Translate into your language

শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

Ajodhya tour : অযোধ্যা পাহাড় ভ্রমণ

জমিদার অযোধ্যা সিং -এর নাম থেকে নাম করণ করা হয় অযোধ্যা পাহাড়ের। ছোট-বড়ো পাহাড়ি ঝোরা, অসংখ্য গিরিশিখর ঢাকা শাল-মহুয়া-শিরীষ-সেগুনের সবুজ অরণ্যে। রঙ বদলায় ঋতুতে ঋতুতে। অরণ্য আচ্ছাদিত পাহাড় বনবরা, হাতি, হরিণ, নেকড়ে ও চিতা সহ বন্যদের বাসভূমি।

লোকশ্রুতি:-  দন্ডক যাওয়ার সময় রামচন্দ্র আসেন সীতা সহ অযোধ্যা পাহাড়ে। সীতাদেবীর তৃষ্ণা মেটাতে পাতালভেদী বাণে, পাতাল থেকে জল তোলেন শ্রীরাম। যেটি পরবর্তীতে রূপ নেয় কূপের। আজও শিকার উৎসবে দূর-দূরান্ত থেকে আসা আদিবাসী যুবকেরা, তুন্ড্রা ও বামনী জলপ্রপাতে স্নান করে সীতাকুণ্ডের জল পান করে। পবিত্র হয়ে বুইয়া বুইয়া কলোরবে মেতে ওঠে উৎসবে। শিকার উৎসবে বিক্রম প্রদর্শনে সম্মান বাড়ে সমাজে। বুড়বুড়ি পেরিয়ে কুন্ডের সামনে শালবনে দেখে নেওয়া যায়, কেশ বিন্যাসের সময়ে উড়ে গিয়ে শালের শাখায় জড়িয়ে থাকা সীতাদেবীর কেশ এবং সীতাদেবীর পায়ের চিহ্ন সীতা চাতালে।
শাল-শিমুলের শনশন, দুর-দূরান্ত থেকে ভেসে আসা মাদলের তান, জ্যোৎস্নারাতের মায়াবী আলোকে অরণ্যের অনির্বচনীয় শোভা ,মাতাল করে প্রকৃতি প্রেমিক কে। ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায় পচ্শিমবঙ্গের দ্বিতীয় পাহাড়ি শহরের রূপরেখা তৈরি করেছিলেন অযোধ্যা পাহাড় কে কেন্দ্র করে। সেই রূপরেখার বাস্তবায়ন না হলেও পাহাড়ে চড়ার শিক্ষা দেওয়া হয় অযোধ্যা পাহাড়ে। দলমা পাহাড়ের অংশ পুরুলিয়া ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তে অযোধ্যা, বাঁকুড়া থেকে ঘুরে নেওয়া যায়। 

How to go Ajodha Pahar:

১) হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে পুরুলিয়া। পুরুলিয়া থেকে চারচাকা গাড়িতে আরষা হয়ে অযোধ্যা পাহাড়।
২) কলকাতা থেকে দিন/রাত, সাধারণ/বাতানুকূল বাসে পুরুলিয়া হয়ে চারচাকায় অযোধ্যা পাহাড়। 
৩) কলকাতা থেকে নিজের গাড়িতে আরামবাগ, বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, আরষা হয়ে আনুমানিক ৩২০ কিলোমিটার।

হাওড়া থেকে পুরুলিয়া এক্সপ্রেস খড়্গপুর/বিষ্ণুপুর/বাঁকুড়া হয়ে পুরুলিয়া যাচ্ছে। হাওড়া ছেড়ে পরের দিন পুরুলিয়া যাচ্ছে হাওড়া-চক্রধর পুর/বোকারো প্যাসেঞ্জার। কলকাতা ফেরে পুরুলিয়া-হাওড়া এক্সপ্রেস, বোকারো-হাওড়া প্যাসেঞ্জার। এবং হাওড়া পুরুলিয়া রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস হাওড়া ছেড়ে পুরুলিয়া পৌঁছে হাওড়া ফেরে পুরুলিয়া থেকে। রাচি যাওয়ার খড়্গপুর-হাতিয়া প্যাসেঞ্জার, নতুন দিল্লির পুরুষোত্তম এক্সপ্রেস, হাতিয়া-ভাগলপুর বনাঞ্চল এক্সপ্রেস, ধানবাদ-টাটা সুবর্ণরেখা, টাটা যাচ্ছে ছাপরা/কাটিহার-টাটা এক্সপ্রেস, টাটা-ধানবাদ প্যাসেঞ্জার, আসানসোল-টাটা প্যাসেঞ্জার, বরকাকানা-আদ্রা প্যাসেঞ্জার, দানাপুর-দুর্গ সাউথ বিহার এক্সপ্রেস, সাপ্তাহিক চেন্নাই-গুয়াহাটি/ডিব্রুগড় এক্সপ্রেস সহ চক্রধরপুর-গোমো প্যাসেঞ্জার যাচ্ছে পুরুলিয়া হয়ে।
বাস যাচ্ছে শহীদ মিনার থেকে CSTC ও SBSTC -র তারাতলা থেকে। কলকাতা ফেরে পুরুলিয়া থেকে বিভিন্ন প্রাইভেট বাস সহ CSTC, SBSTC ভোর থেকেই। পুরুলিয়া থেকে বাস পাওয়া যায় SBSTC-র দীঘা, কৃষ্ণনগর, ঝাড়গ্রাম, বর্ধমান, তারকেশ্বর, মালদা, হাজারিবাগ ও বহরমপুর যাওয়ার জন্য।

Places to visits at Ajodha pahar:- 

বাঁকুড়া থেকে বাস ও ট্রেন যাচ্ছে পুরুলিয়ায়। পুরুলিয়া থেকে বাসে দুটি পথে যাওয়া যায় অযোধ্যা পাহাড়ে। পূর্ব দিকের "সিরকাবাদ আর পচ্শিম দিকের বাঘমুণ্ডি। নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি মাসে SBSTC-র বাস পুরুলিয়া রেল স্টেশন ছেড়ে সরাসরি অযোধ্যা পাহাড় যাচ্ছে, একই ভাবে পুরুলিয়া ফেরে। সারাবছর পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে ২৬ কিলোমিটার দুরের সিরকাবাদ পৌঁছে বারো কিমি ট্রেক করে অযোধ্যা। নিজিস্ব ব্যাবস্থায় বাস বা মিনিবাসও নিয়ে যেতে পারেন এই পথে। সিরকাবাদে অরণ্যের স্বাদ পাওয়া যায়, পাওয়া যায় থাকার ব্যবস্থাও ফরেস্ট রেস্ট হাউজে। তবে পথ নির্জন, চড়াই-এর সংখ্যা বেশি তাই ট্রেকারদের এই পথে যাওয়া উচিত নয়। পুরুলিয়া থেকে বলরামপুর, মাঠা, বাঘমুণ্ডি হয়ে মোট ৫৬ কিমি গিয়ে ৯ কিমি ট্রেক করে অযোধ্যা পাহাড়ে যাওয়া যায়। কিশোর ভারতী আশ্রমের বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে, প্রজেক্ট এলাকার মধ্য দিয়ে পাহাড়ে চড়া শুরু। পাহাড়ি বাঁক, টুরগা ড্যাম, দৃষ্টিনন্দন লেক ও বামনী নদীর জলপ্রপাত আকর্ষণ বাড়িয়েছে এই পথের। কলকাতা থেকে সরাসরি যাত্রায় হাওড়া-বোকারো প্যাসেঞ্জার ট্রেনে বলরাম পুরের রেল স্টেশন বরাভূম বা হাওড়া-রাঁচি-হাতিয়া এক্সপ্রেসে "সুইসা" পৌঁছে বাসে ২৫ কিলোমিটার দূরের বাঘমুণ্ডি গিয়ে পাহাড়ে চড়া উচিত। সুইসা হাওড়া-রাচি রেল পথের কাছের স্টেশন। ভ্যান/জিপও ভাড়া করে নিতে পারেন বাঘমুণ্ডি থেকে ১৬ কিলোমিটার গাড়ি পথের অযোধ্যার। বাঘমুণ্ডির অন্য আর এক আকর্ষণ চড়িদা বা চোড়দা গ্রাম ছৌ-নৃত্যের মুখোশ শিল্পের পীঠস্থান, বাঘমুণ্ডি থেকে ৩ কিমি দুরে। চৈত্র সংক্রান্তির এক দিন আগে , অযোধ্যা মোড় থেকে ৪ কিমি দুরে দু-দিনের "লহরিয়া বাবার গাজন মেলাও" দেখে নিতে পারেন। বসুন্ধরা কে সন্তুষ্ট করার এই উৎসবে, বনবন কোরে ভক্ত ঘোরে কণ্টকাকীর্ণ পাটায় শুয়ে, পিঠে তার কাঁটা, জিভে বাণফোঁড়। এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ টুসু-ঝুমুরের দেশে বাঁশি-ধামসা-মাদল বাজিয়ে কাগজের মুখোশ পরা ছৌ-নাচ প্রতিযোগিতা। পায়ে ছুরি বাঁধা মোরগ লড়াই। ১১ কিমি দুরের কয়রা নদীতে অর্ধচন্দ্রাকার "খয়রাবেড়া বাঁধটিও" আকর্ষণীয়। উৎসাহীরা বাঘমুণ্ডি থেকে ঝালদার পথে সুইসা ও দেউলির মন্দির গুলোও দেখে নিতে পারেন।

Hostels at Ajodha pahar:- 

আরণ্যক লজ (বাড়েরিয়া, বাগমুন্ডি), (near pump storage project), ফোন:- 9932725555/9732394115. মানভুম ট্যুরিস্টলজ (বাড়েরয়া, বাগমুন্ডি)
ফোন:- 9734776894. কঙ্কা ট্যুরিস্ট লজ(অযোধ্যা মোড়) Mob : 9732134656. শ্রীদুর্গা লজ (অযোধ্যা মোড়)ফোন:- 9785363833 / 9933907348. রেনুকা লজ
(অযোধ্যা মোড়) ফোন:- 9647595073 / 9732089041. স্টার লজ (বাগমুন্ডি থানার সামনে) ফোন:- 9002114701 হিলভিউ লজ, ফোন:- 8942961500. পরিবারলজ, ফোন:-8159850044. এছাড়া আছে ডে সেন্টার, শাল-পিয়াল লজ, দীপশিখা ফোন:-9564169591, হিলটপ লজ, ফোন:- 8972111906 ভারত সেবাশ্রম সংঘ, ফোন:- 03252-202894 / 9434877570. অভয়া লজ (বাগমুন্ডি), ফোন :- 8420935330
এছাড়াও থাকতে পারেন লায়ন্স ক্লাবের গেস্ট হাউসে। Ajodhya Guest House
(Implemented by Mandara Lions Club)
(সাহেবডি, অযোধ্যা, বাগমুন্ডি)
ফোন :- 8348693400
প্রতিটি গেস্টহাউসেই খাওয়া দাওয়ার ব্যাবস্থা আছে, তাছাড়াও খাওয়াদাওয়া করতে পারেন হোটেল পরিবার, হিলটপ হোটেল, হিলভিউ হোটেল, জয়শ্রীগুরু হোটেল, জগবন্ধু হোটেলে।
এবিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে পারেন অযোধ্যা পাহাড় ট্যুরিজম হেল্প সেন্টারে। এটি অযোধ্যা পাহাড় রাম ঠাকুর মেমোরিয়াল আদিবাসী ওয়েলফেয়ার সোসাইটি দ্বারা পরিচালিত হয়।
ফোন:- 8972119890.



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Rameswaram tour guide : রামেশ্বরম ভ্রমণ / Rameswaram, Tamilnadu

Rameshwaram temple :- রাম, রাবণকে নিধন করার পর ব্রাহ্মণ হত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে লঙ্কা থেকে ফেরার পথে শিবের পুজা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। শি...