Translate into your language

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০

Bakkhali Torist spots/ বকখালি ভ্রমণ

Bakkhali এবং Fraserganj কোলকাতা থেকে ১৩০, ডায়মন্ডহারবার থেকে ৮২ এবং নামখানা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে। ঝাউবনের সবুজে ভরা নীল আকাশের চাঁদোয়া মোড়া বঙ্গোপসাগরের পূর্ব তীরে পচ্শিমবঙ্গের দ্বিতীয় সমুদ্র সৈকত বকখালি। সোনলী রোদের কারুকার্যযমণ্ডি রূপোলি বালুকাবেলার জ্যোৎস্নার মায়াবী পরিবেশ ভিষণই উপভোগ্য। সৈকত ঢেকে রাখা ঝাউবনের শেষে ম্যানগ্রোভদের ঘর, সবুজে সবুজে ভরিয়ে তোলে অন্তর। জঙ্গল মোড়া অমরাবতী গ্রামে গঙ্গা ও বনবিবির মন্দির। বাসস্ট্যান্ডের পিছন থেকে সাঁকো পার হয়ে অথবা বীচ ধরে হেঁটে হেঁটে দেখেনিন ইঞ্জিন খাল, সংরিক্ষত বনাঞ্চল ও ম্যানগ্রোভ জঙ্গল। 
সুন্দরীদের সাথে মনের কথা বলতে বলতে চলতে হবে দেখে নিতে কুমির প্রকল্প, কচ্ছপ প্রকল্প, ডিয়ার পার্ক সহ সন্ধ্যার সূর্যাস্ত। সকাল ন-টায় কুমির প্রকল্পের কুমিরদের খেতে দেওয়ার দৃশ্যও দেখে নেওয়া যেতে পারে।
সকাল-সন্ধ্যা আবাল বৃদ্ধবনিতাদের নোনা জলে গলা ও কোমর ডুবিয়ে চিংড়ি মিন ধরা দেখতে দেখতে অথবা লাল কাঁকড়ার সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে বকখালি থেকে ডানদিকের বীচ ধরে দুই কিমি দুরের নারায়ণ তলা বা Fraserganj
বেড়িয়ে নিতে পারেন। ১৫×৫ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত নারায়ণতলার প্রেমে পড়ার পর বাংলার ছোটলাট এনড্রু ফ্রেজার তৈরী করেন স্বাস্থ্যাবাস সৈকত নগরীতে। নাম পরিবর্তন হয়ে ফ্রেজারগঞ্জ হয়ে যায় সেই সময়। নারকেল গাছে ছাওয়া সাহেবের নারকেল কুঞ্জ আজ সমুদ্র গিলে খেয়েছে। বকখালির দিকে যেতে বামে বাংলোর ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়ে। দোকানপাট, পথঘাট স্বাস্থ্যাবাসও সমুদ্রে বিলীন হয়েছে। তবুও ধ্বংসের মধ্যে ফ্রেজারগঞ্জ সমুদ্র সৈকত আজও আকর্ষণীয়। ফ্রেজারগঞ্জ ভাঁঙাহাটে জেলে নৌকার আসা যাওয়ায় মৎসবন্দর তৈরি হয়েছে ১৯৯৫ এর ২২ শে এপ্রিল। ফ্রেজারগঞ্জ দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র৷ যেটি বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত। এই সমুদ্র সৈকত বেশ নির্জন কিন্তু এখানকার সমুদ্র সৈকত স্নানের পক্ষে উপযুক্ত নয়।

যাত্রা পথ: শিয়ালদহ দক্ষিণ থেকে নামখানা ট্রেনে উঠে নামতে হবে নামখানাতে। সময় লাগে প্রায় ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট। নামখানা স্টেশন থেকে টোটো বা ইঞ্জিনভ্যানে করে সরাসরি ফ্রেজারগঞ্জে যাওয়া যায়। সময় লাগে আনুমানিক ১ ঘন্টা ১০ মিনিট।
অথবা, নামখানা স্টেশন থেকে টোটো বা ইঞ্জিনভ্যানে করে প্রথমে বাস স্ট্যান্ড তারপর সেখান থেকে বাস অথবা গাড়ি ভাড়া করে খুব সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় ফ্রেজারগঞ্জ।
এছাড়াও সরাসরি ধর্মতলা থেকে বাস যায়।


জম্বুদ্বীপ:-  ৮×২ কিমি বিস্তৃত গেঁওয়া, গরাণ, কেওড়া, হেঁতালের ম্যানগ্রোভের জঙ্গলে বন্যশূয়োর, চিত্রাহরিণ, শম্বর, চৌশিঙা দেখে নিতে পারেন আগ্রহীরা। ভুটভুটিতে সমুদ্র ভ্রমণের রোমাঞ্চে মেতে বকখালি থেকে দক্ষিণ-পচ্শিমে Jambudwip ঘুুুরে নেওয়াতে। শাঁখামুটি, করাটিয়া, গোখরো, কেউটে, পাইথনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতেই পারেন জম্বুদ্বীপে। অসংখ্য লাল কাঁকড়ার মিছিলে হেঁটে, তরঙ্গ-বিক্ষুব্ধ নির্জন অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ছোট্ট Jambudwip উপভোগ করতে পারেন পরদেশী প্রেমিকের চোখে। ভুটভুটি যাচ্ছে বকখালির "ফ্রেজারগঞ্জ ফিশিং হারবার প্রজেক্ট জেটি" থেকে। সকাল ছটা থেকে চারটেয় ছেড়ে এডওয়ার্ড ক্রিক, মোহনা হয়ে দুই ঘন্টায় জলপথে জম্বুদ্বীপ বেড়িয়ে নিতে পারেন। শেষ ভুটভুটি ছ-টায় জম্বুদ্বীপ ছেড়ে আসে। এছাড়া জম্বুদ্বীপে ভুটভুটি যাচ্ছে লোথিয়ান দ্বীপ, গঙ্গাসাগর মোহনা, ভগবতপুর কুমির প্রকল্প থেকেও।

হেনরি আইল্যান্ড:- পাখপাখালির ঝাঁক, বন্য জীবন, সরীসৃপ আর ম্যানগ্রোভের জঙ্গল সহ নতুন প্রকৃতি পর্যটন কেন্দ্রটির নাম Henry Island.
 নামখানা-বকখালি রাস্তায় ২২ কিলোমিটার দুরের জেটি ঘাট থেকে বাম দিকের রাস্তায় ১.৬ কিমি দুরে পচ্শিবঙ্গ মৎস উন্নয়ন নিগমের পরিকল্পনায় ২০০৫-এর ডিসেম্বরে তৈরি হয়েছে ২০০ হেক্টরের Henry Island. ১১০ টি ভেঁড়িতে কাঁকড়া, চিংড়ি, ট্যাংরা ও ভেটকিমাছ চাষ হচ্ছে। নৌকাও চলছে অফুরন্ত খোলা হাওয়া এবং ঢেউ ভেঙে ভেঙে আধা কিমি নিরিবিলি সমুদ্র সৈকতে। সবটাই উপভোগ করা যায় পায়ে পায়ে, রিকশায় বা মারুতিতে।

বকখালির সঙ্গে ফ্রেজারগঞ্জ, হেনরি আইল্যান্ড একসঙ্গেই পায়ে পায়ে বা রিকশাভ্যান অথবা মারুতিতে ঘুরে নেওয়া অসম্ভব কিছুই নয়।

How to go Bakkhali:- 

কলকাতা তথা ধর্মতলা থেকে বকখালির উদ্দেশে বাস ছাড়বে সকাল ৬টা, সকাল ৭টা, সকাল ৮টা, দুপুর ১টা, দুপুর ১:৪৫, দুপুর ২:৩০, বিকেল ৩:১৫, বিকাল ৪:১৫, বিকেল ৫টা এবং বিকেল ৫:৪৫। 

অন্য দিকে বকখালি থেকে ধর্মতলা ফেরার বাস ছাড়বে ভোর ৫টা, সকাল ৬টা, সকাল ১০টা, দুপুর ১২টা, দুপুর ১টা এবং দুপুর ২টো। পাশাপাশি বকখালি থেকে হাওড়ার উদ্দেশে বাস ছাড়বে ভোর ৫টা, সকাল ৬:৩০, সকাল ৭টা, সকাল ৭:৩০টা, সকাল ৮টা। তবে হাওড়ার বাসগুলিও এসপ্ল্যানেড হয়েই যাবে। সরাসরি বাসের সংখ্যা বাড়ানোয় বকখালিতে পর্যটক সমাগম যে আরও বাড়বে তা বলাই বাহুল্য।

Hotels at Bakkhali:- 

WBTDC-র Bakkhali Tourist, Phone:- 225260/211260/ 9732510150. 
TOURISM CENTRE, Phone:- 22488271. বাসস্ট্যান্ডের ডাইনে প্রাইভেট হোটেল Bay Viwe Tourist lodge, Phone-9836135942.
Sahana tourist lodge, Phone:l- 9830268698.
Narayan lodge, Phone:- 9732758611/7797116499.
Ma Kali, Phone:- 9933431362.
Sea Viwe Hotel, Phone:-9732828266. Babylon, Phone:- 9732781970.
Jay Guru Abasan, Phone:- 9734370212. Hotel Amaravati, Phone:- 9732619340 
সাধারণত ভাড়া ৫০০ থেকে ১০০০, কটেজ A/C চাইলে যোগাযোগ করে আলোচনা করতে হবে। প্রত্যেকটির A/C ও কটেজ রয়েছে।
সাধারণ ভাবে খাওয়া দাওয়ার জন্য রয়েছে বাসস্ট্যান্ডের পাশেই-
West Bengal Employees Wellfare Board-এর Holiday Home, Abasarika, P-3, CIT Scheme, 7M, Kankurgachi, Kolkata-54, Phone:- 23204241.

Forest rest Shed, booking- DFO, SOUTH 24 PARGANAS, SURVEY BUILDING, GOPALNAGAR, ALIPUR, KILKATA-27.

Fraserganj -এ থাকার ব্যবস্থা:-
Sagarbelay, Phone:-24535817/9836308631.
Benifish, Sagar Kanya, Sagari, যোগাযোগ:- Benifish, P- 161/1 VIP Road, Kolkata-54, 4th Floor, Phone:-23554931.
Tourism Center, 3/2 BBD Bag, Phone:- 9831033181.
Diamond, Phone:- 22259639.
Khorli, Phone:- 9831095234.
Hotel Portland, Phone:- 22317636.
Hotel Deepak:- 9732604833/24633203/25740082/22259639.

Henry Island এ থাকার ব্যবস্থা ব্যবস্থা:-
ম্যানগ্রোভ, ফোন- 03210_225511/9734204413.
 সুন্দরী, ফো:- 9734550860, যোগাযোগ:- SFDC, BIKASH BHAWAN, 1st floor, Salt Lake, Phone:- 23376470/23583123.

সজনেখালি / Sajnekhali:-
সুন্দরবন জেলার গোসাবার সজনেখালি বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যটির আয়তন ৩৬২ বর্গকিমি। ১৯৬০ সালে সজনেখালিকে প্রথম অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ১৯৭৬ সালে আবার ঘোষণা করা হয়। এখানে চিত্রা হরিণ, মেছো বিড়াল, লাল বানর, বেঙ্গল টাইগার, দেশি বন শুকর, ভোঁদড়, গুই সাপ, লোনা জলের কুমির, জলপাইরঙা সাগর কাছিম, কেটো কচ্ছপ, এবং নানা প্রজাতির পাখি দেখা যায়। সজনেখালি লজ ও বিট অফিসের মাঝখানে কামট, কচ্ছপ ও কুমির পুকুর রয়েছে প্রতিদিন বিকালে খাবার দেওয়া হয় এদের। বিকালের খাবারের আশায় আসে হরিণেরা কুমির পুকুরের পাড়ে। এছাড়া আছে সুন্দরবনের হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতীক লৌকিক দেবি বনবিবির মন্দির। ম্যানগ্রোভ ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার ও মিউজিয়ামটি সজনেখালির বিশেষ দ্রষ্টব্য। 

sightseeing at Sajnekhali :-
গোসাবার হ্যামিল্টন বাংলো, রবীন্দ্রনাথটেগর বাংলো, রাঙ্গাবেলিয়া টেগোর সোসাইটি, পাখির জঙ্গল এবং পাখিরালয়।

How to Go Sajnekhali :-

শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে ক্যানিং ট্রেন ধরে ক্যানিং গিয়ে সেখান থেকে বাস, অটো বা ম্যাজিক গাড়ি করে গদখালি পৌঁছে গদখালি থেকে খেয়া পার হয়ে গোসাবা বাজার গিয়ে সেখান থেকে অটো, ইঞ্জিন ভ্যান বা টলিভ্যান করে পাখিরালয় গিয়ে পাখিরালয় থেকে খেয়া পার হয়ে সজনেখালি। গোসাবা বাজার থেকে দুপুর একটায় একমাত্র ভুটভুটি পাখিরালয় হয়ে লাহিড়ী পুর যাচ্ছে। কলকাতার বাবুঘাট থেকে বাসন্তী বাসে বাসন্তী গিয়ে সেখান থেকে অটো, ইঞ্জিন ভ্যান বাসে করে গোসাবা গিয়ে পাখিরালয় হোয়ে সজনেখালি।

Hotels in Sajnekhali:-
click on the link more about Sundarban and hotels Apanjan Hotel, Phone:- 01246201616. Sundarban Village Resort, Phone:- 9062102453. Sundarban Tiger Camp, Phone:- 0983086700.


Piyali Island বা কেল্লা :-
কলকাতা থেকে ৬০ কিলোমিটার দুরে। শিয়ালদহ-লক্ষ্মীকান্ত পুর ট্রেনে চেপে দক্ষিণ বারাসাত পৌঁছে ট্রেকারে পিয়ালি নদী দ্বীপে বা কেল্লা যাওয়া যায়। পিয়ালি নদীতে বাঁধ পড়ে জলাধার তৈরি হয়েছে এখানে। যার ফলে সবুজায়ন হয়েছে অম্বিকা নগরে। নদী ঘেরা সবুজ দ্বীপ, পিয়ালি নদী দ্বীপ। জনহীন এই দ্বীপে সূর্য লুকোচুরি খেলে বাদাবনের সাথে। নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলেও পর্যটন মানচিত্রে ব্রাত্য প্রচারের অভাবে। 
এখানে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে কনটাক্ট:- ৭৮৭২৫২৪৭২৩/৯৫৬৪২২৩৩০৬/৯৪৩৩৪৩৫১৮১,
WBTDC রয়েছে Piyali Island - এ
 কনটাক্ট:- ২২৪৮৮২৭১। সুন্দর যন্ত্রচালিত ভুটভুটি চলে নদীর জলে। এ পথেই জয়নগর-মজিলপুর স্টেশন থেকে ৩০ কিমি দূরে মাতলা নদী আর মনোরম ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের মাঝে পটে আঁকা ছবির মত কৈখালিও ঘুরে দেখা যায়। রামকৃষ্ণ আশ্রম পরিচালিত WBTDC-র KOIKHALI TOURIST LODGE-এ থাকা ও খাওয়ার জন্য যোগাযোগ:- রামকৃষ্ণ আশ্রম, নিমপিঠ, Call:- 03218-226001।
ক্যানিং থেকে ২০ কিলোমিটার দুরে বাস বা ভুটভুটিতে মাতলা নদীর তীরে ইউক্যালিপ্টাস-বাবলা-ঝাউ-নারকেল-তাল গাছে ছাওয়া ডাবু। চাষবাস হচ্ছে এখানে, মৎস প্রধান জীবিকা, থাকার ব্যবস্থা সেচ বাংলোয়।





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Rameswaram tour guide : রামেশ্বরম ভ্রমণ / Rameswaram, Tamilnadu

Rameshwaram temple :- রাম, রাবণকে নিধন করার পর ব্রাহ্মণ হত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে লঙ্কা থেকে ফেরার পথে শিবের পুজা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। শি...