Translate into your language

বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২০

Mahabalipuram:- মহাবলীপুরম ভ্রমণ / Mahabalipuram tourist places

 Mahabalipuram :- 
মহাবলী অসুরের নাম থেকে জায়গাটির নাম হয়েছিল Mahabalipuram বলে অনেকরই ধারণা।  মহামল্ল ছিলেন প্রথম পল্লব রাজ নরসিং বর্মণ তাই মহামল্ল থেকে Mahabalipuram হয়েছে বলে দ্বিতীয় আর একটি ধারণা  প্রচলিত রয়েছে। দ্রাবিড় মন্দির শিল্পের সূচনা এই মহাবলীপুরম থেকে। দক্ষিণের মন্দির স্থাপত্যে দেবদেবীর প্রভাব লক্ষ্য করা গেলেও Mahabalipuram Temple এ এর বৈচিত্র ঘটেছে। মহাবলীপুরমে সেই সময়কার সমাজ জীবনই তুলে ধরা হয়েছে এর মন্দির শৈলীতে। প্রথম এবং দ্বিতীয় নরসিংহ বর্মণের সময়ে পাথর কেটে তৈরি হয় ১০টি গুহামন্দির এবং একটি করে শিলা খোদাই করে ৯টি মনোলিথিক রথ।
Mahabalipuram দেখার মানে সনাতন স্থাপত্য শিল্পের  প্রথম দিকের একটা পরিণত স্থাপত্য বিদ্যা কে অনুধাবন করা।
মহাবলীপুরমের গুরুত্ব হল- একই জায়গায় তিন ধরণের মন্দির দেখতে পাওয়া।
cave architecture বা  গুহাশিল্প।
rock cut architecture বা পাথর খোদাই শিল্প।
structural or free standing বা কাঠামো ভিত্তিক শিল্প। গুহাশিল্প প্রথমদিকে বৌদ্ধরাই বেশী তৈরি  করতেন। পঞ্চম শতক থেকে দেখা গেল হিন্দু গুহামন্দির- বিদিশার উদয়গিরি, ষষ্ঠ শতকে বাদামি-রাবণফাড়ি। কাঠামোভিত্তিক ফ্রী স্ট্যান্ডিং হিন্দুমন্দিরও ষষ্ঠ শতক থেকে দেখতে পাওয়া যায়। তার আগের গুলোর আর অবশিষ্ট নেই।
পহ্লবরাজাদের ইতিহাস যেমন কিংবদন্তিতে মোড়া তেমনি বহু দিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর ১৮ শতকের শেষে বালি খুঁড়ে নতুন করে আবিষ্কার হয় বহুদিন লোক চক্ষুর আড়ালে থাকা Mahabalipuram.

How to go Mahabalipuram :- 

বিমানে বা রেলে চেন্নাই বা পণ্ডিচেরি গিয়ে সেখান থেকে গাড়ী নিয়ে এক দিনেই ঘুরে আসা  যায়। চেন্নাই থেকে ওলা বা ট্যাক্সি নিয়েও যাওয়া যায়। ৫৫ কিমি রাস্তা। ৯০০-১২০০ টাকা ভাড়া। প্যারিস কর্ণার থেকে ১৮৮/এ-বি-ডি-কে বাস যাচ্ছে। যাচ্ছে ১৯এ, ১৯সি, ১১৯ রুটের বাস কোভেলঙ হয়ে। মহাবলি থেকে পন্ডিচেরি বাস যাচ্ছে।
এখানে একরাত থেকে ঘুরে নিতে চাইলে মন্দ হয় না। চেন্নাই বা পণ্ডিচেরি থেকে যাবার রাস্তাটার নাম ইস্টকোস্ট রোড- সমুদ্র, ব্যাকওয়াটার আর সবুজের বাহার নিয়ে সুন্দর পথ।

