Tezu -র একদিকে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে হিমালয়, আর একদিকে সুউচ্চ সৌরশিলা পর্বতের পাদদেশে নদ-নদী বিধৌত চিরহরিত্ অরণ্য ঢাকা Dikrong Valley. Sadiya Town-এর পচ্শিম ধরে বয়ে চলেছে ডিহং ও দিবং নদী। মিলেছে লোহিতের সঙ্গে। ব্রহ্মপুত্র নামকরণও এই তিনটি ধারা থেকে Sadiya-তে। আধুনিক শহর গড়ে উঠেছিল Sadiya. ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের প্রবাহ বদলে ধ্বংস হয় Sadiya Town. এই সদিয়া থেকে ৬৪ কিমি দুরে Tezu। সদিয়ার নিকটতম বিমানবন্দর ডিব্রুগড় আর মোহনবাড়ি যথাক্রমে ১৪০ ও ১৪৮ কিলোমিটার দুরে। Tezu-র ২০ কিমি দুরে বিমানবন্দর। অরুণাচলের কাশ্মীর লোহিত District Town Tezu. এখানে বয়ে চলা তাজেব নদী থেকেই Tezu নামকরণ। তেজুর কাঠের বাড়ি ঘরে মিশমিদের বসবাস। সরল সাদামাটা মিশমিরাই নাকি পরশুরামের বংশধর। আর রয়েছে ভীষ্মনগর থেকে আনা বিগ্রহের শিব মন্দির ও বৌদ্ধ বিহার তেজুতে।
********************************************
Dikrong Valley :-
ডিকরাং-এর পূর্বে সৌরশিলা, পচ্শিমে স্বর্ণশ্রী নদী, দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র এবং উত্তরে মানস সরোবর। বয়ে চলেছে Dikrong River. মিশেছে Sadiya-তে গিয়ে Dibang River-এর সঙ্গে। উদিত সূর্যের প্রথম কিরণও এসে পড়ে এই সৌরশিলা পাহাড়ে। কালিকাপুরাণে ডিক্কারাবাসিনী নামে উল্লিখিত হয়েছে dikrong।
ওয়ালং:- সুন্দর মনোমুগ্ধকর শোভায় পার্বত্য স্বাস্থ্যাবাস। ১৯৬৩-তে চীন ভারত যুদ্ধের আগুনে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ওয়ালং।
Tamresari Temple:- Tezu-Sadiya রাস্তার ২২ কিমি দুরে সৌমরাপীঠে আদিদের ব্যঘ্রবাহিনী দেবী থইসাকাটি বা কাঁচাখেকো ভয়ঙ্করী Tamresari-র Mandir. অতীতে চারকোনা মন্দিরটির ছাঁদ ছিলো তামায় মোড়া। যে কারণেই মন্দিরটির নাম হয় Tamresari. নরবলির প্রথাছিল এই Tamresari Mandir-এ। আজ মন্দিরও নেই নেই দেবীও, শুধু ধ্বংসস্তূপে পবিত্রতা খোঁজা Tamresari Temple-এ গিয়ে।
Parshuram Kund:- মুনি শান্তনুর সুন্দরী স্ত্রী অমোঘা ও প্রজাপতি ব্রহ্মার রসাত্মক কাহিনীই এই Parshuram Kund সৃষ্টির মুলে। ক্ষয়িত্র রাজা চিত্ররথের লালসার শিকার হন মহাতেজা মুনি জমদ্যগ্নির স্ত্রী রেণুকা। ক্ষিপ্ত মুনির বিচারে শাস্তির বিধানে মুনিপুত্র ভার্গব মা রেণুকাকে হাতের কুঠার দিয়ে হত্যা করে, এই kund-এর জলে স্নান করে ও জল পান করে মাতৃহত্যার পাপ বিধৌত হন। সেই থেকে দেব-পানি বা ব্রহ্মকুণ্ড হয়েছে Parshuram Kund. ১৮৪০ সালে ডাল্টন সাহেব, চারপাশে পাহাড়ে ঘেরা লোহিতের দক্ষিণ তীরে। এক বাঁকের মুখে ৭০ ফুট লম্বা ও ৩০ ফূট চওড়া Kund-টি আবিষ্কার করেন।
মকর:- মাঘী পূর্ণিমায় ১ মাস ব্যাপী মেলা বসে এখানে। স্নান করে এখানে পুণ্যার্থীরা। কথিত আছে মা-বাবা জীবিত থাকলে ডুব নৈব নৈব চ। বামতীরের প্রাচীন মূল কুণ্ড ভয়াবহ বন্যায় বিলীন হয়েছে লোহিত গর্ভে।
How to go Tezu :-
ডিব্রুগড় থেকে ট্রেনে বা বাসে তিনসুকিয়া, তিনসুকিয়া থেকে ১২০ কিমি দুরে Tezu. কলকাতার যাত্রীদের সহজ পথ, নিউ বঙ্গাইগাঁও/গুয়াহাটি/ডিমাপুর/তিনসুকিয়া/তেজু। তেজু থেকে জিপে পাহাড় পেরিয়ে দিগারু নদী। দিগারু নদী পার হয়ে জঙ্গলের পথে লোহিত পার হয়ে আরোও তিন কিমি চড়াইয়ে উঠে, ধরমশালা রেখে সামান্য উতরাইয়ে নামতেই পরশুরাম কুণ্ড। কুণ্ড ছাড়িয়ে পাহাড় বেয়ে পরশুরাম মন্দির।
Hotels in Tezu :-
কুণ্ডে ধরমশালা আছে। রেস্টহাউস আছে তিমাইয়া ঘাটে। তেজুতে থাকার জন্য যোগাযোগ করুণ, 03804-222776 ও 03804-222456। রাজ্যপর্যটনের টুরিষ্ট লজ, ফোন:- 03804-222222.
Namdapha National Park :-
সব থেকে আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ ২০০ থেকে ৪৫০০ মিটার উঁচু পাহাড় সমষ্টির ঢালে বিস্তৃত Namdapha. Namdapha National park-এ বাঘ, লেপার্ড, স্নো লেপার্ড, ক্লাউডেড লেপার্ড, দেখতে পাওয়া যায়। দেখতে পাওয়া যায় Namdapha-য় হলক, হলং, মেকাই, বট-অশ্বত্থ, ধূপ, হরীতকী, আমলকি, লোহাগাছ ছাড়াও নানান শ্রেনীর বৃক্ষরাজী। নিচের ঢালে দুর্ভেদ্য ঝোপঝাড়, বাঁশ, ফার্ন, বেত ছাড়াও নানান উদ্ভিদ। উচ্চতার তারতম্যে গাছেদের সাথে সাথে পশুদেরো অবস্থানের তারতম্য দেখা যায় Namdapha-য়। নীচের ধাপে সমতলে কাকার হরিণ, শম্বর, বনপুকুর, শুয়োর, বাঘ, চিতাবাঘ, চিতাবিড়াল, মেছোবিড়াল সহ উঁচুতে হিমালয়ান লালপান্ডা, বিন্টুরং ও গোরাল জাতীয় দুষ্প্রাপ্য প্রাণীর বসবাস। আরোও উচ্চতায় তুষার চিতা ও মেঘলা চিতার দেখা পাওয়া যায়। উচ্চতার তারতম্যে গাছেদের প্রকৃতিরও বদল ঘটে Namdapha-তে। হরিণের রকমফের নামডাফার বৈশিষ্ট্য। হাতি, বাইসনের স্বাধীন বিচরণভূমিতে হাজারো পাখির জলসাঘর বসে Namdapha National Park-এ। চাররকমের ধনেশ, মোনাল, কালিজ, পিকক ফেজেন্ট সহ নানান জাতের মিনিভেট, টিয়া, কেশোরাজ, সাদা কাক উল্লেখ যোগ্য। ভারতের উত্তর-পূর্বে মায়ানমার সীমানা ঘেঁষে অরুণাচলের চ্যাংলাং জেলার Namdapha Tiger reserve. আকাশ ছোঁয়া ক্রান্তীয় সবুজ অরণ্য, তুষারে ঢাকা শৈলশিখর, পর্ণমোচী বৃক্ষ অ্যালপাইন জঙ্গলে ঘেরা জাতীয় উদ্যান সহ Tiger Reserve-টি এক কথায় অনবদ্য।
How to go Namdapha National Park :-
কলকাতা থেকে গুয়াহাটি-ডিব্রুগড়/তিনসুকিয়া হয়ে বাসে মিয়াও গিয়ে, নামডাফা যাওয়াটা সহজ।
ইটানগর থেকে সরাসরি বাসে তিনসুকিয়া হয়ে নামডাফা পৌঁছানো যায়। নিকটতম রেল স্টেশন মার্গারিটা ও বিমান বন্দর ডিব্রুগড় যথাক্রমে ৬৪ ও ১৪০ কিলোমিটার দুরে। বাস যাচ্ছে ডিব্রুগড় থেকে তিনসুকিয়া-মার্গারিটা হয়ে মিয়াও। মিয়াও থেকে নোয়া-ডিহং-এর পাড় ধরে গভীর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ২৪ কিমি উত্তরে জাতীয় উদ্যানে প্রবেশপথ ডিবান পৌঁছান জিপে। চলার পথে মার্গারিটা পেরিয়ে ২ কিমি দুরে নামডাফা চেকপোস্টে ILP দেখাতে হয়।
Hotels in Namdapha National Park :-
ডিবানে আছে ব্যাঘ্র প্রকল্পের ঘর। জিপ ও লজের অনুমতির জন্য যোগাযোগ: Field Director, Namdapha Project Tiger, Namdapha NP, PO- Miao, Dist:- Changlang, Arunachal-792122, Call:- 03807-222249.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন