Translate into your language

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০

Bakkhali Torist spots/ বকখালি ভ্রমণ

Bakkhali এবং Fraserganj কোলকাতা থেকে ১৩০, ডায়মন্ডহারবার থেকে ৮২ এবং নামখানা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে। ঝাউবনের সবুজে ভরা নীল আকাশের চাঁদোয়া মোড়া বঙ্গোপসাগরের পূর্ব তীরে পচ্শিমবঙ্গের দ্বিতীয় সমুদ্র সৈকত বকখালি। সোনলী রোদের কারুকার্যযমণ্ডি রূপোলি বালুকাবেলার জ্যোৎস্নার মায়াবী পরিবেশ ভিষণই উপভোগ্য। সৈকত ঢেকে রাখা ঝাউবনের শেষে ম্যানগ্রোভদের ঘর, সবুজে সবুজে ভরিয়ে তোলে অন্তর। জঙ্গল মোড়া অমরাবতী গ্রামে গঙ্গা ও বনবিবির মন্দির। বাসস্ট্যান্ডের পিছন থেকে সাঁকো পার হয়ে অথবা বীচ ধরে হেঁটে হেঁটে দেখেনিন ইঞ্জিন খাল, সংরিক্ষত বনাঞ্চল ও ম্যানগ্রোভ জঙ্গল। 
সুন্দরীদের সাথে মনের কথা বলতে বলতে চলতে হবে দেখে নিতে কুমির প্রকল্প, কচ্ছপ প্রকল্প, ডিয়ার পার্ক সহ সন্ধ্যার সূর্যাস্ত। সকাল ন-টায় কুমির প্রকল্পের কুমিরদের খেতে দেওয়ার দৃশ্যও দেখে নেওয়া যেতে পারে।
সকাল-সন্ধ্যা আবাল বৃদ্ধবনিতাদের নোনা জলে গলা ও কোমর ডুবিয়ে চিংড়ি মিন ধরা দেখতে দেখতে অথবা লাল কাঁকড়ার সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে বকখালি থেকে ডানদিকের বীচ ধরে দুই কিমি দুরের নারায়ণ তলা বা Fraserganj
বেড়িয়ে নিতে পারেন। ১৫×৫ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত নারায়ণতলার প্রেমে পড়ার পর বাংলার ছোটলাট এনড্রু ফ্রেজার তৈরী করেন স্বাস্থ্যাবাস সৈকত নগরীতে। নাম পরিবর্তন হয়ে ফ্রেজারগঞ্জ হয়ে যায় সেই সময়। নারকেল গাছে ছাওয়া সাহেবের নারকেল কুঞ্জ আজ সমুদ্র গিলে খেয়েছে। বকখালির দিকে যেতে বামে বাংলোর ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়ে। দোকানপাট, পথঘাট স্বাস্থ্যাবাসও সমুদ্রে বিলীন হয়েছে। তবুও ধ্বংসের মধ্যে ফ্রেজারগঞ্জ সমুদ্র সৈকত আজও আকর্ষণীয়। ফ্রেজারগঞ্জ ভাঁঙাহাটে জেলে নৌকার আসা যাওয়ায় মৎসবন্দর তৈরি হয়েছে ১৯৯৫ এর ২২ শে এপ্রিল। ফ্রেজারগঞ্জ দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র৷ যেটি বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত। এই সমুদ্র সৈকত বেশ নির্জন কিন্তু এখানকার সমুদ্র সৈকত স্নানের পক্ষে উপযুক্ত নয়।

যাত্রা পথ: শিয়ালদহ দক্ষিণ থেকে নামখানা ট্রেনে উঠে নামতে হবে নামখানাতে। সময় লাগে প্রায় ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট। নামখানা স্টেশন থেকে টোটো বা ইঞ্জিনভ্যানে করে সরাসরি ফ্রেজারগঞ্জে যাওয়া যায়। সময় লাগে আনুমানিক ১ ঘন্টা ১০ মিনিট।
অথবা, নামখানা স্টেশন থেকে টোটো বা ইঞ্জিনভ্যানে করে প্রথমে বাস স্ট্যান্ড তারপর সেখান থেকে বাস অথবা গাড়ি ভাড়া করে খুব সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় ফ্রেজারগঞ্জ।
এছাড়াও সরাসরি ধর্মতলা থেকে বাস যায়।


জম্বুদ্বীপ:-  ৮×২ কিমি বিস্তৃত গেঁওয়া, গরাণ, কেওড়া, হেঁতালের ম্যানগ্রোভের জঙ্গলে বন্যশূয়োর, চিত্রাহরিণ, শম্বর, চৌশিঙা দেখে নিতে পারেন আগ্রহীরা। ভুটভুটিতে সমুদ্র ভ্রমণের রোমাঞ্চে মেতে বকখালি থেকে দক্ষিণ-পচ্শিমে Jambudwip ঘুুুরে নেওয়াতে। শাঁখামুটি, করাটিয়া, গোখরো, কেউটে, পাইথনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতেই পারেন জম্বুদ্বীপে। অসংখ্য লাল কাঁকড়ার মিছিলে হেঁটে, তরঙ্গ-বিক্ষুব্ধ নির্জন অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ছোট্ট Jambudwip উপভোগ করতে পারেন পরদেশী প্রেমিকের চোখে। ভুটভুটি যাচ্ছে বকখালির "ফ্রেজারগঞ্জ ফিশিং হারবার প্রজেক্ট জেটি" থেকে। সকাল ছটা থেকে চারটেয় ছেড়ে এডওয়ার্ড ক্রিক, মোহনা হয়ে দুই ঘন্টায় জলপথে জম্বুদ্বীপ বেড়িয়ে নিতে পারেন। শেষ ভুটভুটি ছ-টায় জম্বুদ্বীপ ছেড়ে আসে। এছাড়া জম্বুদ্বীপে ভুটভুটি যাচ্ছে লোথিয়ান দ্বীপ, গঙ্গাসাগর মোহনা, ভগবতপুর কুমির প্রকল্প থেকেও।

