Translate into your language

শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০

Sandakaphu : Sandakaphu tour / সন্দকফু ভ্রমণ গাইড

এভারেস্টের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য সিঙ্গলীলা পর্বতের Sandakaphu র আবেদন অনস্বীকার্য। Sandakaphu র সূর্যোদয় অবর্ণনীয়।সোনালী সূর্য রঙবাহারি সাজে সজ্জিত করে হিমেল হিমালয়কে। সোনা রঙে কাঞ্চনজঙ্ঘা ঝিকমিকিয়ে ওঠে। পথ চলে গিয়েছে প্রাকৃতিক জ্যুলজিক্যাল ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের মধ্যে দিয়ে। লোলি গুরাস, ম্যাগনোলিয়া, পাইন ও সিলভার ফারে ঘেরা এ রাস্তায় জানা-অজানা ৬০০রও বেশি প্রজাতির পাখির কাকলি ক্লান্তি ঘুচিয়ে দেয়। চড়াই-উতরাইয়ের সমাহারে, বন্ধুর এ পথ চলা মাঝে চমরী গাইয়ের দেখা পাওয়াও যায়। 
How to go Sandakaphu:- 
দার্জিলিং থেকে শেয়ার ট্যাক্সি বাসে গেটওয়ে অফ সন্দকফুর মানেভনজং পৌঁছাতে হবে। এখান থেকেই ট্রেক শুরু হয়। দার্জিলিং থেকে বাসে ঘুম-লেপচা জগৎ-সুখিয়াপোখরি হয়ে ২৭ কিমি দুরে ২১৩৪ মিটার উচুতে manevanjan। দার্জিলিং-রিম্বিক বাসও যাচ্ছে ঘুম-সুখিয়াপোখরি-manevanjan হোয়ে। সরাসরি যাত্রায় NJP থেকে ধোত্রে বা রিম্বিক যাওয়া যায় সুমো/মার্শাল/জিপে।
ল্যান্ডরোভার যাচ্ছে দার্জিলিং থেকে পাঁচ-সাড়ে পাঁচ ঘন্টায় Sandakaphu। আবার NJP থেকে মানেভনজং-এ গাড়ি বদল করে Sandakaphu ও falut যাচ্ছে ল্যান্ডরোভার।

How to go Sandakaphu :- 
Manevanjan:- পূর্বদেশের লোকেদের বাস  Manevanjan এ। Manevanjan দোকানপাট, বাড়িঘর, হোটেল-লজ-রেস্তোরা, চোর্তেন মন্দির নিয়ে গড়ে উঠেছে। Manevanjan-এর আকাশে অশুভ আত্মার পরিত্রাতা লংদার। মানেভনজং থেকে ট্যাক্সিতে সুখিয়া ও জোড়পোখরি ঘুরে নেওয়া যায়। মিরিকের পথ চলে গেছে সুখিয়া হয়ে। পরের দিন আট কিমি চড়াই ভেঙে ২৮৯৫ মিটার উচু নেপালি গ্রাম মেঘমা।

Meghma:- Meghma য় চায়ের দোকান, হোটেল লজ সহ প্রাচীন এক বৌদ্ধ মনাস্ট্রি আছে। রাত্রিতে থাকার জন্য ঘর পাওয়া যায় Meghma য়। Meghma থেকে গাড়ির পথ গিয়েছে ৩০৭০ মিটার উচু Tonglu তে।

Tonglu:- সারা দার্জিলিং পাহাড় সহ উত্তরের কাঞ্চনজঙ্ঘার শৃঙ্গরাজি সুন্দর দেখা যায় Tonglu থেকে। এখানে ট্রেকার্স হাট, ডি আই বাংলো, ইয়ুথ হোস্টেল রয়েছে। Tonglu র ৪ কিমি আগের ধোত্রে থেকেও কাঞ্চনজঙ্ঘা সুন্দর দেখা যায়। তবুও Tongluতে না গিয়ে Meghma থেকে বাম দিকের রাস্তা ধরে ২ কিমি দুরের Tumling হয়ে আরোও ৩ কিমি দুরের জৌবাড়িতে দুপুরের খাওয়া দাওয়া। রাতে থাকার ব্যবস্থাও আছে জৌবাড়ি, তুমলিং-এ। কিন্তু আরোও নিচে নেমে ২৬৮২ মিটার উচু গৈরিবাসে রাত্রিযাপন। 
কালপোখরি:-  গৌরিবাস থেকে তৃতীয় দিনে দুই কিমি চড়াই ভেঙে কৈয়াকাটায় চা-চক্র। তারপর আবার ৪ কিমি চড়াই পেরিয়ে ৩১৭০ মিটার উচ্চতায় কালপোখরি।