places to visit mahabalipuram:-

Pancha Rathas Temple, Mahabalipuram:- Pancha Rathas এর আর এক নাাম পঞ্চপাণ্ডব। পঞ্চপাণ্ডব নাম হলেও রথ রয়েছে মোট ৯ টি। বৌদ্ধবিহারের মত করে Pancha Rathas তৈরি ৬৩০ থেকে ৭০৯ খ্রিস্টাব্দে। দেখে মনে হবে কাঠামোভিত্তিক মন্দির যদিও এগুলো রক-কাট আর্কিটেকচার বা পাথর খোদাই করে তৈরি। এই মন্দির গুলির কোনো অভ্যন্তর নেই, অর্থাৎ ভেতরটা নিরেট পাথর। দেয়ালের ভাস্কর্য গুলোই এদের মূল সৌন্দর্য। হয়তো বিশুদ্ধ শিল্পকর্ম হিসাবেই এগুলি তৈরী, অথবা আইহোলের মত ওয়ার্কশপ হিসাবে। তবে কোনো কোনো মন্দিরের গায়ে বারান্দা আছে, কিন্তু বারান্দার ভেতরে কোনো ঘর নেই। উপর থেকে নীচ পর্যন্ত ভাস্কর্য খোদিত হয়েছে Pancha Rathas temple গুলোর। প্রথম রথটির নাম দ্রৌপদী বাংলার চালা ঘরের আদলে তৈরি এবং ভিতরের দ্রোপদীর বা ভিন্ন মতে দূর্গা মুর্তি রয়েছে। একই ভিতে বৌদ্ধ বিহারের মত অর্জুন রথ। দ্রোপদীর সামনে বিশালাকার সিংহ মুর্তি এবং এই দুটো রথের পিছনের দেওয়ালে ইন্দ্রের মূর্তি। দক্ষিণে পিরামিডের মত কারুকার্যমণ্ডিত ভীমরথটির উচ্চতা ২৬ ফুট। ৪৮×২৫ ফুট আয়তনের ধর্মরাজ রথটি অর্জুন রথের অনুরূপ তৈরি। প্যানেলে খোদিত হয়েছে শিব-পার্বতী, শিব ও বিষ্ণুর সমম্বয়ে হরিহর মূর্তি। অর্জুন রথের কাছে বৌদ্ধ চৈত্যের শৈলিতে তৈরি নকুল এবং সহদেব দ্বিতীয় সারিতে। দেখব Pancha Rathas Mondir-এর একটির দেয়ালে অর্ধনারীশ্বরকে। তিনি বাম অংশে নারী আর ডান অংশে পুরুষ। তাই দুদিকের বেশভূষাও দুরকম। বাঁ পায়ে অলংকার, ডান পা খালি; বাঁ দিকে উন্নত স্তন, ডান দিকের বুক পুরুষের; বাম কোমর ও হাতে তরঙ্গায়িত ভাব, যেটা ডানদিকে নেই; বাঁ হাতে অনেক চুড়ি, ডান হাতে মোটে দুখানা বালা; দুই কানে দুই ধাঁচের দুল।

Arjunas Penance, Mahabalipuram:- 
অর্জুনের তপস্যার দেয়ালচিত্রটির দুটি নাম- অর্জুনের তপস্যা বা ভগীরথের তপস্যা। ৬৩০ থেকে ৬৭০-এর মধ্যে একটিই পাথর খোদাই করে তিমি মাছের মত করে তৈরি Arjunas Penance। অর্জুনের তপস্যার কারণ হিসেবে দুটো জনশ্রুতি হলো গঙ্গাতীরে শিব কে সন্তুষ্ট করে পাশুপত অস্ত্র লাভের তপস্যায় অর্জুন ও আত্মীয় নিধনের প্রায়শ্চিত্ত করতে এক পায়ে দাঁড়িয়ে শিবের তপস্যায় অর্জুন। অনেকটা দ্ব্যর্থক কবিতার মতো শিল্পীর কল্পনা কে কুর্নিশ জানাতেই হয় Aejunas Penance এর শিল্পকর্মে। এছাড়া খোদিত হয়েছে বাঁদরের দুষ্টুমি, পঞ্চতন্ত্রের গল্প, শিবের জটা থেকে গঙ্গার মর্তে আগমন, কিরাত-অর্জুনের যুদ্ধ, ভগীরথের গঙ্গা আনায়নের নিখুঁত কারুকার্য।

 Cave Temple, Mahabalipuram:- পাহাড় কেটে মহাবলীপুরমে ১০টি সুন্দর কারুকার্যমণ্ডিত Cave Temple তৈরি হয়েেছে। কৃষ্ণ মণ্ডপটি এদের মধ্যে সব থেকে বড় এবং সৌন্দর্যমণ্ডিত। দুগ্ধদোহনরত শ্রী কৃষ্ণ, রাখাল বালক কৃষ্ণ, গোপ-গোপিনী সহ ইন্দ্রের রোষানল থেকে গোপীনিদের রক্ষা করতে গোবর্ধন পাহাড় তুলে ধরার দৃশ্য খোদিত হয়েছে Cave Temple এ, এছাড়া খোদিত হয়েছে কৃষ্ণের জীবন কাহিনীও Guha Mandir এ।
মহিষাসুরমর্দিনী মণ্ডপে আছেন অনন্তসয্যায় বিষ্ণু এবং অবশ্যই মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা। মহিষাসুরমর্দনের দৃশ্যটির মধ্যে একটা অদ্ভুত নাটকীয়তা ও গতিময়তা দেখা যায়। এই ধরনের ন্যারেশন য়ুরোপের রেনেসাঁ-পূর্ববর্তী যুগের শিল্পে বিরল। ছবির কেন্দ্রে ঝুলন্ত উল্টোনো মানুষ এবং আরও অন্যান্য উদ্বেগের আবহ রয়েছে এই চিত্রসুলভ ভাস্কর্যটিতে। এত নাটকীয়তা এর আগে বৌদ্ধ সাঁচী-ভরহুতের তোরণ বা প্রাচীরে দেখা গেছে- তবে এটি আরও উৎকৃষ্ট। কাঞ্চীর মত পিলারকে অবলম্বন দিয়ে বসে থাকা সিংহ পাবেন Guha Mandir এ।