হেনরি আইল্যান্ড:- পাখপাখালির ঝাঁক, বন্য জীবন, সরীসৃপ আর ম্যানগ্রোভের জঙ্গল সহ নতুন প্রকৃতি পর্যটন কেন্দ্রটির নাম Henry Island.
 নামখানা-বকখালি রাস্তায় ২২ কিলোমিটার দুরের জেটি ঘাট থেকে বাম দিকের রাস্তায় ১.৬ কিমি দুরে পচ্শিবঙ্গ মৎস উন্নয়ন নিগমের পরিকল্পনায় ২০০৫-এর ডিসেম্বরে তৈরি হয়েছে ২০০ হেক্টরের Henry Island. ১১০ টি ভেঁড়িতে কাঁকড়া, চিংড়ি, ট্যাংরা ও ভেটকিমাছ চাষ হচ্ছে। নৌকাও চলছে অফুরন্ত খোলা হাওয়া এবং ঢেউ ভেঙে ভেঙে আধা কিমি নিরিবিলি সমুদ্র সৈকতে। সবটাই উপভোগ করা যায় পায়ে পায়ে, রিকশায় বা মারুতিতে।

বকখালির সঙ্গে ফ্রেজারগঞ্জ, হেনরি আইল্যান্ড একসঙ্গেই পায়ে পায়ে বা রিকশাভ্যান অথবা মারুতিতে ঘুরে নেওয়া অসম্ভব কিছুই নয়।

How to go Bakkhali:- 

কলকাতা তথা ধর্মতলা থেকে বকখালির উদ্দেশে বাস ছাড়বে সকাল ৬টা, সকাল ৭টা, সকাল ৮টা, দুপুর ১টা, দুপুর ১:৪৫, দুপুর ২:৩০, বিকেল ৩:১৫, বিকাল ৪:১৫, বিকেল ৫টা এবং বিকেল ৫:৪৫। 

অন্য দিকে বকখালি থেকে ধর্মতলা ফেরার বাস ছাড়বে ভোর ৫টা, সকাল ৬টা, সকাল ১০টা, দুপুর ১২টা, দুপুর ১টা এবং দুপুর ২টো। পাশাপাশি বকখালি থেকে হাওড়ার উদ্দেশে বাস ছাড়বে ভোর ৫টা, সকাল ৬:৩০, সকাল ৭টা, সকাল ৭:৩০টা, সকাল ৮টা। তবে হাওড়ার বাসগুলিও এসপ্ল্যানেড হয়েই যাবে। সরাসরি বাসের সংখ্যা বাড়ানোয় বকখালিতে পর্যটক সমাগম যে আরও বাড়বে তা বলাই বাহুল্য।

Hotels at Bakkhali:- 

WBTDC-র Bakkhali Tourist, Phone:- 225260/211260/ 9732510150. 
TOURISM CENTRE, Phone:- 22488271. বাসস্ট্যান্ডের ডাইনে প্রাইভেট হোটেল Bay Viwe Tourist lodge, Phone-9836135942.
Sahana tourist lodge, Phone:l- 9830268698.
Narayan lodge, Phone:- 9732758611/7797116499.
Ma Kali, Phone:- 9933431362.
Sea Viwe Hotel, Phone:-9732828266. Babylon, Phone:- 9732781970.
Jay Guru Abasan, Phone:- 9734370212. Hotel Amaravati, Phone:- 9732619340 
সাধারণত ভাড়া ৫০০ থেকে ১০০০, কটেজ A/C চাইলে যোগাযোগ করে আলোচনা করতে হবে। প্রত্যেকটির A/C ও কটেজ রয়েছে।
সাধারণ ভাবে খাওয়া দাওয়ার জন্য রয়েছে বাসস্ট্যান্ডের পাশেই-
West Bengal Employees Wellfare Board-এর Holiday Home, Abasarika, P-3, CIT Scheme, 7M, Kankurgachi, Kolkata-54, Phone:- 23204241.

Forest rest Shed, booking- DFO, SOUTH 24 PARGANAS, SURVEY BUILDING, GOPALNAGAR, ALIPUR, KILKATA-27.

Fraserganj -এ থাকার ব্যবস্থা:-
Sagarbelay, Phone:-24535817/9836308631.
Benifish, Sagar Kanya, Sagari, যোগাযোগ:- Benifish, P- 161/1 VIP Road, Kolkata-54, 4th Floor, Phone:-23554931.
Tourism Center, 3/2 BBD Bag, Phone:- 9831033181.
Diamond, Phone:- 22259639.
Khorli, Phone:- 9831095234.
Hotel Portland, Phone:- 22317636.
Hotel Deepak:- 9732604833/24633203/25740082/22259639.

Henry Island এ থাকার ব্যবস্থা ব্যবস্থা:-
ম্যানগ্রোভ, ফোন- 03210_225511/9734204413.
 সুন্দরী, ফো:- 9734550860, যোগাযোগ:- SFDC, BIKASH BHAWAN, 1st floor, Salt Lake, Phone:- 23376470/23583123.

সজনেখালি / Sajnekhali:-
সুন্দরবন জেলার গোসাবার সজনেখালি বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যটির আয়তন ৩৬২ বর্গকিমি। ১৯৬০ সালে সজনেখালিকে প্রথম অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ১৯৭৬ সালে আবার ঘোষণা করা হয়। এখানে চিত্রা হরিণ, মেছো বিড়াল, লাল বানর, বেঙ্গল টাইগার, দেশি বন শুকর, ভোঁদড়, গুই সাপ, লোনা জলের কুমির, জলপাইরঙা সাগর কাছিম, কেটো কচ্ছপ, এবং নানা প্রজাতির পাখি দেখা যায়। সজনেখালি লজ ও বিট অফিসের মাঝখানে কামট, কচ্ছপ ও কুমির পুকুর রয়েছে প্রতিদিন বিকালে খাবার দেওয়া হয় এদের। বিকালের খাবারের আশায় আসে হরিণেরা কুমির পুকুরের পাড়ে। এছাড়া আছে সুন্দরবনের হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতীক লৌকিক দেবি বনবিবির মন্দির। ম্যানগ্রোভ ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার ও মিউজিয়ামটি সজনেখালির বিশেষ দ্রষ্টব্য। 

sightseeing at Sajnekhali :-
গোসাবার হ্যামিল্টন বাংলো, রবীন্দ্রনাথটেগর বাংলো, রাঙ্গাবেলিয়া টেগোর সোসাইটি, পাখির জঙ্গল এবং পাখিরালয়।

How to Go Sajnekhali :-

শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে ক্যানিং ট্রেন ধরে ক্যানিং গিয়ে সেখান থেকে বাস, অটো বা ম্যাজিক গাড়ি করে গদখালি পৌঁছে গদখালি থেকে খেয়া পার হয়ে গোসাবা বাজার গিয়ে সেখান থেকে অটো, ইঞ্জিন ভ্যান বা টলিভ্যান করে পাখিরালয় গিয়ে পাখিরালয় থেকে খেয়া পার হয়ে সজনেখালি। গোসাবা বাজার থেকে দুপুর একটায় একমাত্র ভুটভুটি পাখিরালয় হয়ে লাহিড়ী পুর যাচ্ছে। কলকাতার বাবুঘাট থেকে বাসন্তী বাসে বাসন্তী গিয়ে সেখান থেকে অটো, ইঞ্জিন ভ্যান বাসে করে গোসাবা গিয়ে পাখিরালয় হোয়ে সজনেখালি।

Hotels in Sajnekhali:-
click on the link more about Sundarban and hotels Apanjan Hotel, Phone:- 01246201616. Sundarban Village Resort, Phone:- 9062102453. Sundarban Tiger Camp, Phone:- 0983086700.


Piyali Island বা কেল্লা :-
কলকাতা থেকে ৬০ কিলোমিটার দুরে। শিয়ালদহ-লক্ষ্মীকান্ত পুর ট্রেনে চেপে দক্ষিণ বারাসাত পৌঁছে ট্রেকারে পিয়ালি নদী দ্বীপে বা কেল্লা যাওয়া যায়। পিয়ালি নদীতে বাঁধ পড়ে জলাধার তৈরি হয়েছে এখানে। যার ফলে সবুজায়ন হয়েছে অম্বিকা নগরে। নদী ঘেরা সবুজ দ্বীপ, পিয়ালি নদী দ্বীপ। জনহীন এই দ্বীপে সূর্য লুকোচুরি খেলে বাদাবনের সাথে। নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলেও পর্যটন মানচিত্রে ব্রাত্য প্রচারের অভাবে। 
এখানে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে কনটাক্ট:- ৭৮৭২৫২৪৭২৩/৯৫৬৪২২৩৩০৬/৯৪৩৩৪৩৫১৮১,
WBTDC রয়েছে Piyali Island - এ
 কনটাক্ট:- ২২৪৮৮২৭১। সুন্দর যন্ত্রচালিত ভুটভুটি চলে নদীর জলে। এ পথেই জয়নগর-মজিলপুর স্টেশন থেকে ৩০ কিমি দূরে মাতলা নদী আর মনোরম ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের মাঝে পটে আঁকা ছবির মত কৈখালিও ঘুরে দেখা যায়। রামকৃষ্ণ আশ্রম পরিচালিত WBTDC-র KOIKHALI TOURIST LODGE-এ থাকা ও খাওয়ার জন্য যোগাযোগ:- রামকৃষ্ণ আশ্রম, নিমপিঠ, Call:- 03218-226001।
ক্যানিং থেকে ২০ কিলোমিটার দুরে বাস বা ভুটভুটিতে মাতলা নদীর তীরে ইউক্যালিপ্টাস-বাবলা-ঝাউ-নারকেল-তাল গাছে ছাওয়া ডাবু। চাষবাস হচ্ছে এখানে, মৎস প্রধান জীবিকা, থাকার ব্যবস্থা সেচ বাংলোয়।





বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

Gangasagar Mela :- গঙ্গা সাগর মেলা ভ্রমণ

Gangasagar Mela, Sagor.

পুরাণ অনুযায়ী রামচন্দ্ররের পিতৃপুরুষ অযোধ্যা রাজ সগর ১০০ তম অশ্বমেধ যজ্ঞের প্রস্তুতি নেন। ১০০ অশ্বমেধ যজ্ঞের একমাত্র অধিকারী দেবরাজ ইন্দ্র। ঈর্ষাকাতর হয়ে পোড়ে, সগর রাজের যজ্ঞের ঘোড়া হরণ কোরে কপিল মুনির আশ্রমে বেঁধে রেখে আসেন। ঘোড়ার সন্ধানে বেরিয়ে সগর রাজের ষাট হাজার সন্তান ক্লান্ত ও শ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং আশ্রমে ঘোড়া দেখে মুনি কে চোর ভেবে কটূক্তি করে। ধ্যান ভঙ্গ হওয়ায়, রাগাশ্রিত মুনির শাপে ভস্মীভূত হয়ে, নরকে পতিত হয় ষাট হাজার সগর-সন্তান। ভগীরথের গঙ্গা পরিকল্পনায়, গঙ্গার স্বর্গ ছেড়ে মর্তে আগমন ঘটে সগর সন্তানদের নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে। সাতটি ধারায় স্বর্গ থেকে মর্তে নেমে আসেন গঙ্গা। তিনটি ধারা- সুচক্ষু, সীতা ও সিন্ধু পূর্ব বাহিনী এবং হলদিনী, পার্বণী ও নন্দিনী নামের তিনটি ধারা পচ্শিমে প্রবাহিত। মূল ধারা গঙ্গা ভগীরথের পিছনে পিছনে এসে মোহনায় সগর-সন্তানদের মুক্তিদান কোরে, নিজে সাগর-সঙ্গমে মেতে উঠেন।
মিথিলা থেকে আসা মনুর দৌহিত্র সাংখ্যদর্শন রচয়িতা কপিলমুনি। জপমালা সহ ডান হাত উপরে তোলা, বামহাতে কমন্ডুল। ডাইনে মকরবাহিনী চতুর্ভুজা দেবী গঙ্গা, বামে সগর রাজা। সগর রাজার বামে সিংহবাহিনী অষ্টভুজা দেবি বিশালাক্ষী ও ইন্দ্রদেব-শ্যামবর্ণ ঘোড়া। কপিল মুনির সেদিনের সেই আশ্রম আজ আর নেই, সমুদ্রে তলিয়ে গেছে। নতুন মন্দির হয়েছে বেশ কিছুটা দুরে। মন্দিরের সেবাইত অযোধ্যার Akhil Bharatiya Pancha Sree Ramanandiya Nirbahi Akhara থেকে নিয়োজিত।
পৌষ সংক্রান্তিতে সাগর মেলাও সাজতে শুরু করে পিঠে-পুলির আনান্দ মেখে, তিন একর জায়গা জুড়ে। সাময়িক যাত্রী কলোনি, হোগলার ঘর, দোকানপাট, হাসপাতাল, পানীয় জল, পয়ঃপ্রণালীর সুব্যবস্থা থাকে পচ্শিবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে। মন্দির সংলগ্ন সাগর তীরে মকর সংক্রান্তির আগে-পরে সাতদিন ধরে চলে মেলা। যেটি আর পাঁচটি গ্রাম্য মেলার মত চেহারা নেয়। গঙ্গার যেখানে সাগর সঙ্গম ঘটেছে, সেখানে মকর সংক্রান্তির ভোর না হতেই পুণ্যস্নানে নেমে পড়েন লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী। হিন্দু বা সনাতনের পরম মুক্তি তীর্থ, এই গঙ্গাসাগর সঙ্গমে স্নান অশ্বমেধ যজ্ঞের পুণ্য অর্জনের সমান।

How to go Sagarmela from Kolkata:- 

কলকাতার শহীদ মিনার থেকে CSTC-র বাস যাচ্ছে ৭-৪০, ৮-৪৫, ১১-৩০, ৩-২০, ৪-৩০-এ। এছাড়া ভূতল পরিবহন যাচ্ছে ৭-০০, ৮-০০টায় ছেড়ে সরাসরি হারউড পয়েন্ট, ৮-নম্বর লট ঘাটে, সময় লাগে তিন ঘন্টা। SBSTC, SURFACE TRANS-PORT, PRIVATE শহীদ মিনার থেকে সকাল ৬ থেকে সন্ধ্যা ৭-৩০ পর্যন্ত কাকদ্বীপ ও নামখানায়। ধর্মতলা থেকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন বামে রেখে ইস্টার্ন বাইপাস ধরে বারুইপুর হয়ে ডান দিকে ঘুরে আমতলা ধরে ডায়মন্ডহারবার রোড দিয়ে কুলপি-হারউড পয়েন্ট হয়ে। মেলার সময় বিশেষ যাত্রী পারাপারের ব্যবস্থা হয় কলকাতা থেকে ১০৫ কিমি দুরের নামখানা ও ৯১ কিমি দুরের কাকদ্বীপ থেকে। মেলার সময় নামখানা থেকে লঞ্চ যায় চেমাগুড়ি, চেমাগুড়ি থেকে দেড় কিমি ছয়ের ঘেরি। ছয়ের ঘেরি থেকে বাসে বা ভ্যানে নয় কিমি দুরে মেলা প্রাঙ্গণ। চেমাগুড়ি থেকে ছয় কিমি দুরে শ্রীধাম হয়েও মেলায় যাওয়া যায়। মেলার সময় বিশেষ বাসের ব্যবস্থা থাকে কলকাতার আউটরাম ঘাট ও হাওড়া স্টেশন থেকে। 
কাকদ্বীপ হয়েও যাওয়া যায় সাগর মেলায়। কলকাতা থেকে বাসে এসে নামখানা থেকে ১৮ কিমি ও কাকদ্বীপের ৪ কিমি আগে হারউড পয়েন্ট ফেরিঘাট স্টপে নেমে লোকাল বাস বা রিকশায় তিন কিমি দুরের Harwood Point, Lot no:-8 পৌঁছে সকাল ছটা থেকে ন-টার মধ্যে ভেসেলে গঙ্গা পেরিয়ে কচুবেড়িয়া। কচুবেড়িয়া থেকে ভূতল পরিবহন ও প্রাইভেট বাস মিনিবাস, ট্রেকার যাচ্ছে ৩০ কিমি দুরে সাগর মেলায়। এই পথেই যাতায়াত সুবিধার। গাড়ি পারাপারে (গাড়ি/জিপ ১৫০, মিনিবাস ১৫০, বাস ৩০০ টাকা) 
ফেরার পথে ভেসেল পাওয়া যায় ভোর ৫-৩০ থেকে সন্ধ্য ৮ টা পর্যন্ত কচুবেড়িয়া থেকে লট আটের। কলকাতার বাস পাওয়া যায় সকাল ৬-১৫ থেকে সন্ধ্যা ৫ টা পর্যন্ত CSTC এবং ভূতল পরিবহনের, লট নম্বর আট থেকে আধা ঘন্টার ব্যাবধানে।
শিয়ালদহ দক্ষিণ থেকে ট্রেনে লক্ষ্মীকান্ত পুর হয়ে নিশ্চিন্তপুর পৌঁছে বাস বা ট্রেকারে লট ৮-এ গিয়ে ভেসেলে পার হওয়া, হাঁটার ঝামেলা নেই এ-পথে।

Hotels in Gangasagar:-
Gangasagar Hotel, Phone:- 07478484747.
Gangasagar Eco Tourism:- 7797254883.
B.M Villa,  Phone:- 9484799081.
Pakhi Guest House,  Phone:- 08145302135
Bharat Sebasram Sangha, Phone:- 7947147219.
Sagar Cottage, Phone:- 7550910009

লট-৮এ থাকার জন্য নানান হোটেল রয়েছে Ananya, Call:- 257234.
থাকার জন্য মেলার বাসস্ট্যান্ডে রয়েছে কলকাতা বস্ত্র ব্যাবসায়ি সমিতির ধর্মশালা, যোগাযোগ:- সদাসু কাটরা, বড়বাজার। ভারত সেবাশ্রম সংঙ্ঘ, শঙ্করাচার্য আশ্রম, ওঙ্কারনাথ পান্থ নিবাস, PED IB, EE, PWD Roads, Diamond Harbour, সেচ দপ্তরের বাংলো, Publick Helth Engineering-এর IB ঊর্মিমুখর; উল্টো দিকে DM BUNGALOW, যোগাযোগ:- Biplabi Kanai Bhattachaya Sarani, Kolkata- 27, Call- 24791385, বিপরীতে ইয়ুথ হোস্টেল Call- 240217/ 22480626, পিছনে পঞ্চায়েতের যাত্রীনিবাস। ভারতীয় যাত্রীনিবাস সমিতির "যাত্রিকা" ও "লোকনাথ যাত্রী নিবাস" আছে সাগরে। খাবার মেলে প্রায় সব জায়গায়:- সাধারণ মানের নানান হোটেল রয়েছে খাবারের পশরা সাজিয়ে সাগর বাসস্ট্যান্ডে। কাকদ্বীপে রাত কাটিয়ে পরের দিন ভোরে গঙ্গা পার হয়ে গঙ্গাসাগর ঘুরে কলকাতা ফেরাও যেতে পারে সেই দিনে।

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০

Sundarban tour/Sundarban Tourism /সুন্দরবন ভ্রমণ

Sundarban national park:-
১০২টি ছোট-বড় দ্বীপে বিভিন্ন নদীর মোহনায় নিজের থেকেই মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা শ্বাসমূল সহ শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে বেড়ে উঠেছে ম্যানগ্রোভ অরণ্য Sundarban। সেই অরণ্যের সুন্দরী গাছেরা Sundarban নাম করণের স্বার্থকতা এনে দিয়েছে। সবুজে ছাওয়া পরস্পর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ গুলোর জলে কুমির-হাঙর ডাঙায় বাঘ। পথেঘাটে, কেউটে, গোখরো, শঙ্খচূড়। এছাড়াও  কালনাগিনী, লাউডগা, বেতসি, গেছোবোড়া সহ বিভিন্ন সাপেরা গাছে-গাছে। অজস্র পাখীর কাকলিতে ভরে থাকা বনভূমি সুন্দর পরিবেশ সাজিয়ে তোলে সূর্যোদয়ের ও অস্তের মূহুর্তে। প্রতি ২৪ ঘন্টায় ছয়বার রূপবদলায় রূপের রানী। জুন থেকে অক্টোবরে পরিযায়ী পাখীরা এসে বাসা বাঁধে ডিম পাড়ে বাচ্চা ফোটায়। পাখিরা বর্ণময় শোভাযাত্রায় ফেরে সুন্দরী-গরাণ-হেঁতাল-গোলপাতা গাছের বাসায়। ফেরে- বক, কাস্তেচোরা, শামুক খোল, পানকৌড়ি, সাদা কাক, জংহিল, টিউবি, বাটাং, টিয়া, খঞ্জনি, মিনিভাটেরা আপন কুলায়। পাখিদের এই মেলায় হাজারো রঙিন প্রজাপতির পাখনা মেলাও কম যায় না দৃষ্টি সুখে।
পৃথিবীর ৭ প্রজাতির কচ্ছপের মধ্যে পাঁচ প্রকার দেখতে পাওয়া যায় Sundarban -এ। অতলান্তিক মহাসাগর ও ভারত মহাসাগর থেকে অলিভ রিডলে কচ্ছপ নভেম্বর-মার্চে এসে ভালোবাসার ঘর সাজায়, ডিম পেড়ে বাচ্চা ফোটায় Sundarban-এ।
পৃথিবীর ২৬৯ টি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের মধ্যে  অন্যতম Sundarban এবং Sundarban  Biosphere reserve-কে গ্লোবাল বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো। Royal Bengal Tiger-এর বাসস্থান গুলোর মধ্যে 9th Tiger Reserve-এর শিরোপা Sundarban-এর মাথায়।

Kolkata to Sundarban trip:- 

সুন্দরবনের Canning, Jamtala, Sonakhali, Raydighi,  Namkhana সহ Dhamakhali থেকে নিয়মিত বাস চলাচল করছে কলকাতায়। শিয়ালদহ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে Canning Town কে বলা হয় Gat way of Sundarban. শিয়ালদহ সাউথ থেকে ক্যানিং লোকাল চলছে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত। যে কোনো একটি চেপে পৌঁছানো যায় Canning. Canning Bazar পার হয়ে অটো, বাস, ম্যাজিক গাড়িতে করে Godkhali থেকে নদী খেয়া পার হলে Gosaba Island. Gosaba থেকে দুপুর ১ টায় ছেড়ে একমাত্র ভুটভুটি ৪ টেয় সজনেখালি হয়ে Lahiripur সাহেব ঘাট যাচ্ছে। এছাড়া হাঁটিহাঁটি পা-পা করে গোসাবা খেয়া থেকে বাম দিকে বাজারের মধ্যে দিয়ে  রিকশা ভ্যান স্ট্যান্ড থেকে রিকশা ভ্যানে অথবা অটো করে ছয় কিমি দুরে pakhiralay গ্রামে গিয়ে, সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা ছটার মধ্যে খেয়া পেরিয়ে Sajnekhali পৌঁছে যাওয়া যায়।

অথবা কলকাতার বাবুঘাট থেকে সকাল ৬ টার CSTC-র Basanti-র Bus-এ সাড়ে ন-টায় Sonakhali পৌঁছে আবার অটো ইঞ্জিনভ্যান বা ম্যাজিকে Godkhali গিয়ে Gosaba-Pakhiralay হয়ে Sajnekhali পৌঁছান যায়। এক দিনেই ঘুরে আসা যায় এভাবে Kolkata to Sundarban, Sajnekhali.

Tourist places in Sundarban:-

ওয়াচ টাওয়ার হয়েছে- সজনেখালি, ঝিঁঙেখালি, নেতিধোপানি, হলদিবাড়ি, বুড়ির ডাবরি, দোঁবাকি ও চোরাগাজি খালিতে। 

Sajnekhali:- Sajnekhali Lodge ও Beat Office-এর মাঝখানে কামট, কচ্ছপ ও কুমির পুকুর। প্রতিদিন বিকালে খাবার দেওয়া হয় এদের। বিকালের খাবারের আশায় আসে হরিণেরা কুমির পুকুরের পাড়ে। এছাড়া আছে সুন্দরবনের হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতীক লৌকিক দেবি বনবিবির মন্দির Sajnekhali. ম্যানগ্রোভ ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার ও মিউজিয়াম টি Sajnekhal-এর বিশেষ দ্রষ্টব্য।

Sudhanyakhali :- সজনেখালি থেকে মিনিট ৫০ এর জলপথ দুরত্বে Sudhanyakhali 
Watch Tower. জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পথ চলে গেছে জেটি থেকে টাওয়ারে। সুন্দরবনের রাজা Bengal Tiger-এর স্বাভাবিক বাসস্থান ছেষট্টি প্রজাতির ম্যানগ্রোভের গভীর জঙ্গলে ঢাকা, টাওয়ারের নিচে মিষ্টি জলের পুুুকুর খনন করা হয়েছে বন্যেরা আসে পিপাসার্ত হয়ে মিষ্টি  জলের আশায়, আসে রয়েল বেঙ্গলও।

Kalos Dwip:- ঠাকুরুন নদী ধরে শেষ দ্বীপ বঙ্গোপসাগরের কাছে Kalos Dwip অথবা চুলকাটি। বাঘেদের রাজ্য কলস দ্বীপ জনবসতিহীন।পর্যটকদের জন্য "সুন্দরবন জীব পরিমন্ডল" তাবুতে থাকার ব্যবস্থা তৈরি করেছে Kalos Dwip-এ। 

Boni Eco Camp:- কলস থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা ও ক্যানিং থেকে সাড়ে পাঁচ ঘন্টার দুুুরত্বে Boni Camp Watch Tower. Boni Camp- রাতে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
যোগাযোগ- বনাধিকারিক, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ১২ বিপ্লবী কানাই ভট্টাচার্য সরণী, ৫ম তল, কলকাতা-৭০০০২৭, ফোন:- ০৩৩-২৪৭৯৯০৩২। যেতে-যেতে ডাইনে বালিয়াড়ি হাতছানি দেয় চড়ুইভাতির সুন্দর পরিবেশে এখানে। ভিতরে মিষ্টি জলের পুকুরে বাঘেরা পিপাসা মেটায়। প্রতিমুহূর্তে বিপদ, বিপদ গন্ধ ভাসছে এখানে। ভাটায় জল সরে গেলে বিস্তৃতবালিয়াড়ি ছুঁয়ে দেখা যেতেই পারে সতর্কতার সাথে।

Halliday Dwip:- নভেম্বর-মার্চে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার কয়েকদিন আগে পরে অলিভ রিডলে কচ্ছপেরা এসে ডিম পাড়ে হ্যালিডে ও কলস দ্বীপে।

Netidhopani:- হ্যালিডে ছেড়ে উত্তরে চওড়া হয়েছে Matla River. ডাইনে বাঁক নিতে Netidhopani Ghat. মনসামঙ্গল কাব্যে বেহুলার সঙ্গে নেতাই ধোপানির দেখা হয়েছিল এখানে। Netidhopani-তে মিষ্টি জলের পুকুর ও ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। পুকুরের  উল্টো পাড়ে চাঁদ সওদাগরের শিব মন্দিরের ধ্বংসস্তূপ। এখন সেখানে বাঘেদের জলসা বসে। ঘন জঙ্গল-বিপদসংঙ্কুল পরিবেশ, জনবসতিহীন Netidhopani. কিছুটা দুরেই বিদ্যা নদী মাতলার সাথে মিলেমিশে সাগরের দিকে চলেছে অভিসারে। 

Burirdabri:- দত্তর গাঙ, মরিচঝাঁপি উল্টো দিকে বাগনা ফরেস্ট অফিস রেখে ঝিলা নদী পার হয়ে বামে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে Burirdabri Watch Tower. অনুমতি নিয়ে গাইড সহ জঙ্গলে ঢুকে উঁচু টাওয়ার থেকে বাঘের সাথে বাংলাদেশি সুন্দরবনও চলে আসবে দৃশ্যপটে Burirdabri-থেকে। মাঝখানে বাংলাদেশ ও পচ্শিমবঙ্গের সুন্দরবনের সীমান্ত এঁকেছে Raymangal River. ঘন্টা দুইয়ের দুরত্বে বংঙ্গোপসাগর। এছাড়াও বিদ্যা নদীর পাড়ে দোবাঁকিতে বন্য জীবন দেখার আদর্শ পরিবেশ। জালে ঘেরা পথে ওয়াচ টাওয়ারে উঠে চিতলদের সাথে বাঘ দেখার প্রবল সম্ভাবনা। 

Hotels in Sundarban:-
There are some sundarban Hotels Information.

স্বভাবতই সুন্দরবন ঘুরতে গিয়ে থাকা ও খাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। গোসাবাতে সাধারণ হোটেল আছে। লজ সূর্যতপা, ফোন:- ২৩৫৪১৪৩৬, হোটেল সম্রাট, অন্নপূর্ণা, ভাগ্যলক্ষ্ম্যী, জয় মা তারা।এছাড়াও PWD এবং সেচ দপ্তরের বাংলো গোসাবায় আছে। পাখিরালয়ের অদূরে রাঙ্গাবেলিয়া গ্রামে টেগোর সোসাইটি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট-এর গেস্টহাউসে থাকার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া পাখিরালয় গ্রামে জেলা পরিষদের ১৬ শয্যার টুরিষ্ট লজও আছে। যোগাযোগ:- South 24 parganas Zilla Parishad, New Administrative Building, 2nd floor, 12 Biplabi Kanai Bhattacharya Sarani, Kol- 27, Call:- 24791358 Mobail:- 9830143016.
এখানেই আর্টল্যান্ড হোটেল গ্রুপের Krisna Kunja,
Sundar Vila, package Rs:- 4000 থেকে 5000. Satjalia, call:- 22107964/9831221626, Delight, call:- 9830523588.
Roman Holidays, call:- 22281268.
উল্টো পারে দয়াপুরে বিলাসবহুল Sundarban Tiger Camp বিভিন্ন ধরণের Sundarban package tour-এর ব্যবস্থা রেখেছে। যোগাযোগ:- 9, Mitter House, 2nd floor, 71 Ganesh Chandra Avenue-13, Call:- 32935749/9831170453.
Sundarban Tiger View Point, যোগাযোগ:- Commerce House, 2A Ganesh Chandra Avenue-13, Call:- 22132498/22107954.
Sundarban Tiger Safari, প্যাকেজ:- ৩৫০০ থেকে ৫৫০০, Call:- 9874459647/48

সুন্দরবন ভ্রমণে পরিকল্পনা দুটি ভাগে ভাগ করে করা উচিত। এই দুটি ভাগ টাইগার রিজার্ভে ভ্রমণ ও বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভে ভ্রমণ। এ পর্যন্ত টাইগার রিজার্ভে প্রবেশের বৃত্তান্ত বর্ণনা করা হয়েছে। বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভে ভ্রমণ করতে কলকাতা থেকে বাসে বা শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে নামখানা অথবা লক্ষ্মীকান্ত পুর ট্রেনে উঠে পড়া ভালো। বাসে নামখানা পৌঁছে লঞ্চ বা ভুটভুটিতে ঘুরে নেওয়া যায় সুন্দরবনের দিগ্বিদিক।

ভাগবত পুর কুমির প্রকল্প:-  নামখানা থেকে ২০ কিলোমিটার জলপথে গিয়ে লোথিয়ান দ্বীপের ভাগবত পুরে কুমির প্রকল্পে কুমির চাষ দেখে নেওয়া যেতে পারে। এখানে কুমিরের ডিম সহ বিভিন্ন বয়সী নোনা জলেের কুমির দেখা যায়। এছাড়া ধাঞ্চি ফরেস্টের দ্বীপ-দ্বীপে চিংড়ি চাষের ভেড়ি সহ মৎস প্রকল্প গড়ে উঠেছে। দুপুর ১টার ভুটভুটিতে নামখানা থেকে ভগবতপুর গিয়ে, ভগবতপুর থেকে ছেড়ে আসা দ্বিতীয় ভুটভুটি ধরে প্রকল্প দেখে সীতারামপুর পৌঁছে সেচ দপ্তরের বাংলোয় রাতে বিশ্রাম নিতে পারেন। দ্বিতীয় দিনে ভুটভুটিতে নামখানা পৌঁছে বাসে বা ট্রেনে কলকাতায় ফিরে আসা সহজ হবে।

সুন্দরীকাটি ইকো ট্যুরিজম সেন্টার:- ভাগবত পুর থেকে তিন ঘন্টা মত সময় লাগে সুন্দরী কাটি ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। ফটো, ছবি ও লেখায় সুন্দরবন কে চেনার একমাত্র ঠিকানা এখানের মিউজিয়াম। ওয়াচ টাওয়ার আছে এখানেও। 

লোথিয়ান দ্বীপ:- সপ্তমুখি নদীর মোহনায় মাতলার পচ্শিম পাড়ে বঙ্গোপসাগরের ধারে সুন্দরবনের আর এক অভয়ারণ্য লোথিয়ান দ্বীপ এই পথেই। বাঘের অভাব থাকলেও সাপের অভাব নেই নির্জন লোথিয়ান দ্বীপে। ৩৮ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত লোথিয়ানের বাইন, কেওড়া ও গরাণের জঙ্গলে চিত্রা হরিণ, বন্য শূকর রয়েছে। এছাড়া পরিযায়ী পাখিরাও আসে। নামখানা থেকে দেড় ঘন্টার জলযান যাত্রায় যাওয়া যেতে পারে লোথিয়ান। এক ঘরের রেস্টশেড আছে। বুকিং:- DFO, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৩৫ গোপাল নগর রোড, কলকাতা- ২৭।

পিয়ালি নদী বা কেল্লা:- কলকাতা থেকে ৬০ কিলোমিটার দুরে। শিয়ালদহ-লক্ষ্মীকান্ত পুর ট্রেনে চেপে দক্ষিণ বারাসাত পৌঁছে ট্রেকারে পিয়ালি নদী দ্বীপে বা কেল্লা যাওয়া যায়। পিয়ালি নদীতে বাঁধ পড়ে জলাধার তৈরি হয়েছে এখানে। যার ফলে সবুজায়ন হয়েছে অম্বিকা নগরে। নদী ঘেরা সবুজ দ্বীপ, পিয়ালি নদী দ্বীপ। জনহীন এই দ্বীপে সূর্য লুকোচুরি খেলে বাদাবনের সাথে। নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলেও পর্যটন মানচিত্রে ব্রাত্য প্রচারের অভাবে। 
এখানে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে কনটাক্ট:- ৭৮৭২৫২৪৭২৩/৯৫৬৪২২৩৩০৬/৯৪৩৩৪৩৫১৮১,
WBTDC রয়েছে পিয়ালি দ্বীপে, কনটাক্ট:- ২২৪৮৮২৭১।
সুন্দর যন্ত্রচালিত ভুটভুটি চলে নদীর জলে। এ পথেই জয়নগর-মজিলপুর স্টেশন থেকে ৩০ কিমি দূরে মাতলা নদী আর মনোরম ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের মাঝে পটে আঁকা ছবির মত কৈখালিও ঘুরে দেখা যায়। রামকৃষ্ণ আশ্রম পরিচালিত WBTDC-র KOIKHALI TOURIST LODGE-এ থাকা ও খাওয়ার জন্য যোগাযোগ:- রামকৃষ্ণ আশ্রম, নিমপিঠ, Call:- 03218-226001।
ক্যানিং থেকে ২০ কিলোমিটার দুরে বাস বা ভুটভুটিতে মাতলা নদীর তীরে ইউক্যালিপ্টাস-বাবলা-ঝাউ-নারকেল-তাল গাছে ছাওয়া ডাবু। চাষবাস হচ্ছে এখানে, মৎস প্রধান জীবিকা, থাকার ব্যবস্থা সেচ বাংলোয়।

শীত-বসন্ত সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। পাখিরালয় ভ্রমণাথীদের জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে যাওয়াই উচিত।
WBTDC, Tourism Center, 3/2 BBD Bag, Call:- 22488271/22436440. অক্টোবর থেকে মার্চ, উইক এন্ড-এ দুই-তিন দিনের সুন্দরবন ভ্রমণের প্যাকেজের ব্যবস্থা করে। 
সুন্দরবন ভ্রমণে পরিচয় পাওয়া যায় সেই মানুষদের। যাঁরা সাপেদের সঙ্গে ঘরকন্না সাজায়।  কুমির-কামটের সঙ্গে জলে জীবিকা নির্বাহ করে, বাঘেদের সাথে লুকোচুরি খেলে গভীর জঙ্গলে জীবন নিয়ে। সেই সমস্ত বাঙালির সাথে, প্রতিপদে যাঁদের মৃত্যু ভয় তাড়িয়ে বেড়ায়। মৌলে, বাউলে, জেলে-জিমনি যাদের থেকে শেখা যায়:- জীবন মানে যুদ্ধক্ষেত্র যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা, যোগ্যতমের টিকে থাকা লড়াই সারা বেলা।
 

Rameswaram tour guide : রামেশ্বরম ভ্রমণ / Rameswaram, Tamilnadu

Rameshwaram temple :- রাম, রাবণকে নিধন করার পর ব্রাহ্মণ হত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে লঙ্কা থেকে ফেরার পথে শিবের পুজা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। শি...