুরে ওলাকুদা পৌঁছে জলযানে একঘন্টা সময় লাগে টাপু যেতে।
Dhanuskodi :- Dhanuskodi-তে ভারত মহাসাগরে মিলন ঘটেছে বঙ্গোপসাগরের। Dhanuskodi-র বামে পকপ্রনালী এবং ডাইনে মান্নার উপসাগর এবং Dhanuskodi-র অগভীর জলে হেরন, এগ্রেট, ফ্লেমিংগো, হুইমব্রেল, স্যান্ডপাইপার, লিটল স্টিন্ট ঘুরে বেড়ায়। এখানেই শ্রী রামচন্দ্র আদম সেতু বা Adam's Bridge নির্মাণ করে ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায়সংযোগ স্থাপন করে কার্য্য উদ্ধারের পর আবার ভেঙেও দেন। এক সময়ে ফেরি যোগাযোগ ছিল শ্রীলঙ্কার তালাই মান্নার থেকে Dhanuskodi-র।Dhanuskodi-তেই সাক্ষাত্ হয়েছিল রামচন্দ্র এবং বিভীষণের এবং এখানে মন্দির রয়েছে ৩ কিমি আগে রাম, লক্ষণ, সীতা, বিভীষণ এবং হনুমানের। এখান থেকে ঘুরে নেওয়া যায় বিবেকানন্দ কুঠি এবং রামকৃষ্ণ পুরমে। রামেশ্বরম থেকে নিয়মিত তিনটি রুটে বাস যোগাযোগ রয়েছে Dhanushkodi -এর এবং ধনুষ্কোডি থেকে রামেশ্বরম ফেরার শেষ বাস ছাড়ে রাত্রি ৮ টার সময়।
Krusadai Island :- Krusadai Island থেকে বোটে ২ কিমি দুরে সেট্রাল ফিশ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মিউজিয়াম ও অ্যাকোরিয়ামে বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী ও রঙিন মাছের সংগ্রহ উপভোগ করা যেতে পারে Krusadai-এ। মান্নান উপসাগরের ইন্দো-নরওয়ে ফিসারি প্রজেক্ট Krusadai Island জীববিজ্ঞানীদের সাম্রাজ্যে ঘুরে আসা যেতে পারে। এছাড়া Krusadai-তে দেখা ও কেনা যেতে পারে কৃত্রিম মুক্তা চাষ ও মুক্তা সহ রঙিন মাছ ও অ্যাকোরিয়াম। TFDC -র অনুমতিক্রমে Krusadai থেকে আরোও ঘুরে আসা যায় নৌকায় করে প্রবাল দ্বীপ। পরিস্কার স্বচ্ছ অগভীর জলে পুঞ্জিভূত সাদা কোরাল ঘিরে রঙিন মাছেদের জলকেলি অনবদ্য অনুভূতির সৃষ্টি করে এখানে। প্যারাডাইস ফর মেরিন বায়োলজিষ্ট কুরুসদাই আইল্যান্ডে সী কাউ ও দেখা যায় তবে উচিত হবে স্কুবা ডাইভিং-এর সরঞ্জাম সঙ্গে রাখা।
Ramnad :- রামেশ্বরম থেকে ৩৬ কিমি এবং মাদুরাই থেকে ১২০ কিমি দুরে রামলিঙ্গ ভিলাস ঘুরে নিতে পারেন Ramnad. Ramnad তৈরি করেন রামের তৈরি সেতুর অধিপতি সেতু পতি রাজা। বাসস্ট্যান্ড থেকে ২ কিমি দুরে রঘুনাথ সেতুপতির বিধ্বস্ত দূর্গাটিও দ্রষ্টব্য।
Mon Madurai :- সেরামিক শিল্পের কারণে বিখ্যাত এই Mon Madurai.
যুদ্ধের সময়ে হনুমান তার বানর সেনাদের নিয়ে বিশ্রাম নিয়ে ছিলেন Mon Madurai. পেরুমল মন্দিরে মূর্তিও তৈরি হয়েছে হনুমানের। এছাড়াও আছে সোমনাথস্বামী মন্দির Mon Madurai-এ। রামনাথপুরম থেকে ৭১ এবং Madurai থেকে ৪৬ কিমি দুরে Mon Madurai. ত্রিচি-রামেশ্বরম প্যাসেঞ্জার, রামেশ্বরম এক্সপ্রেস ও তামবারাম-রামেশ্বরম সেতু ট্রেন গুলো যাচ্ছে Mon Madurai হয়ে।
How to go Rameswaram :-
হাওড়া থেকে ট্রেনে ভুবনেশ্বর গিয়ে ভুবনেশ্বর থেকে ট্রেনে রামেশ্বরম। কলকাতা থেকে ফ্লাইটে মাদুরাই গিয়ে মাদুরাই এয়ারপোর্ট থেকে periyar busstand গিয়ে সেখান থেকে মাদুরাই জংশন গিয়ে ট্রেনে রামেশ্বরম। কলকাতার M G Bus Stand থেকে হায়দ্রাবাদ - ব্যাঙ্গালোর হয়ে রামেশ্বরম। কলকাতা থেকে ট্রেনে ত্রিচি এবং ত্রিচি থেকে গাড়িতে রামেশ্বরম। কলকাতা থেকে ট্রেনে কন্যাকুমারী এবং কন্যাকুমারী থেকে গাড়িতে রামেশ্বরম। কলকাতা থেকে ট্রেনে চেন্নাই গিয়ে চেন্নাই থেকে গাড়িতে রামেশ্বরম। কলকাতা থেকে ট্রেনে ব্যাঙ্গালোর গিয়ে ব্যাঙ্গালোর থেকে গাড়িতে রামেশ্বরম। TTC - র এবং বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানি বাস মাদুরাই থেকে ঘন্টা চারেকে যাচ্ছে-আসছে রামেশ্বরম। কন্যাকুমারী থেকে TTC-র বাস মাদুরাই হয়ে NG 49 ধরে সাড়ে দশ ঘন্টায় যাচ্ছে-আসছে রামেশ্বরম। চেন্নাই থেকে রামেশ্বরম আসছে যাচ্ছে এছাড়া সালেম, ইরোড, কোমেম্বাটুর থেকে বাস যাচ্ছে আসছে। Rameswaram bus booking link click here
Hotels in Rameswaram :-
There are some hotels of Rameswaram and Rameswaram hotels Phone numbers.
Hotel Rama Palace, Phone:- 09092383833. Karthees Residency, Phone:- 09442149986. Hotel Sivasakthi, Phone:- 0801593200. Jangamwadi Math Yatri Niwas, Phone:- 04573221603. Hotel Raamajayan, Phone:- 0888365100. Hotel S R Residency, Phone:- 08675541183
Hotel Park Plaza, Phone:- 09488006008. Hotel Royal Residency, 0948922335. Beach view Cottage, Phone:- 09600043615. Hotel Pearl Residency, Phone:- 08056793800. Hotel Saara, Phone:- 09442700601. Hotel Ashoke, Phone:- 09488385009. Hotel Rameswaram Grand, Phone:- 04573222233.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন