Translate into your language

রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

Agartala / Tripura Tourist Spots :- আগরতলা, ত্রিপুরা ভ্রমণ।

রূপ-রস-গন্ধে সাজিয়ে তুলেছে প্রকৃতি Tripura কে। ত্রিপুরার পাহাড়, অরণ্য, দিঘি, প্রাচীন মন্দির ও প্রাকৃতিক দৃশ্যে মনভরে যায়। এছাড়া পুরো রাজ্যটাই বোটানিক্যাল গার্ডেনে পরিণত হয়েছে।উদয়পুর থেকে অমরপুর দ্রুত রূপ নিচ্ছে পর্যটন কেন্দ্রের। ৩৫৮৮ বর্গ কলোমিটার জুড়ে রিজার্ভ ফরেস্ট। যার ফলে চারটি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারিতে ভাগ হয়ে গেছে tripura। উত্তর ত্রিপুরায় Rowa WLS; পচ্শিম ত্রিপুরা জেলায় Sepahi-Jala WLS; দক্ষিণ ত্রিপুরায় Trishna WLS ও Gomati WLS-র অবস্থান। ত্রিপুরার হাতের কাজের সুখ্যাতি আছে শিল্পরসিকদের কাছে। নানান রঙের বিভিন্ন ধরণের ফ্যাব্রিক শাড়ি, শীতলপাটি, বাঁশ-কাঠ-বেতের রকমারি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ত্রিপুরার উত্তর এবং দক্ষিণ জুড়ে জঙ্গল এবং ১০০০ মিটার উচ্চতার পাহাড় চারটি উপত্যকায় ভাগ করেছে  tripura-কে পাহাড় এবং জঙ্গলে মোড়া ত্রিপুরার ৬০ শতাংশ জমি। এছাড়া বয়ে চলেছে খোয়াই, ধলাই, দেও, গোমতী সহ বিভিন্ন নদী ত্রিপুরার বুক চিরে। পর্যটনের স্বার্থে ত্রিপুরা দরজা খুলে দিয়েছে। অতীতের RAP প্রথাও বাতিল হয়েছে ১৯৯৫-এ ত্রিপুরা থেকে। ডবল এন্ট্রি ভিসা প্রথায় বাংলাদেশের উপর দিয়ে আগরতলা-কলকাতা/কলকাতা-আগরতলা যাওয়া যায়। ট্রেন ও বাস যাচ্ছে আগরতলা-ঢাকা/ঢাকা কলকাতা সার্ভিসে। পরাধীন ভারতের আগরতলা রেল সংযোগকারী স্টেশন আখাউরা জংশন বর্তমান বাংলাদেশে। ত্রিপুরার উত্তর-পচ্শিম-দক্ষিণ সহ দক্ষিণ-পূর্ব ঘিরে রেখেছে বাংলাদেশ। tripura র অতীত ইতিহাস যথেষ্ট গৌরবের। চন্দ্রবংশীও রাজা যযাতীর পুত্র দ্রুহ্যু  রাজ্য তৈরি করেন সেই সময়ের ত্রিপুরায়। আর দ্রুহ্যুর বংশধর মহারাজ ত্রিপুরের নাম থেকেই রাজ্যের নাম হয় tripura. ত্রিপুর-পুত্র ত্রিলোচন মহাভারতের সময়ে যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞে অতিথি রূপে উপস্থিত ছিলেন। "চতুর্দশ বিগ্রহ" মহারাজ ত্রিলোচন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে।

How to go Tripura From Kolkata:- 
Air-এ
আগরতলা বা ত্রিপুরা যাওয়ার জন্য বিমানই সহজ পদ্ধতি। কলকাতা থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান যাচ্ছে সপ্তাহের প্রথম, তৃতীয়, পঞ্চম ও সপ্তম দিনে। সময় লাগে ৫০ মিনিট। ফিরেও আসে একই দিনে  capital of tripura, Agartala থেকে। জেট এয়ারওয়েজের বিমান যাচ্ছে সপ্তাহের প্রথম, তৃতীয়, পঞ্চম দিনে কলকাতা ছেড়ে আগরতলা। আর সপ্তাহের দ্বিতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম দিনে কলকাতা ছেড়ে আগরতলা হয়ে গুয়াহাটি যাচ্ছে। ষষ্ঠ দিনে গুয়াহাটি ছেড়ে আগরতলা হয়ে কলকি যাচ্ছে Jet Airways. প্রতিদিন কলকাতা, গুয়াহাটি ছেড়ে আগরতলা যাচ্ছে এয়ার ডেকানের বিমান। বিমান বন্দর থেকে দশ কিমি দুরে আগরতলা শহর। বাস, ট্যাক্সি অটো যাচ্ছে বিমানবন্দর থেকে শহরে। INDIAN, Call:- 2325470, APT, Call:- 2342020, Jet, Call:- 2341400.
Rail-এ
N F Rail যাচ্ছে কলকাতা থেকে গুয়াহাটি/লামডিং/লোয়ার হাফলং/বদরপুর হয়ে। কলকাতা থেকে কামরূপ এক্সপ্রেস, দিল্লি থেকে ব্রহ্মপুত্র মেল, সপ্তাহে চতুর্থ, পঞ্চম ও সপ্তম দিন ডিব্রুগড় রাজধানী এক্সপ্রেস গুয়াহাটি/লামডিং হয়ে ডিব্রুগড়ে যাচ্ছে। গুয়াহাটি থেকে কামাক্ষা-ডিমাপুর এক্সপ্রেস, গুয়াহাটি-জোড়হাট জন শতাব্দী এক্সপ্রেস, কামাক্ষা-মরিয়ানি/লেডো ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস লামডিং যাচ্ছে। লামডিং থেকে সরাসরি আগরতলা যেতে 15695 এক্সপ্রেস লামডিং-লোয়ার হাফলং-জাটিংঙ্গা-বদরপুর-ধর্মনগর-কুমারঘাট-মনু পৌঁছে আগরতলায় যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ট্রেনে ধর্মনগর পৌঁছে, ধর্মনগর থেকে প্যাসেঞ্জার ট্রেনে যাওয়া যায় আগরতলা। কলকাতা থেকে দুরত্ব ১৫০৯ কিলোমিটার। সময় লাগে আড়াই দিন। খরচ-খরচা বিমান ভাড়ার থেকে কম নয়।
Buss-এ
BRTC ও TRTC-র কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা বাস সার্ভিসের সুবিধাও নেওয়া যেতে পারে। রবিবার ছাড়া প্রতিদিন আগরতলা ছেড়ে ঢাকার কমলাপুর বাসস্ট্যান্ড পৌঁছে, ঢাকা ছেড়ে ভোরবেলা বেনাপোল পৌঁছে সকালেই কলকাতা। আর কলকাতা থেকে বুধ ছাড়া প্রতিদিন ছেড়ে ঢাকা পৌঁছে পরদিন আগরতলা যাচ্ছে বাস। এ পথে যাতায়াতে পাসপোর্ট এবং ভিসা লাগে। যোগাযোগ শ্যামলী পরিবহন, ১০, মারকিউস স্ট্রিট, কলকাতা-১৬. ফোন:- ২২৫২০৬৯৩ OR ৯৮৩১০৩৭৬০৩।
আগরতলা থেকে বাস যাচ্ছে ত্রিপুরার দিগ্বিদিক। ত্রিপুরা রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের বাস দশ ঘন্টায় শিলচর যাচ্ছে দিনে দুটি। সপ্তাহে ৫ দিন ২২ ঘন্টায় শিলং পৌঁছে গুয়াহাটি যাচ্ছে ২৫ ঘন্টায়। কৈলাশহর যাচ্ছে ৭ ঘন্টায় দুটি। রেল সংযোগকারী স্টেশন মানু ও ধর্মনগর যাচ্ছে বিভিন্ন বাস। সড়ক পথে কলকাতার দুরত্ব আগরতলা থেকে ১৮০৮ কিলোমিটার, গুয়াহাটির দুরত্ব ৫৯৭ কিলোমিটার, শিলংয়ের দুরত্ব ৪৯৬ কিলোমিটার, শিলচরের দুরত্ব ৩০৮ কিলোমিটার।

tourist places of tripura :- 
===/////===/////===/////===/////===/////===////
Ujjayanta palace :-
ত্রিতলিকা প্রাসাদের মাথায় ৮০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট গম্বুজ। আয়তনে যেমন বিশাল স্থাপত্যেও নতুনত্ব আছে। গ্রীক স্থাপত্য শৈলীতে মহারাজ রাধাকিশোর মাণিক্য বাহাদুরের সময়ে তৈরি। চীনা রুমের টালির মেঝে, সিলিং-এ অনবদ্য কার্ভি। দুটো জলাশয়ে সৌন্দর্য বাড়িয়েছে প্রাসাদের, মোগলি গার্ডেন মতো বাগিচাও আছে ujjayanta palace এ। চারিদিকে মন্দির ঘেরা লক্ষ্মী-নারায়ন, উমা-শঙ্কর, কালী ও জগন্নাথ মন্দির রয়েছে। পর্যটকদের কাছে যথেষ্ট আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ।
Ujjayanta palace এ নতুন আকর্ষণ বাজনার তালে তালে ঝরনার নৃত্য। রঙবেরঙের আলোক সাজে সজ্জিত উজ্জয়ন্ত প্রাসাদটিতে ত্রিপুরা রাজার বিধানসভা বসেছি ১৯৭২এর জানুয়ারীতে।

Maharaja Bir Bikram University : 
বটতলা থেকে এক ঝলকে ঘুরে আসা যায়- কলেজ টিলা। প্রাসাদ থেকে তিন কিলোমিটার দুরে শহরের পূর্বপ্রান্তে টিলা আকারে তৈরি হয়েছে  Maharaja Bir Bikram University
 সুস্থ ও সুুুন্দর পরিবেশে। এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বাড়ির পর বাড়ি। পাহাড়-জঙ্গল-দিঘি-স্টেডিয়াম মিলেমিশে কলেজ ক্যাম্পাস। ১৯৪৭-এ মহারানী কাঞ্চনপ্রভা দেবি দ্বার উদঘাটন করেন Maharaja Bir Bikram University র। এর ল্যাবরেটরি এবং লাইব্রেরি সমৃদ্ধ এবং স্থাপত্য-ভাস্কর্যে অভিনব।

Chaturdasha Temple :- 
শহর থেকে ৬ কিমি দুরে অবস্থিত Chaturdasha Temple. জুলাই মাসে শুক্লা সপ্তমীতে উৎসবে মেতে ওঠে সমগ্র ত্রিপুরাবাসি এই মন্দিরকে ঘিরে। ত্রিপুরার জাতীয় উৎসব খার্চির আকার নিয়েছে এই উৎসব। উপজাতিদের সংখ্যায় চোদ্দ দেবতারা আসেন বহু দূর দূর থেকে। তাই নামটিও চতুর্দশ দেবতা মন্দির। নাটমন্ডপ ও গর্ভগৃহ নিয়ে বাংলার শৈলীতে তৈরি প্রধান মন্দিরের মাথায় বৌদ্ধস্তুপের মতো গম্বুজ। ১৪ দেবতার মন্দির বোঝালেও শিব ও বুদ্ধ সারা বছর থাকে  Chaturdasha Temple-এ। মুর্তি অষ্টুধাতুতে তৈরি। এছাড়াও শহর পর্যটকদের কাছে malancha Niwas 
উল্লেখ্য। ১৯১৯ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এসেছিলেন এই Malancha এ। একসময় সুরঙ্গ পথও ছিলো উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ থেকে যোগাযোগের জন্য মালঞ্চের। আছে কিশোর মাণিক্য মহারাজের নিজের নকশায় তৈরি করা অনুচ্চ টিলায় একসময়ের পুষ্পবন্ত প্রাসাদ বা আজকের kunjaban। গভর্নরের বাসভূমি তৈরি হয়েছে এখন Kunjaban-এ। পথের পাশে বুদ্ধমন্দির, বেণুবন বিহার, নেতাজি সুভাষ উচ্চ বিদ্যালয়, পোস্ট অফিস, চৌমহনীতে মিউজিয়াম, বাজার, বটতলায় বিদেশি পণ্যের বাজার যথেষ্ট আকর্ষণীয়। বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে আগরতলায় ১৯৮৭-এর ২রা নভেম্বর। গুটিগুটি পায়ে বা রিকশায় ২ কিমি দুরের বাংলাদেশ সীমান্তও দেখে নেওয়া যায়।

Sipahijola Wild life Sanctuary:-
অতীতে মহারাজা বীর বিক্রম উপহার দেয় কোনো এক সিপাহী কে জলা সমেত এই জমি। সেখান থেকেই নাম হয়েছে sipahijola। সুন্দর     প্রাকৃতিক পরিবেশে কৃত্রিম লেক, অর্কিড গার্ডেন, ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি, বটানিক্যাল ও জ্যুলজিক্যাল গার্ডেনের মেলবন্ধনে sipahijola। তক্ষক, হুল্লোক, ভল্লুক, চশমা বাঁনর, কাঁকড়া ভোজি নেউল, নীলগাই ছাড়াও বিভিন্ন স্তন্যপায়ী জন্তু দেখা যায় সিপাহীজোলায়। দেশি বিদেশি পরিযায়ী পাখিদের মেলা বসে এখানে শীতে। সাপেদেরও স্বর্গরাজ্য সিপাহীজোলা। পর্যটকদের আকর্ষণীয় করে তুলতে হাতি ও টয়ট্রেন ব্যবস্থা  সহ লেকে বোটিং-এর ব্যাবস্থাও আছে  sipahijola তে। ১৯৭২-এ তৈরি করা Deer Parkটিও যথেষ্ট আকর্ষণীয়। চলার পথে দুই পাশের রবার বাগিচা ভ্রমণ সুখে বিশেষ অংশগ্রহণ করে। পান পাতার মত দেখতে গোলমরিচ গাছেরও চাষ হচ্ছে সিপাহীজোলায়। শহর থেকে ২৪ কিমি দুরে এক ঘন্টার পথ সিপাহীজোলা স্থানীয়দের কাছে চড়ুইভাতির জায়গা। প্যাকেজ ট্যুরে বা ট্যাক্সিতে সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিলে বেড়িয়ে নেওয়া যায় sipahijola. রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাস যাচ্ছে শহর থেকে সিপাহীজোলায় এবং শুক্রবার বন্ধ থাকে সিপাহীজোলা। বটতলা থেকে সার্ভিস বাসে বিশালগড় পৌঁছে রিকশায় বা অটোয় তিন কিমি দুরে সিপাহীজোলা যাওয়া যায়। থাকার ব্যবস্থা লেকের পাড়ে Abasarika Forest Lodge, যোগাযোগ:- Chif Conservetor of Forest, Kunjaban, Agartala. ফোন:- 0381-2323779 or Wildlife Warden, Sepahijala, Vishalgarh, West Tripura, Call:- 0381-2361225/2361227/09862524740.

Tripurasundari temple:-
বাংলার চালা ঘরের মত ৭৫ ফুট উঁচু মন্দিরের মাথায় স্তূপ, স্তূপের উপরে কলসি। নানান লোককাহিনী প্রচলিত আছে মন্দিরকে ঘিরে   কষ্টিপাথরের কালী মুর্তিটিও নাকি জাগ্রতা। দুই মন্দিরে দুটি মুর্তি একটি দুই ফুট উঁচু এবং অন্যটি পাঁচ ফুট। দুর-দূরান্ত থেকে পর্যটক এবং ভক্তরা আসেন  tripurasundari- তে পুজা দিতে এবং মন্দির দর্শনে, পূজা হয় ১১ টা থেকে ১২টা পর্যন্ত। ৫১ সতীপীঠের এক পীঠ বিষ্ণু চক্রে কেটে গিয়ে দেবীর ডান পা পড়ে এখানে। মন্দির সংলগ্ন কল্যাণ সাগরে স্নানে পুণ্যার্জন হয়। দীপাবলিতে মেলা ও উৎসব হয় উদয়পুর থেকে ৫ কিমি দুরের মাতাবাড়িতে পাহাড়ি টিলায় স্থিত tripurasundari বা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে। মহারাজ ধান্য মাণিক্য ১৫০১-এ তৈরি করেন এই মন্দিরটি। প্যাকেজ ট্যুরের বাস ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে tripurasundar temple-এ। দুপুরের খাওয়ার দেয় মন্দির দেখিয়ে উদয়পুর শহরে ফিরে। আগরতলা থেকে উদয়পুরে নিয়মিত বাস আসে। থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন হোটেল ও tripura tourism এর
 Gunabi Yatri Niwas, Call:- 03821-267939/ 2325930/03821-222219. Gomati Yatri Niwas, Matabari, Udaypur, Call:- 03821:- 2325930.

Neermahal :- 
প্রমোদভবন রূপে মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্যের সময় তৈরি
 neermahal বা প্যালেস অব ওয়াটার। বিশিষ্ট স্থপতি Martin & Burn ১৯৩০-এ শুরু করে ৯ বছর ধরে হিন্দু ও মোগলি স্থাপত্য রীতিতে তৈরি করেন এই প্রাসাদটি। রুদ্রসাগর লেকের দ্বীপে ৫.৩ বর্গ কিমি জুড়ে গড়ে উঠেছিল neermahal। নামকরন করেন রবীন্দ্রনাথ। ৩০ মিনিটের জলযাত্রা, জল থৈ-থৈ নীরমহল দেখতে আট জন যাত্রী নিয়ে ফেরি চলাচল করে। একসময় জলযান পৌঁছে যেতো নীরমহলের ভিতরে বিদ্যুতের আলোও জ্বলতো সেই সময়ে। neermahal থেকে সূর্যাস্ত ও পরিযায়ী পাখিদের বাসায় ফেরা দেখা এক অনন্য পাওয়া। ১৩ তম জাতীয় লেকের শিরোপা রুদ্রসাগরের দখলে। নীরমহল খোলা থাকে সকাল নটা থেকে সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত। এখানে থাকার জন্য আছে Sagarmahal Tourist Lodge, ফোন:- 0381-2325930. খাওয়ার ব্যবস্থা লজের ক্যান্টিনে। বাস আসছে এখানে আগরতলার বটতলা, উদয়পুর, সোনামুড়া থেকে।

Dambur Waterfall:- 
পাহাড় থেকে ঝর্ণা নেমে এসে ঝরে পড়ছে  গোমতীতে। ঝর্ণার ঝরঝর সংগীতে মুখরিত পরিবেশ সহ নয়ন জুড়ানো পথের শোভা। গোমতী থেকে সাত কিমি দুরে পাহাড়ে ঘেরা বিশাল কুণ্ড তীর্থমুখ বা গৌমুখ, গোমতীর উৎসস্থল। পৌষ সংক্রান্তিতে উপজাতিদের ৩ দিনের খার্চি উৎসব হয় এখানে। ভোর থেকেই শুরু হয় পুণ্যস্নান গোমতীর উৎসমুখে। জাতীয় সাজ-পোশাকে উপজাতিরা দূরদূরান্ত থেকে এসে মিলিত হন উৎসবে। বিষ্ণুর পদচিহ্ন রয়েছে তীর্থমুখে। তীর্থমুখ থেকে ৩ কিমি দুরে dambur falls -এর মূলঘাট-মন্দিরঘাট। মন্দিরঘাট থেকে দেশি নৌকায় বা মোটরবোটে ঘন্টা দুয়েকে নারীকেল কুঞ্জ পৌঁছে যাওয়া যায়। যতনবাড়ি থেকে নিয়মিত পরিবহনের অভাব। তবে আগরতলা থেকে ট্যাক্সি নিয়েও সিপাহীজোলা, উদয়পুর, নীরমহল ঘোরা যায়।  প্যাকেজ ট্যুরে দেখে নিতে পারেন dambur বাদে অন্য তিনটি। ত্রিপুরার প্রথম হাউডেল প্রজেক্টটির বাস্তবায়ন হয়েছে গোমতীতে। বাঁধ পড়ে তৈরি হয়েছে কৃত্রিম লেক ৪১ বর্গকিলোমিটারের। লেকের জলে ৪৮ টি দ্বীপে লিচু, আনারস, নারকেল, কমলা লেবুর চাষ হচ্ছে। শীতে পরিযায়ী পাখিদের বসবাস চলে dambur falls এর গাছে গাছে। জ্যোৎস্নাতে মন নিয়ে মনের সাথে ভেসে পড়ুন একলা রাতে ঢেউ তোলা নীল জলে, দেশি নৌকা ও মোটর বোটের ব্যাবস্থা রয়েছে আপনার জন্য। কাফেটেরিয়া রয়েছে চার কিমি দুরে নারিকেল বাগানের ছাওয়ায় লেকের এক দ্বীপে। আছে Mandirghat Tourist Complex তীর্থমুখের বোটঘাটে। যোগাযোগ:- Director-Tourism, Agartala, Call:- 0381-2325930. যতনবাড়িতেও রাত্রিতে থাকার ব্যবস্থা আছে Raima Tourist Lodge, Jatanbari, Call:- 0381-2325930. Inspection Bungolow. যোগাযোগ:- Govt of Tirpura, Jatanbari, Amarpur, Sub-Division, South Tripura, 799101.

Pilak tripura:-
আট থেকে দশ শতকের হিন্দু ও বৌদ্ধ স্থাপত্যের সন্ধান মিলেছে পিলাকে। পূর্ব ও পচ্শিম pilak এ ছড়িয়ে আছে অমূল্য সব প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ। পোড়ামাটির অমূল্য রত্নভান্ডার
টেরাকোটার বিভিন্ন মন্দির, স্তূপ, বিরল পাথরের শিবলিঙ্গ, নৃসিংহদেব, মহিষাসুরমর্দিনী, গনেশ, অবলোকিতেশ্বর, প্রাচীন মুদ্রা সহ অনেক কিছুই রক্ষনাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। ভারতের বৃহত্তর ১১÷২×১০ ফুটের সূর্যমুর্তিটি পাওয়া যায় pilak খননের সময়। আরাকান-বার্মিজ স্থাপত্যের নিদর্শন মেলে পিলকের ভাস্কর্যে। আগরতলা মিউজিয়ামে পিলাক প্রত্নতত্ত্বের বহু নিদর্শন রাখা আছে। বাসে যাওয়া যায় আগরতলা থেকে pilak। থাকার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

Kasba :-
১৫ শতকের শেষের দিকে রানী কমলাদেবীর ইচ্ছেতে মহারাজা ধান্য মানিক্য খনন করেন বিশাল দিঘি কমলাসাগর। অতীতের কইলাগড় বা কমলাসাগর আজ হয়ে গেছে kasba। দেশভাগের সাথে-সাথে কমলাসাগরও ভাগ হয়ে গিয়ে অর্ধেক চলে গেছে বর্তমান বাংলাদেশের কুমিল্লায়। দিঘির পাড়ের মন্দিরে বেলেপাথরের দশভুজা দুর্গাই কালীরূপে পুজা পান। বটতলা থেকে বাসে বা প্যাকেজ ট্যুরে ১ ঘন্টায় ঘুরে নেওয়া যায় ২৮ কিমি দক্ষিণের kasba বা কমলাসাগর। থাকা যায় মন্দিরের পাশাপাশি Cumilla Viwe Tourist Lodge-এ, ফোন:- 0381-2325930.

Trishna wildlife Sanctuary:- 
আগরতলা থেকে ৫৫ কিমি দুরে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় জল আর জঙ্গলে ১৯০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে trishna Wildlife Sanctuary. বানরের বিভিন্নতাই তৃষ্ণার বৈশিষ্ট্য। সোনালী বানর, চশমাবানর, গুহা বানর, লজ্জাবতী বানর, অসমিয়া বানর সহ উল্লুক ও বিভিন্ন বন্যের বসবাসt rishna- য়। এখানে থাকার জন্য FGH & Revenue, Call:- 03823-267340. FGG, Rajnagar, Call:- 264498. Cottage, Jaychandpur, Call:- 267340. তৃষ্ণা ও  Van Mahal, Call:- 262233. 

Debatamura tripura:- 
গোমতীর জলে ৪৮ টি দ্বীপের তীর বরাবর ক্যানভাসের মত বেলে পাথরের পাহাড়। পাথর খোদাই করে আঁকা হয়েছে হিন্দু পুরাণের দেবদেবী সহ সমাজ আলেখ্য। ৪০ ফুট উঁচু ক্যানভাস শিব-বুদ্ধ-নরসিংহ, এই তিন দেব মুর্তি। কিছুটা গিয়ে সমান্তরালে তিনটি সারিতে ৩৭ টি ভাস্কর্যের অভিনবত্বে অভিভূত হতে হয়। বৈচিত্র্যও আছে। একহাতে শিঙা ও আরেক হাতে ডমরু নিয়ে ষণ্ডপৃষ্ঠে শিব,পাছড়া বা ত্রিপুর বসন পরিহিতা  দশভুজা মহিষাসুরমর্দিনীর ভাস্কর্যে।
উদয়পুর থেকে বাসে রাঙামাটি গিয়ে নৌকায়  যেতে হয় debatamura। আগরতলা থেকে বাসে অমরপুর গিয়ে সেখান থেকে বামপুর হয়ে ছৈলাঘাট পৌঁছে নৌকায় গোমতীর জলযাত্রায় ঘন্টা ছয়েকে দেখে ফেরা যায় ১৫-থেকে ১৬ শতকের, এই সমস্ত ভাস্কর্য। সব থেকে ভালো হবে ১ রাত উদয়পুর বা অমরপুর থেকে Devtamura দেখে নেওয়া। অমরপুরে খাবাার ও পাহরাদারের ব্যবস্থা সহ ডাকবাংলো আছে। যোগাযোগ:- SDO, Amarpur, South Tripura, PC-799101 এছাড়া ব্যাক্তি মালিকানায় হোটেলও আছে উদয়পুরে।

Unakoti:-
কোটি থেকে এক কম অর্থাত্ ঊনকোটি। রঘুনন্দন পাহাড় খোদাই করে প্রোথিত মুর্তিময় পূণ্য হিন্দু তীর্থ unakoti। অতীতের নাম ছিলো ছাম্বুল। কালীর কোটি তীর্থের পরই এর স্থান। শাল-সেগুন-দেবদারু আর অগুরু গাছের অরণ্যে হিন্দু ও বৌদ্ধ আমলের ৮ থেকে ৯ শতকের এই শিব তীর্থের পুরোটাই ভাস্কর্যে ভরপুর। মুর্তি রয়েছে শিব, হরগৌরি, সিংহবাহিনী দূর্গা, পঞ্চমুখী  শিব, বিষ্ণুপদ, ৩০ ফুট মুখমণ্ডলের বিশাল কালভৈরব-বাসুদেব, রাম-লক্ষণ-হনুমান, গণপতি, সহ বিভিন্ন পৌরাণিক দেব-দেবীর সারা পাহাড় জুড়ে। ১২ মিটার উঁচু ৩ মিটার লম্বা, নিখুত জটাজুটধারী শিব এখানে কালভৈরব নামে বিখ্যাত। বাহন ষাঁড়ের ৩ মুর্তি মাটি ফুঁড়ে দাড়িয়ে। বেগবতী ঝোরা নেমে আসছে পাহাড় থেকে। সেই ঝোরার জলে সৃষ্ট শিব-সতী ও ব্রহ্মা নামের তিন কুন্ডের জলে পুণ্যার্থীরা স্নান করে পুণ্যার্জন করে। পৌষ সংক্রান্তিতে যাত্রীরা আসেন দূরদূরান্ত থেকে স্নান করতে।
বসন্তে মেলা বসে অশোকাষ্টমী তিথিতে। মকড় সংক্রান্তি ও শিবরাত্রিতেও আসেন ভক্তরা পুণ্যার্জনের আশায়। কিছুটা দুরে জঙ্গলে ৩ ফুট উঁচু চার মুখের শিব রয়েছে। কৈলাশ থেকে কাশী যাওয়ার সময় পথকষ্টে ক্লান্ত দেবতাদের অনুরোধে সবার সঙ্গে শিবও বিশ্রাম নেন এখানে। পরের দিন যাত্রার সময়েও দেবতাদের ঘুম না ভাঙায়। শিব ব্রাহ্মমুহূর্তে কাশীর পথে রওন দিলেন একা। দেবতারা সূর্যালোকে ও পাখিদের কলরবে পাষাণে পর্যবসিত হল। সেই থেকে কৈলাস হরকালে কৈলাসহর। অন্য আর একটি মতামত আছে। স্বপ্নাদেশ পেয়ে স্থানীয় শিল্পী কালু কামার এক রাতের মধ্যে রঘুনন্দন পাহাড়ে ১ কোটি দেবমুর্তি তৈরি করে নতুন কাশীধাম গড়ে তুলতে গিয়ে কম থেকে যায় এক। আর্য ও লৌকিক দেবতারা মিলেমিশে গিয়েছে এখানে। এছাড়া বিভিন্ন মতামত রয়েছে unkoti ঘিরে। এখানে থাকার জন্য কোনো হোটেল 
Malancha Niwas ত্রিপুরা পর্যটনের Unakati Tourist Lodge ছাড়া। ফোন:- 0381-2325930। কৈলাসহরে Sri Krishna, Sri Durga, Tripureswari Hotel, Shova, CH, DB, FRH রয়েছে।

Jampui Hills:- 
চিরবসন্তের দেশ Jampui Hills 
আসলে ৬ টি পাহাড়ের সমন্বয়। আগরতলা থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে ৩০০০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এই পাহাড়। লুসাইদের বসবাস, ধর্মে খ্রিষ্টান, পাশ্চাত্যের ভাবধারায় গড়া এদের সমাজ জীবন। মনোরম প্রকৃতি, রঙবেরঙের অর্কিড, লুসাই মেয়েদের সাজসজ্জায় মোহময় করে ভ্রমণ।  Jampui Hills এর পাহাড়ি ঢালে গাছে গাছে থরে থরে কমলা। চির সবুজে মোড়া পাহাড়ের কঠিন হৃদয়। ঊনকোটি ঘুরে ধর্মনগরের বাসে প্যাঁচারথল পৌছান। সেখান থেকে বাস, অটো, জিপে কাঞ্চন পুর PWD তে বিশ্রাম নিয়ে পরদিন বেরিয়ে পড়ুন Jampui Hills। আগরতলা থেকে সরাসরি বাস যাচ্ছে NH44 ধরে জম্পুই পাহাড়। চাকমা ঘাট থেকে খোয়াই নদীও সঙ্গে চলে এই পথে। আর হ্যাঁ, প্যাঁচারথলে-বৌদ্ধ মন্দিরটিও দেখে নিতে ভুলবেন না। থাকার জন্য tripura tourism এর Eden Tourist Lodge, phone:- 03824-238252. ইডেন লজ থেকে সূর্যোদয় এবং ভাঙ্গামুন থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত মনোমুগ্ধকর। মিজোরামও দেখা যায় ভাঙ্গামুন থেকে।  জম্পুই পাহাড় ঘুরে সেই দিনে ধর্মনগর ফেরাও যায়। ধর্মনগরে হোটেল আছে বিভিন্ন। আছে, রাজ্য পরটনের Juri Tourist Lodge, 0381-2325930. 

Hotels in Tripura:-

Agartala STD- 0381.

1) Radha International,  54 Central Road, Agartala-799001, Ph- 2384530.
2) TTMI, Ph- 22845062.
3) Hotel Ginger, Royal Gh.
4) Longtarai, Near Rajbari, Ph- 2307617.
5) Broadway Gh, Palace Compound, Colonel Chowmohoni,
6) Hotel Kakali, Post office Chiwmohani.
7) Rajdhani Hotel, B K Rd.
8) Hotel Mars, VIP Rd, Ph- 230893.
9)  Tripura GH, Matribari Rd.
10) Executive Inn, Ph- 2325047.
11) Sagarika, Sakuntala Rd, Ph- 2380838. 12) Raj Palace Sundaram, Battala, Ph- 09436560972.
13) Minakshi, H G Basak Rd, Ph- 2383430. 14) Heaven, H G Basak Rd, Ph- 2380111/1666.
15) Well Come Palace, H G Basak Rd, near Head Post Office, Ph- 2389576/3380/09612877771.
16) Dimond, Ph- 22259639.
17) City Cetre Hotel, ph- 2385270/9831279022.
18)  Geetanjali Tourist Guest House, Ph- 2410009/16.
19) Galaxy Goodnight, ph- 2322839. 20) Madhusree, Ph- 2384281.
21) Plaza, Ph- 2382069/5172.
22) Dimond, Ph- 22259639.
23) Uttarayan Gh, Motor Stand Rd.
24) Hotel Janata, Ph- 2380183.

Fair & Festivals of Tripura:-

Nauka Baich Utsav, Rudrasagar, Melaghar- August.

Deep Utsab, Matabari, Udaypur- November.

Orange & Tourism Festival, Jampui Hills-November.

Autumn Festival, Agartala- November.

Sanghati Utsab, Dimatali, Belonia, December.

Neermahal Utsab,  Nermahal, Melaghar- Decmber.

Pilak Utsab, Pilak, Belonia- January.

Unakati Festival, Unakati, Kailasahar- January.

Package tour for Agartala:-

ত্রিপুরা পর্যটন দপ্তরের-

1) বুদ্ধিষ্ট সার্কিট ট্যুর:- ২ রাত্রি ৩ দিন:- খরচ ৩০০০ টাকার মধ্যে।
2) Golden Tripura tour:- ৩ রাত্রি ৪ দিন:- খরচ ৪০০০ টাকার মধ্যে।
3) গ্রিন ত্রিপুরা ট্যুর: ৫ রাত্রি ৬ দিন:- খরচ ৬০০০ টাকার মধ্যে।
4) ডিসকভার ত্রিপুরা ট্যুর:- ৭ রাত্রি ৮ দিন:- খরচ ৮০০০ টাকার মধ্যে।

বিস্তারিত বিবরণের জন্য যোগাযোগ করুণ এই সমস্ত ঠিকানায়-
Kolkata
 Tripura Bhawan, 1 Pretoria Street, Kolkata- 71. Phone:- 033-22825703/0624/2792.  Fax:- 033-22826842.
New Delhi
Tripur Bhawan, Chanakyapuri, Kaytilya Marg, New Delhi- 110021, Phone:- 011-23015157/0968, Fax:- 011-23793827.
Guwahati
Tripura Bhawan, Ramkrisna Mission Road, Birubari, Guwahati, Phone:- 0361-2492041/42.






কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Rameswaram tour guide : রামেশ্বরম ভ্রমণ / Rameswaram, Tamilnadu

Rameshwaram temple :- রাম, রাবণকে নিধন করার পর ব্রাহ্মণ হত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে লঙ্কা থেকে ফেরার পথে শিবের পুজা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। শি...