Kalipokhri :- স্থানীয়দের কাছে খুবই পবিত্র এই কালো জলের পুকুর। থাকাও যেতে পারে এই কালনাগের বাসস্থানে। রয়েছে বিভিন্ন হোটেল ও লজ এখানে। কালপোখরি থেকে ৪ কিমি দুরে বিকেভঞ্জন। বিকেভঞ্জনেও রয়েছে লজ। বিকেভঞ্জন থেকে সন্দকফু আরোও তিন কিমি দুরে। শেষ চার কিমিতে অজেয় চড়াই পার হতে হয়, সিলভার ফার, জায়েন্ট ব্যাম্বু, ট্রি ফার্ন, ম্যাপেল, ওক, বার্চ, রডোডেনড্রন, ম্যাগনোলিয়া সহ অর্কিডের ঘন অরণ্যের মধ্য দিয়ে। বিভিন্ন জানা-অজানা পাখপাখালি, রেডপান্ডা, ধূসর রঙা চিতা, হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার সহ দেখা পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরণের বন্যদেরও।

ফেরার পথ:- কালপোখরি রাস্তায় ২ কিমি চড়াইয়ে উঠে পাকদণ্ডির রাস্তা ধরে উতরাইতে নেমে ১৬ কিমি দুরের রিম্বিক পৌঁছান। গাইড ছাড়া পথ ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রিম্বিকে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে কিন্তু না থাকতে চাইলে আরো ২ কিমি উতরাইতে নেমে ২২৮৬ মিটার উচু রিম্বিক বাজারে থাকা যেতে পারে। গুম্বাদাড়া বাসস্ট্যান্ডেও বিভিন্ন হোটেল ও লজ রয়েছে।

রিম্বিক:- রিম্বিক থেকে দার্জিলিং শহর ও বরফ ঢাকা নওলেখ সুন্দর দেখা যায়। পাহাড় ঘেঁষে বাড়িঘর, জনপদ, সহ এলাচ, আদা, আলু, কুয়াস বাগান। রিম্বিক থেকে সমতলে ঝেপি হোয়ে ৭ কিমি ট্রেক করে অথবা জিপে শ্রী নদীর তীরে শিরিখোলা।

শিরিখোলা/শ্রীখোলা:- ১৯০০ মিটার উচ্চতায় সবুজ পাহাড় ভেঙে বয়ে চলেছে শ্রীখোলা নদী। ওক, বাচ, উতিশ, গাছের ডালে ডালে হাজার পাখির কলকাকলি ও শ্রীখোলার কলতানে নীলাকাশ মিলেমিশে মায়াবী পরিবেশ। রয়েছে থাকার জন্য বিভিন্ন হোটেল ও লজও। গুরদুম হয়ে সন্দকফুর দুরত্ব ১৩ কিমি শ্রীখোলা থেকে। ৪র্থ দিন দেড় কিমি উতরাই নেমে গুম্বাদারা থেকে বাসে বা শেয়ার জিপে দার্জিলিং পৌঁছান যায়। পরিস্থিতি অনুকূল না হলে মেঘমা/জৌবাড়ি/কালপোখরিতে রাতে থাকা যেতে পারে। দার্জিলিং থেকে বাসে লোধামা পৌঁছেও পায়ে হেঁটে গৈরীবাস হয়ে সন্দকফু যাওয়া যেতে পারে। রিম্বিক থেকে লোধামা হয়ে ১৭ কিমি দুরের ১৬২৪ মিটার উচু ঝেপি পৌঁছে রাতের বিশ্রাম নিয়ে আবার ৮ কিমি গিয়ে বিজনবাড়ি রাত কাটিয়ে আরো ৮ কিমি সিংথাম ফটক হয়ে দার্জিলিং পৌঁছানো যায় হেঁটে। বিজনবাড়ি থেকে ঘুম হয়ে দার্জিলিং-এর গাড়ি পাওয়া যায়। 

Sandakaphu to Phalut Trekking :- 
সন্দকফু থেকে ২৩ কিমি দুরে ৩৬০০ মিটার উচ্চতায় খোলা ছড়ানো নেড়া পাহাড় মানে ফালুট। এই পথে পড়ে ঘন সবুজ উপত্যকা সামানদেন। জিপ যাচ্ছে সন্দকফু থেকে ফালুট। সন্দকফু থেকে ঘন্টা পাঁচেকে মোলে পৌঁছে রাতের বিশ্রাম। ফালুট দেখে ঘন্টা ছয়েকে গোর্কে পৌঁছে রাতের বিশ্রাম। গোর্কে থেকে ১ ঘন্টা চড়াই বেয়ে ফালটু টপ বা সানরাইজ পয়েন্ট। সান রাইজ পয়েন্ট থেকে রিম্বিক পৌঁছান ঘন্টা সাতেকে পরের দিন। 

সিকিমের জোরথাং-রিবদি হয়ে বাস ও জিপ পাওয়া যায়। রিবদি থেকে ট্রেক করে ৮ কিমি দুরে গোর্কে, আরোও এক কিমি পাহাড় চড়ে সামানদেন হয়ে যাওয়া যায় ফালুট। চড়াই উতরাই পথে আট কিমি দুরে সিকিমের রিবদি পৌঁছে জিপে বা বাসে জোরথাং হোয়ে শিলিগুড়ি/গ্যাংটক/পেলিং যাওয়া যায়। সন্দকফু থেকে ৩ কিমি উতরাইয়ে সমতল পথ ধরে চলতে গিয়ে শেষ ৫ কিমিতে হালকা চড়াই চড়তেই ফালুট। 

ফালুট:- পচ্শিবঙ্গ-সিকিম-নেপালের মিলনস্থল ফালেলুং। হিমালয়ের হিমেল সৌন্দর্য উপভোগ করার আকর্ষণই ফালুটের মুখ্য উদ্দেশ্য। ফালুটের টপ থেকে ১৪৪ কিমি দুরের কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ রূপমাধুরী বিমোহিত করে। মেঘ মুক্ত দিনে ফালুট থেকে উত্তর-পচ্শিমের হিমালয় দৃষ্টি তৃপ্তি দেয়। 


মানেভনজং থেকে সন্দকফু ট্রেক প্লান ৪ রাত মানেভনজং-তুমলিং-কালপোখরি-সন্দকফু -সেপি।

Sandakaphu trek Plan 4 N 4 D

প্রথম দিন:-
1)গাইড প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১০০০টাকা।
2) পথের জন্য কিছু শুকনো খাবার খরচ- ২০০ থেকে ৩০০টাকা।
3) সিঙ্গলীলা ন্যাশনাল পার্কের এন্ট্রি টিকিট জন প্রতি ২০০টাকা।
4) ক্যামেরা খরচ একটি ১০০টাকা।
5) দেড় ঘন্টায় ২৫৫০ মিটার উচ্চতায় চিত্রাতে পৌঁছে চা বা কফি জনপ্রতি ২০টাকা।
6) সেখান থেকে লামেধুর পৌঁছে বিকালে চা বা কপি ১০ টাকা জনপ্রতি।
7) লামেধুর থেকে মেঘমা হোয়ে তুমলিং-এ প্রথম দিনের যাত্রা শেষে রাত্রিযাপনের ঘর ভাড়া ৬০০ থেকে ৮০০টাকা+ রাতের খাবার ৮০ থেকে ১০০টাকা+ শরীর গরম রাখতে তোংবা খেতে পারেন হাফ পট ৫০টাকা।
প্রথম দিনের মোটখরচ=
১০০০÷৪=২৫০+৩০০+২০০+১০০+২০+১০+৮০০÷৪=২০০+৮০+৫০= ১২১০ টাকা।

দ্বিতীয় দিন:-1) সকালের টিফিন ১০০ টাকা
2) ঝাউবাড়ি ঘন্টা খানেকে পৌঁছে আবার টিফিন ৫০টাকা।
3) ঝাউবাড়ি থেকে গৌরিবাস হয়ে কাইয়াকাটা পৌঁছে দুপুরের খাবার ৬০ থেকে ১০০টাকা।
4) ঝাউবাড়িতে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার পর ১১ কিমি দুরের কালাপোখরি পৌঁছে রাত্রিযাপন জন প্রতি ২৫০টাকা, চা ১৫টাকা, রাতের খাবার ২০০টাকা।

দ্বিতীয় দিনের খরচ: ১০০০÷৪= ২৫০+১০০+৫০+৬০+২৫০+১৫+২০০= ৯২৫ টাকা।

তৃতীয় দিন:- কালপোখরি থেকে সন্দকফু ৬ কিলোমিটার। সকালের চা ১৫ টাকায় খেয়ে রওনা। ১ ঘন্টা পর বিকেভঞ্জনে ৩২৮০ মিটার এসে সকালের ব্রেকফাস্ট ৮০ টাকা জনপ্রতি। মানেভনজং থেকে ২ ঘন্টায় সন্দকফু পৌঁছান দুপুরে পৌঁছে ঘুরে দেখুন অথবা বিশ্রাম নিন। দুপুরের খাবার ২০০টাকা। রাত্রিযাপন জনপ্রতি ২২০+খাওয়া ২০০+ গাইডের থাকা-খাওয়া ৪২০টাকা।

তৃতীয় দিনের খরচ:- ১০০০÷৪= ২৫০+ ১৫+৮০+২০০+২২০+২০০+৪২০= ১৩৮৫ টাকা।

চতুর্থ দিন:- সন্দকফু থেকে ১০ কিমি দুরে গুুুুরদুম। গুরদুমে লাঞ্চ কাম ব্রেকফাস্ট ১০০টাকা এবং গুরুদুম থেকে শ্রীখোলা। শ্রীখোলাতেই ট্রেক শেষ। শ্রীখোলা থেকে সেপিতে এসে চা ১০টাকা, রাতের খাবার ২০০টাকা, রাত্রিযাপন ২০০টাকা।
চতুর্থ দিনের খরচ:- ১০০০÷৪=২৫০+১০০+১০+২০০+২০০= ৭১০ টাকা

মানেভনজং থেকে সন্দকফু ট্রেক খরচ:- ১৩৮৫+৯২৫+১২১০+৭১০= ৪২৩০ টাকা + (ট্রেকিং সরঞ্জাম ভাাড় ১৬০০+ সেপি থেকে দার্জিলিং যাওয়া খরচ ৩০০টাকা+খাওয়া খরচ ২১০টাকা) 


* সেপি থেকে দার্জিলিং-এর শেয়ার জিপ জনপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০টাকা, চার ঘন্টায় দার্জিলিং-এ এসে ব্রেকফাস্ট ২১০টাকা। দার্জিলিং থেকে আড়াই ঘন্টায় শিলিগুড়ির শেয়ার জিপে ১৫০ টাকায়।

শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং শেয়ার জিপে ১৫০ টাকা। মানেভনজং-এ একরাত থাকতে হতে পারে থাকা-খাওয়া ৫০০টাকা। ট্রেকিং সরঞ্জাম মানেভনজং থেকে পাওয়া যায় ভাড়া প্রতিদিন ৪০০টাকা। চারদিনের সরঞ্জাম ভাড়া ১৬০০টাকা।

শিলিগুড়ি থেকে সন্দকফু ট্রেকিং খরচ:- ৪২৩০+৩০০+২১০+১৫০+১৫০+৫০০+১৬০০= ৭১৪০টাকা।

সন্দকফু কোথায় অবস্থিত?
সন্দকফু ভারতের পচ্শিবঙ্গ রাজ্যের, পচ্শিবঙ্গ-নেপাল সীমান্তে অবস্থিত।

সন্দকফুর উচ্চতা কত?
সন্দকফুর উচ্চতা ১১৯৩০ ফুট।

Sandakaphu tour by car :- 
মানেভনজং থেকে ল্যান্ডরোভারে বা দার্জিলিং থেকে ল্যান্ডরোভারে ঘন্টা পাঁচেকের সন্দকফু ভ্রমণ প্যাকেজ খরচ ৪০০০ থেকে ৪৫০০ টাকা এক রাত্রি অবস্থানে।

সন্দকফুতে থাকার হোটের ও লজ ব্যবস্থা:- 
তিনটি ট্রেকার্স হাট, যোগাযোগ পর্যটন দপ্তর, ফোন:- 0354-2255351. ইয়ুথ হোস্টেল, ফরেস্ট বাংলো, যোগাযোগ ডিভিশন ম্যানেজার, ডব্লিউ বি এফ ডি সি, দার্জিলিং। থাকার বিভিন্ন রকমের ঘর পাওয়া যায় ট্রাভেল কে আর থেকে, যোগাযোগ 9830132103. তবে পি ডব্লিউ ডি, ডি আই বাংলো সন্দকফুতে থাকার পক্ষে উপযুক্ত। যোগাযোগ ডেপুটি কমিশনার, দার্জিলিং ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড ডিপার্টমেন্ট, দার্জিলিং। এছাড়াও নানান প্রাইভেট লজ আজে সন্দকফুতে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Rameswaram tour guide : রামেশ্বরম ভ্রমণ / Rameswaram, Tamilnadu

Rameshwaram temple :- রাম, রাবণকে নিধন করার পর ব্রাহ্মণ হত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে লঙ্কা থেকে ফেরার পথে শিবের পুজা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। শি...