Varaha Cave Temple:-
Varaha Guha Mandir এ আছেন বরাহ অবতারে বিষ্ণু, দরজায় আছে দ্বার  রক্ষক। এক পা নাগ আর অন্যটি গজলক্ষ্মীর উপরে রেখে সাগর থেকে জলমগ্ন পৃথিবীকে তিনি তুলে আনছেন। সাধারণত পৃথিবী বা ভূদেবী তাঁর নাকে বা দাঁতের উপরে থাকেন। আছেন গজলক্ষ্মী, দূর অতীতে তাঁকে প্রধানত বৌদ্ধশিল্পে দেখা যেত যেটা Varaha Cave temple দেখা গেছে। সাঁচী-ভরহুতে আরও সাত-আটশো বছর আগে তিনি ছিলেন এমন ভাবেই পদ্মফুলের উপর, হাতির শুঁড় দ্বারা অভিষিক্তা। দু-দিকের দুটো হাতিকে সাধারণতঃ প্রতিসম ভাবে দেখা যায় কিন্তু এখানে অপ্রতিসম আছে। যেটা আলাদা একটা আঙ্গিক দিয়েছে Varaho Cave এ।

Shore Temple, Mahabalipuram-
 সমুদ্র সৈকতে দ্রাবিড়ীয় শৈলিতে পাহাড় কেটে পিরামিডের মত করে তৈরি Shore Temple টি। Shore Temple ফ্রী-স্ট্যান্ডিং কাঠামোভিত্তিক মন্দির। ভিতরে ঢোকা যায় না, তবে বাইরের সৌন্দর্য অসাধারণ। সারিবদ্ধভাবে বসে থাকা বৃষের মূর্তি গুলো অসাধারণ দেখতে লাগে Shore Temple এ। কুড়ি ফুট জলের গভীরে মন্দিরের ভিতপত্তন করে পাঁচতলা ধর্মরাজ রথের মতো পহ্লব রাজাদের শেষ সৃষ্টি এই এই Shore Mandir। নীল সমুদ্রের ঢেউ বারে বারে আছড়ে পড়ছে Shore Mandir এর দেওয়ালে। জলোচ্ছ্বাস আটকাতে প্রাচীর তৈরি হয়েছে গ্রানাইট পাথরের। লয়ের দেবতা শিব লিঙ্গ স্ত্রী-পুত্র সহ এবং স্থীতির দেবতা সর্পশয্যায় নিদ্রামগ্ন শ্রী বিষ্ণু রয়েছেন Shore Temple-এ। পাহাড় খোদাই করে সারিবদ্ধ ষাঁড় এবং পশুরাজ সিংহ সহ পৌরাণিক দেব-দেবিরা অনুপম ভাস্কর্যে মন্দির শোভা অবর্ণনীয়।  

places to visit in Mahabalipuram :-

১) পারমাণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্র(কল্পাক্কাম সমুদ্র তীরে)
২) গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্কিটেকচার অ্যান্ড স্কালাপচার মিউজিয়াম(বাসস্ট্যান্ডের উল্টো দিকে)
৩) প্রত্নতত্ত্ব মিউজিয়াম(ওয়েস্ট রাজা স্ট্রিট)
৪) টাইগার কেভ( কোভেলঙ রোডে সমুদ্র সৈকত)
৫) ক্রোকোডাইল ব্যাঙ্ক(চেন্নাই-মহাবলীপুরম রোডে)
৬) বোটিং কমপ্লেক্স(মুথুকাডু)
৭) দক্ষিণা চিত্র
৮) ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির(তিরুভানমেয়ূর)
৯) ইলিয়ট বীচ
১০) এন্নোর বীচ
১১) পুণ্ডী রাজার্ভার
১২) পুলিক্যাট।

hotels in Mahabalipuram:-
There are some Mahabalipuram hotels Information if you need mahabalipuram hotels contact them by the Phone numbers of mahabalipuram hotels.

Hotel Sea Breeze, Phone:- 603104-27443065.
Hotel Binodhara, Phone:- 603104-27442694.
Lodge Iswariya, Phone:- 603104-27442084.
Mamalla Heritag, Phone:- 603104-27442260.
Ramkrisna Lodge, Phone:- 603104-27442331.

mahabalipuram resorts:-
Ideal Beach Resort, Phone:- 603104-27442240.
Mamalla Beach Resort, Phone:- 603104-27442643.
Surya Resort, Phone:- 603104-27442292.
Tamilnadu-Mamallapuram Beach Resort, Phone:- 603104-27442361.





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Rameswaram tour guide : রামেশ্বরম ভ্রমণ / Rameswaram, Tamilnadu

Rameshwaram temple :- রাম, রাবণকে নিধন করার পর ব্রাহ্মণ হত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে লঙ্কা থেকে ফেরার পথে শিবের পুজা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। শি...