শান্তিনিকেতনের প্রধান আকর্ষণ রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের বাসভবন uttarayan। অনেকগুলো ভবনের সমষ্টি উত্তরায়ণের বিচিত্রা ভবনে বসেছে Rabindra Museum। ১৯১৩ সালে পাওয়া নোবেল পুরস্কারটি চুরি যাওয়ার পর নোবেলের প্রতিকৃতির সাথে উপহার পাওয়া বিভিন্ন পদক, কবির ব্যাবহারিত চটি-জোব্বা-কলম, বসন-ভূষণ, ছবি, পাণ্ডুলিপি প্রদর্শিত হয়েছে মিউজিয়ামটিতে। ব্রিটিশরা ১৯১৫তে নাইটহুড উপাধি দেন কবিকে। ১৯১৯র জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ফেরত দেন ব্রিটিশদের খেতাব। আর এক অংশে গবেষণা কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। চত্বরে প্রদর্শিত হয়েছে কবির ব্যাবহারিত অস্টিন গাড়িটিও। পাশেই Rabindra Bhawan এবং রয়েছে রবীন্দ্র-পরিকল্পিত রবীন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত উদয়ন, কোনার্ক, শ্যামলী, পুনশ্চ, উদীচী। কবির নিজের হাতে লাগানো মালতীলতা আজও কোনার্কের সামনে শিরীষ গাছে স্মারক হয়ে প্রস্ফুটিত। উদীচীর ডাইনে গোলাপ বাগিচা। কিছুটা দুরে স্টুডিও চিত্রভানু। সাধারণের জন্য দর্শনীয় না হলেও কবির পুত্র রথীন্দ্রনাথের জন্মদিন ২৩শে নভেম্বর খোলা থাকে সর্বসাধারণের জন্য। এছাড়া সড়ক পার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়াঙ্গনে মহর্ষির সাধনবেদি Chatimtala আর এক দ্রষ্টব্য। সপ্তপর্ণী বৃক্ষের শীতল ছায়ায় শ্বেতমর্মরে বেদিতে বসে মহর্ষি লাভ করেছিলেন প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ, আত্মার শান্তি। কিছুটা দুরে ১৮৬৩তে তৈরি ব্রহ্মচর্যাশ্রম অর্থাত্ বর্ণময় কাঁচের উপসনা মন্দির। মন্দিরের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য কলকাতা থেকে এসে সম্পূর্ণতা পায় আলপনা আঁকা মেঝেতে আজও উপাসনা হয় প্রতি বুধবার ভোরে।
উল্টোদিকে মহর্ষির আর এক স্মারক ১৮৬৪তে তৈরি শান্তিনিকেতন গৃহ। Kala Bhawan - এ, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গগনেন্দ্রনাথ, নন্দলাল বসুর ম্যুরাল ও উঠান জুড়ে রামকিঙ্কর বেইজের স্টুকো ভাস্কর্য, বিনোদবিহারীর আঁকা দেওয়ালচিত্রে সুশোভিত হিন্দী ভাষা সংস্কৃতির হিন্দিভবন, নন্দলাল বসু চিত্রিত চীন ভবনে প্রাচীন বৌদ্ধ-জৈন পুথির সংগ্রহ, সঙ্গীত ভবন, নন্দন-প্রদর্শনশালা, মূল পাঠাগার ভবন, বহু বিচিত্র মুর্তি খোদিত কালোবাড়ি ছাত্রাবাস। এদেরও পর্যটক আকর্ষণ অনস্বীকার্য।
শান্তিনিকেতনের জন্মদিন ৭ই পৌষে জাঁকালো উৎসব হয়, মেলা বসে, শেষ দিনে সকাল ৮-০০টায় পরলোকগত আশ্রমবাসীদের স্মৃতিবাসর, দুপুরে হবিষ্যান্ন গ্রহন, সন্ধ্যায় আতশবাজি পোড়ে আকাশকে রঙিন করে-এরই নাম Pousmela। খুবই আকর্ষণীয় এই Pousemela জাতীয় উৎসবের চেহারা নিয়েছে। দিনরাতভোর বেচাকেনা চলে তালপাতার বাঁশি থেকে কুমোরের হাঁড়িকুঁড়ি। বিক্রি হচ্ছে শ্রীনিকেতনের চামড়ার ব্যাগ, মোড়া, মধুবনীর ছবি, ডোকরা শিল্প ছাড়াও গ্রামীণ পণ্যের নানান জিনিস। বাউলেরা আসে গাঁ-গঞ্জ থেকে আসরে। ১৯২৫এ শুরু হয়ে ঋতুরাজ বসন্তে শান্তিনিকেতনের আর এক আকর্ষণীয় উৎসব Basanta Utsab বা হোলির সূচনা। বাসন্তীরঙা বসনে সবাই চলেছেন Amrakunja-এ। ভোর থেকে গানে গানে মুখরিত হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। ফাগ ওড়ে বাতাসে। নেচে গেয়ে বৈতালিকের দল চলে পুরাতন Nandan Bhawan থেকে গৌর প্রাঙ্গণে। সারাদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠান যার খ্যাতি আছে পর্যটক মহলে। পর্যটকদের উচিত হবে উৎসব দুটো উপভোগ করা। শ্রীনিকেতনের মাঘমেলা মলিন হলেও পর্যটন আকর্ষণ যথেষ্ট। Sri Niketan মেলার মাঠে কৃষি ও গ্রামীণ শিল্পের প্রদর্শনীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিচিত্রা অনুষ্ঠানের আসর বসে ৩ দিনের এই মাঘোৎসবে। শান্তিনিকেতনের সমস্ত দপ্তর বন্ধ থাকে উৎসব চলাকালীন সময়ে। এছাড়া উৎসব হয় নববর্ষ, বর্ষশেষে, খ্রিস্টোৎসব শান্তিনিকেতন। শান্তিনিকেতন ঘুরে দেখার সময় বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার সকাল ১০-৩০ থেকে বিকাল ৪-৩০টা পর্যন্ত এবং মঙ্গলবার সকাল ১০-৩০ থেকে ১২-৩০ পর্যন্ত। গরমের ছুটিতে মে-জুন মাসে সকাল ৭টা থেকে ১১-০০ পর্যন্ত পর্যটকরা ঘুরে দেখতে পারেন। এছাড়া PRO-র বিশেষ ব্যাবস্থায় দুপুর ২-৩০ থেকে ৪-৩০ টা পর্যন্ত শান্তিনিকেতন এবং সকাল ১০টা থেকে ১২-৩০টা পর্যন্ত Sri Niketan দেখে নেওয়া যেতে পারে। বুধবার বন্ধ থাকে Santiniketan।
উত্তরায়ণ পার হতেই ত্রিমোহিনীর বাঁকের মুখে তালধ্বজ। আরো কিছুটা গিয়ে খালের পাড়ে ১৯৭৭র ১১জুলাই তৈরি হয়েছে Ballavpur National Park বা Deer Park। শাল, পিয়াশাল, শিশু, কাজু, হরীতকী, আমলকী, বহেরা, শিরীষ, জাম, মহুয়া, সোনাঝুরি, আকাশমণিতে ঘেরা ৭০০একর পরিব্যাপ্ত পার্কটিতে চিতল হরিণ, বার্কিং ডিয়ার, কৃষ্ণসার, ময়ূর ছাড়াও খরগোশ, বেজি, শিয়াল, সাপ ও পাখির বাস। সকাল ৮টায় এবং বিকাল ৩টায় খাবার খেতে আসার দৃশ্য অনন্য সুন্দর লাগে। পাশেই প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র বা নেচার ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার। পাশেই উচু-নিচু ছোট ছোট টিলায় শাল-সোনাঝুরির জঙ্গলে বিপ্লবীদের আশ্রয়স্থলে এক বিপ্লবীর তৈরি করা আমার কূটীরে কারুশিল্প, চর্মশিল্প, ব্লক প্রিন্ট ছাড়াও বিভিন্ন রকমের হস্তশিল্প দেখার সঙ্গে কিনতে পাওয়া যায়। আছে Bird Sanctuary Shantiniketan-এ। ডিয়ারপার্ক সংলগ্ন বিশাল ঝিলের বুকে নভেম্বর থেকে মার্চ মাসে বালিহাঁস, মরাল, পানডুবি, মেটেহাঁস, জলপিপি, তিতির, মাছরাঙা ছাড়াও হর্নবিল, পোকার্ড, গ্যাডওয়াল, শোভেলার, পিনটেল, ইগ্রেট ও হাজারো পরিযায়ীর মেলা। এছাড়াও আছে অজস্র কচ্ছপ ঝিলের জলে। সকাল-সন্ধ্যায় পায়ে-পায়ে খোয়াই-এর পাড়ে পাড়ে দেখে কাটান উর্মিল লাল কাঁকরের নিস্তব্ধ তোলপাড়। প্রতিবেশিনী Kopai শান্তি নিকেতনের আর এক উচ্ছল কবিতা। কোপাইয়ের ছন্দে ছন্দ মিলিয়ে শিশুসন্তান পিঠে বেঁধে সাঁওতাল মেয়েরা চলে মাঠের পর মাঠ পার হয়ে দুরে-বহুদূরে গাইছে বাউল এক তারায়ের মত। শান্তিনিকেতনের নবতম আকর্ষণ আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহ বা Gitanjali Art Gallery, ওয়ার্কশপ এবং কাফেটেরিয়া বাগান।
শান্তিনিকেতন থেকে ৩ কিমি দুরে Sri Niketan. এক সময়ের সুরুলে, ১৯২৩এ তৈরি হয়েছিল Biswabharati-র পল্লী শিল্পকেন্দ্র বিভাগ। এর কৃষি গবেষণার সুনাম আজ ভারত জুড়ে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নীলচাষ এবং চিনি তৈরি করত সুরুলে। ঠিক তেমনই সুনাম এর হস্তজাত শিল্পপণ্যের ভারত তথা বিশ্বজুড়ে। স্মারক হিসেবে সংগ্রহ করা যাবে নান্দনিক বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল হস্তজাত পণ্য সামগ্রী। ঝোলা ব্যাগ, কারুকার্যমণ্ডিত মোড়া, পটারি, বাটিকের বিভিন্ন কিছু যা শান্তিনিকেতনের একান্তই নিজস্ব। পথে পড়ে পিয়ার্সন পল্লী, অ্যান্ড্রুজ ভবন, বিনয় ভবন, কালীসায়র, রঘু ডাকাতের কালী মন্দির। কবির ৲২৫ তম জন্মবর্ষে Bolpur Rail Station এর ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মটিও দেওয়াল চিত্রে সাজানো হয়েছে। বসেছে আর্ট গ্যালারি-কবির স্মৃতি বিজড়িত বিভিন্ন সম্ভার নিয়ে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। কবির শেষযাত্রার সেলুন কারটিও প্রদর্শিত হয়েছে রেল স্টেশন থেকে বের হতেই সুন্দর মন্ডব তৈরি করে। Bolpur Station থেকে জয়দেব রোড ধরে ইলাম বাজার যেতে সুপুর, রায়পুর, কাঁকুটিয়া ও দেউলির অবস্থান। রিকশা বা বাসে একে একে ঘুরে নেওয়া যায়। ৪ কিমি দুরে ইতিহাস ও কিংবদন্তির মিলনক্ষেত্র সুপুর। ইলামবাজার গামি যে-কোনো বাসে শিবতলায় নেমে রাজা সুরথের তৈরি সুরথেশ্বর শিব মন্দির দেখে ৩ কিমি পশ্চিমে শাক্ত ও বৈষ্ণব তীর্থ কাঁকুটিয়া বামাক্ষ্যাপার স্মৃতি বিজড়িত হাটপুকুর কালীবাড়ি ও লোচনদাস প্রতিষ্ঠিত মহাপ্রভুর মন্দির দেখে নেওয়া যেতে পারে। দীপান্বিতা কালীপুজোর রাতে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তের দল আসেন। কাঁকুটিয়া গ্রাম পার হয়ে অজয় নদের তীরে শৈবতীর্থ দেউলীর খ্যাতী সুপ্রাচীন দেউলীশ্বর শিব মন্দিরের জন্য। হালকা গোলাপি রঙের মন্দিরের দক্ষিণ দিকে বৈষ্ণব কবি লোচন দাসের সিদ্ধাসন। এখানে বসেই চৈতন্যমঙ্গল রচনা করেন কবি। রায়পুরের জমিদার বাড়িটি আজ জীর্ণতা প্রাপ্ত হলেও সংলগ্ন নারায়ণ মন্দির, গৌড়ীয় মঠ, গোপীনাথ ধর্মঠাকুরের গড় দেখে নেওয়া যায়। মার্কণ্ডেয় পুরাণে পাওয়া যায়, ভাগ্য বিপর্যয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে দেবীর আরাধনায় হৃতসম্পদ ফিরে পেতে সুপুরের মহারাজা সুরথ লক্ষ বলি উপহার দেন দেবী চণ্ডী কে। সেখান থেকেই জায়গাটির নাম বলিপুর।
How to go Shantiniketan :-
হাওড়া থেকে বর্ধমান হয়ে পূর্ব রেলপথের সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনে ট্রেন যাচ্ছে Bolpur। ট্রেনে যাতায়াতে Shantiniketan Express উপযুক্ত হবে। এছাড়া গণদেবতা এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ-গুয়াহাটি কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, হাওড়া-পাকুড়-মালদহ ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস Bolpur যাচ্ছে। কম খরচে যেতে চাইলে হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে লোকালে বর্ধমান গিয়ে প্যাসেঞ্জার ট্রেনে Bolpur যাওয়া যায়। হাওড়া জয়নগর প্যাসেঞ্জার, হাওড়া-রাজগীর, শিয়ালদহ-রামপুরহাট প্যাসেঞ্জার কলকাতা ছেড়ে বর্ধমান-বোলপুর যাচ্ছে। পানাগড় হয়ে সড়ক সংযোগ রয়েছে সারা ভারতের সঙ্গে শান্তিনিকেতনের। শহীদ মিণার থেকে পানাগড় হয়ে বাস যাচ্ছে CSTCর সকাল ৯টায়।
Hotels in Shantiniketan:-
There ar some Santiniketan hotels and Santiniketan hotels Phone numbers.
Santiniketan Tourist Lodge, Phone:- 03463-252699. Tourism Centre, Phone:- 033-22488271/22436440. Diamond, Phone:- 033-22259639. Bolpur Lodge, Phone:- 03463-252662. Rangamati, Phone:- 03463-252305/9474309748. Royal Bengal, Phone:- 03463-257148/448/9007982002. Reliable Travels, Phone:- 9830163154. Chitrali Lodge, Phone:- 03463-252111/9475170286. Chowdhury Lodge, Phone:- 03463-253834/9474944741. Suravi Lodge, Phone:- 03463-252636. Money Holiday Resort, Phone:- 9434307150. TTMI, Phone:- 033-22845063. Manasi Hotel, Phone:- 03463-254200. Poushali, Phone:- 03463-261825/9434142454. Lokenath, Phone:- 9831510631. Chhuti Holiday Tesort, Phone:- 03463-252692/9434012872. Mark Meadows, Phone:- 03463-264871/9434007777.
These all are Cheapest Hotels of Shantiniketan. contact with these hotels of Shantiniketan phone number and get Information about Santiniketan hotels criteria.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন