Translate into your language

বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

Jhargram : Jhargram Tourist Spots / ঝাড়গ্রাম ভ্রমণ গাইড

Jhargram :- 
শাল, পিয়াশাল, শিমুল, জারুল, মহুয়া শোভিত প্রকৃতির সাজঘর Jhargram. Jhargram এর লাল কাঁকুরে পথঘাটের ঘা ঘেঁষে শাল-পিয়াল-আকাশমণি-সোনাঝুরি সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে। তার ফাঁকফোকরে বসতি। জলবায়ু স্বাস্থ্যকর এবং এখানের জল পেটের সমস্যায় উপাদেয়। গ্রীষ্মকালে মহুয়ার মোহমায়া এবং বর্ষায় ঝরঝর বাদল তান ধরে শালের মঞ্জুরিতে। Jhargram Rail Station থেকে ৩ কিমি দুরে Jhargram Palace বা চক মিলানো রাজার বাড়ি। বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেখে নেওয়া যায় Jhargram Rajbari । আছে লোকেশ্বর বিষ্ণু-চতুর্মুখ শিব-মনসা দেবীর মন্দিরও। অদূরে কিংবদন্তি খ্যাত সবিতার দাসী সাবিত্রী মন্দির। একসময় মন্দিরটি ছিল পাথরের বর্তমান মন্দিরটি তৈরি ১৯২০ সালে। মানবী দেবি সবিতার কেশ ও খড়্গ পুজা হচ্ছে এখনো পেটিকায়। মূর্তি হয়েছে চন্দন ও সিঁদুরে। সকাল ৯টা থেকে ১২ টা এবং সূর্যাস্ত থেকে ২ ঘন্টা খোলা থাকে মন্দির। শহর থেকে ৩ কিমি দুরে Jhargram Deer Park ৩৪.৫ হেক্টর জুড়ে ১৯৮৬তে তৈরি হয়েছে। বিশাল এক দীঘিকে কেন্দ্র করে মনোরম পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে এই park টি। আছে রঘুনাথ পুরের রাস্তায় আদিবাসী সংস্কৃতি পরিষদ। রাধানগরে ১০০ একর কেচেন্দা বাঁধ বা রাজবাঁধ ঝাড়গ্রামের রাজা বিক্রমজিৎ মল্ল উগাল দেবের খনন করা। এর সামনে সেবায়তন। চলার পথে আরো একটি দিঘি মেলাবাঁধ।

Jangalmahal:- লোধাশুলির ৫ কিমি, Jhargram Rail Station থেকে ১০ কিমি দূূরে Jangalmahal. আড়িয়াদহের অজয় ঘোষাল মহাশয়ের শখ ও স্বপ্ন সার্থক রূপরেখা পেয়েছে ২০ বিঘা বিস্তৃত Jangalmahal Horticulture তথা Botanical Garden এ। কালো গোলাপ, ক্যাকটাস, অর্কিড, জীবজন্তু, ফুলফলের গাছগাছালিতে ভরা Jangalmahal এখন ঝাড়গ্রামের এক অন্যতম দ্রষ্টব্য। সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত এবং বিকাল ২ টো থেকে সন্ধ্যা ৫ টা পর্যন্ত Jangalmahal খোলা থাকে এবং 
আগস্ট মাসে সকাল ৮ টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এবং ৩টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে Jangalmahal. এ রাস্তাতেই পড়ে মহারাজা উদ্যান বাটী। জঙ্গলের আদিমতা কে অক্ষুণ্ণ রেখে ৪০ বিঘা বিস্তৃত Maharaja Udyanbati তৈরী হয়েছে প্রকৃতি প্রেমিদের জন্য। গেস্টহাউস পার হতেই গড় salboni Forest. মল্লরাজাদের কীর্তি কলাপে সমৃদ্ধ বিশাল শালের গড়। গভীর জঙ্গলের ৩ কিমি ভিতরে লোধা উপজাতির বসবাস।
শহর থেকে সিটি বাস ও অটোরিকশায় যাওয়া যায় Jangalmahal.

Chilkigarh:- Chilkigarh বিখ্যাত গড়  জঙ্গলমহলের দূর্গ এবং মন্দিরের জন্য। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম গণবিদ্রোহ চুয়াড় বিদ্রোহে শামিল হন রাজা। রজক অর্থাত্ ধবলদের হারিয়ে ধবলদেব উপাধিধারী ধলভূম রাজাদের Rajbari ডুলুং নদী পার হয়ে এই Chilkigarh এ। পথ থেকে সরে প্রকৃতির যাদুঘরে অতীতের পঞ্চরত্ন মন্দিরটি পরিত্যক্ত হওয়ার পরে নতুন করে মন্দির হয়েছে।১৩৪৮-এ গড় জঙ্গলের মধ্যে পিঢ় রীতিতে অশ্বারূঢ়া, ত্রিনয়নী, চতুর্ভুজা, অষ্টধাতুর জাগ্রতা শাক্তদেবি কনকদূর্গার Kanakdurga Mandir. দুর অতীতে সোনার দূর্গা কে লুঠ করেন ভাস্কর পন্ডিত। অতীতে প্রতি অমাবস্যায় নরবলি হতো আজ নবমীতে ছাগল ও মহিষবলি হয় Kanakdurga Temple এ। অরণ্য চিরে নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে ডুলুং নদী। যাতায়াতের রাস্তায় শীতের সময় জামবনির কাছে কেন্দুয়া গ্রামে পরিযায়ী পাখিদের রোজনামচা দেখে নেওয়া যায়। 
জঙ্গলমহল থেকে সরাসরি বাস পাওয়া না গেলে ঝাড়গ্রাম থেকে চিল্কীগড়/গিধনিমুখি বাসে জঙ্গলমহলের রাস্তায় ২ কিমি এসে, ডান দিকে ১১ কিমি গিয়ে জামবনি রেখে আরোও ৫ কিমি গিয়ে Chilkigarh.

Gidhni:-  মন্দির রেখে  Rajbari দেখে আরো ৬ কিমি গিয়ে Gidhni. ট্রেনে Jhargram Station এর পরের স্টেশন Gidhni Station. হাওড়া থেকে ১৭০ কিমি দুরে পচ্শিমবঙ্গের প্রান্তসীমা Gidhni. আকাশে-বাতাসে ঝাড়খণ্ডের গন্ধে মিশে, শালবন চিরে পথ চলে ডুলুং নদী। Gidhni-এর প্রকৃতি আপন মহিমায় সমুজ্জ্বল। মেটে বাড়িঘর, রাঙাপথের বাঁকে বাঁকে ছোট্ট ছোট্ট গ্রামে পুটুশ, বনতুলসী, কুসুম, মহুয়া বনে মুণ্ডা, সাঁওতাল, মহালি, শবরদের বসবাস। ১৯৫৫-এর ১লা এপ্রিল ২২ হেক্টর Gidhni Forest ৩টি বিটে ভাগ হয়ে নাম হয়েছে আমতোলিয়া, কানাইসোল আর গদরাসোল। গিধনি থেকে ১ কিমি দুরে কানাইসোল, নীল আকাশের গায়ে সারস, টিয়া, শালিকের কোলাজ। Kanaisol Banglo র কাছেই একদিকে পারিহাটি অন্যদিকে Chilkigarh. কিছুটা দুরে Dalmapahar থেকে ভাল্লুক, হাতি, হায়নারা অভিসারে নামে।

Belpahari:- ঝাড়গ্রাম থেকে ৪৫ কিমি দুরে শালে ছাওয়া, টিলা টিলা সুন্দর পাহাড়ি অধিত্যাকায় আদিবাসী অধ্যুষিত Belpahari Village. সরাসরি বাস পাওয়া যায় ঝাড়গ্রাম/মেদিনীপুর ছাড়াও বিভিন্ন দিক থেকে বেলপাহাড়ি, তামাজুড়ি/ঝিলিমিলির। পিয়াল শাল, মহুয়া, ঝাউ, সোনাঝুরি, ইউক্যালিপ্টাস ও শিরীষেরা ছাতা ধরেছে Belpahari-র মাথায়। চোখে পড়ে কানাইসোল পাহাড়ের কপালে টিকলি হয়ে পূর্ণিমার চাঁদের শোভাবর্ধন Belpahari থেকে। জ্যোৎস্নায় ভেজা পাহাড়তলির নৈসর্গিক পরিবেশে সহজ সরল Belpahari -এর মানুষজন মকর সংক্রান্তিতে এলাকা জুড়ে টুসুর পরবে মাতোয়ারা।

Ghagra:- বেলপাহাড়ির থেকে ৯ কিমি দুরে আর এক স্বপ্নপুরী লাল সুড়কির পথে ঘাঘরা। জিপে বা পায়ে পায়ে ট্রেক করে মিনিট ৪০ শে যাওয়া যায় ঘাঘরায়। পাহাড়ে ঘেরা চারিপাশে ইউক্যালিপ্টাস-অমলতাস-পিয়াল-শালের সবুজ বনবাসর। কিছুটা দুরে তারাফেনি ব্যারেজের অনাবিল জলধারা নিস্তব্ধতা ভাঙছে। তারই মাঝে এলোমেলো পাথর খণ্ড। কংসাবতীর জল বন্দি করা হয়েছে এখানে ১০ লকের বাঁধে। জল শোধন হয়ে বেলপাহাড়ি যাচ্ছে এখান থেকে। তারাফেনি থেকে বিকল্প রাস্তায় শিলদা-বিনপুর-দহিজুড়ি হয়ে ঝাড়গ্রামে ফেরা যায়

Shilda:- গিধনি থেকে শিলদার দুরত্ব ৯ কিলোমিটার। চুয়াড় বিদ্রোহের অন্যতম ঘাঁটি ছিল সাঁওতাল ভূমির Shilda। সুখ্যাতি আছে দশমীতে Shilda Voirabi Mela-এর। দুপুর থেকে ঢল নামে মানুষের পাহাড় বন পেরিয়ে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার থেকে। ঘাটশিলা থেকে গভীর রাতে দেবী রণকিণী আসেন ভৈরবের সাথে মিলিত হতে। Shilda-য় আরোও আছে Rajbari, মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ শিলদা বাঁধ বা দিঘি। শুক্রবারের হাটের বৈচিত্র্য আছে  Shilda-এর।

Dahijuri:- ঝাড়গ্রাম থেকে ১৮ কিমি দুরের ৯৫০ বিঘা শালে ছাওয়া সব পেয়েছির বাগান Dahijuri-ও ঘুরে নেওয়া যায়। প্রকৃতিই dahijuri Tour এর প্রধান দ্রষ্টব্য।

Kakrajhor:- কুসুম, শাল, পিয়াশাল, আকাশমণি, পলাশ, সেগুন মহুয়ার সৌরভে সুরভিত ভৈরব পাহাড় ঘেঁষে ৯০০০ হেক্টরের গভীর জঙ্গলে বুনো শূয়োর ও ভাল্লুক ঘুরে বেড়াচ্ছে Kakrajhor-এ। রাতের বেলায় কেন্দু ও মহুয়া খেতে আসে এরা। কখনো কখনো লেপার্ড, বাঘ ও হাতিরাও ঘুরে যায় Dalma Pahar থেকে। আদিবাসীদের মাদলের ও মৃদঙ্গের দ্রিম দ্রিম বোল ভেসে আসে Dalmapahar থেকে। প্রখর গ্রীষ্ম বাদ দিয়ে বছরের যে কোনো সময়ে চাঁদনি রাতে ঘুরে আসা যায়  Kakrajhor.২৮টি গ্রামে শতাধিক পরিবারে পাহাড়ি নদীর পাড়ে বসবাস হাজার খানেক মুণ্ডা,  সাঁওতাল, ভূমিজ উপজাতির Kakrajhor-এ। কেন্দুপাতা সংগ্রহ যাদের জীবিকা। কাঁকড়াঝোড়ের শালবনের মোহময়ী রূপমাধুরী স্বপ্নময় করে তোলে পর্যটকদের। পশ্চিমে ঘর্ঘরা নালা বা ভৈরবী নদীর এপারে বাংলা ওপারে ঝাড়খণ্ড। বিক্ষিপ্ত বোল্ডারের মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে মাকুনি নদী। অরণ্যক পথে ভৈরবীর হাটুজল ভেঙে মাকুনি গিরিখাত অভিযান করে নিলে মন্দ হয় না। গভীর জঙ্গলে পাখিদের কলকাকলি রমণীয় করে পরিবেশ। কাঁকড়াঝোড়ে বিশ্রাম নিয়ে ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলাও যাওয়া যেতে পারে ৭ কিমি হেঁটে হুল্লু পৌঁছে বাস বা ট্রেকারে আরোও ১৫ কিমি গিয়ে। নিজিস্ব ব্যবস্থায় জিপেও যাওয়া যায় এপথ। সরাসরি Kakrajhor যেতে চাইলে ঘাটশিলা হোয়ে যাওয়াই শ্রেয়।
বেলপাহাড়ির পার হয়ে আরোও ১০ কিমি গিয়ে তামাজুড়ির বাসরাস্তা ধরে ভোলাবেদা থেকে ১৮ কিমি পায়ে হেঁটে যাওয়া যায় Kakrajhor. জিপ যাচ্ছে ভোলাবেদা রেখে বাঁশপাহাড়ির রাস্তায় ১৮ কিমি গিয়ে শিয়রবেদা থেকেও ১৮ কিমি গিয়ে Kakrajhor Forest তথা বনবাংলো। হাওড়া থেকে সরাসরি যাত্রায় ইস্পাত এক্সপ্রেসে ঝাড়গ্রাম বা লোকালে খড়্গপুর পৌঁছে, খড়গপুর-টাটা প্যাসেঞ্জারে Jhargramপৌঁছে জিপে কাঁকড়াঝোড় যাওয়া যায়। ৭৬ কিমি দুরের Jhargram Rajbari থেকে যাওয়া-আসার জিপ পাওয়া যায়।

বাস বা অটোরিকশায় টুকরো করে বা জিপে ঝাড়গ্রাম থেকে সকাল ৭ টায় বের হয়ে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে ঘুরে নেওয়া যায় আলোচ্যসূচিতে কাঁকড়াঝোড় জুড়ে নিয়ে।

How to go Jhargram :-

হাওড়া থেকে ১৫৫ কিমি দুরে ঝাড়গ্রাম। হাওড়া থেকে ইস্পাত এক্সপ্রেস, স্টিল এক্সপ্রেস, হাওড়া-কোরাপুট-জগদলপুর এক্সপ্রেস, এছাড়া হাওড়া থেকে খড়্গপুর/ঝাড়গ্রাম/ঘাটশিলা হয়ে টাটা এবং শালিমার থেকে লোকমান্য তিলক এক্সপ্রেস যাচ্ছে ঝাড়গ্রাম। এছাড়াও নানান লোকাল ট্রেন আছে হাওড়া থেকে।

CSTC-র বাস যাচ্ছে শহীদ মিনার থেকে কলকাতা-মুম্বাই NH6 ধরে ২৪৬ কিমি দুরে লোধাশুলি থেকে ডানদিকে গড় শালবনি হোয়ে ১৪ কিমি গিয়ে ঝাড়গ্রাম।


Hotels in Jhargram:-
There are some hotels in Jhargram and their contact information. If you have further enquiries about Jhargram hotels contact with them by Phone numbers.

মল্ল রাজাদের রাজবাড়িতে ৩১ বেডের ট্যুরিস্ট লজ, যোগাযোগ:- ট্যুরিজম সেন্টার, ফোন:- 03221-22436440. Banani, Call:- 9832791270. ঝাড়গ্রাম ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার, ফোন:-03221- 22370060/61.
গিধনিতে FIB আছে, যোগাযোগ DFO, Jhargram, Phone:- 255010/255171.
বেলপাহাড়িতে FIB, যোগাযোগ DFO, Jhargram, Midnapur, Phone:- 255010/ 255150.
দহিজুড়িতে বিলাস বহুল কটেজ আছে, বুকিং কলকাতা,  ফোন:- 25210259. MPS -ও Green Fort Resort, Phone:- 03221-308101/24198621/23.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Rameswaram tour guide : রামেশ্বরম ভ্রমণ / Rameswaram, Tamilnadu

Rameshwaram temple :- রাম, রাবণকে নিধন করার পর ব্রাহ্মণ হত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে লঙ্কা থেকে ফেরার পথে শিবের পুজা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। শি...